- বি। দে । শ
- জুলাই ১৬, ২০২৬
অশান্ত পশ্চিম এশিয়া । ২৪ ঘণ্টায় আমেরিকার তৃতীয় হামলা ইরানে। বাহরিন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার লক্ষণ নেই । হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলির ওপর তেহরানের হামলার জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা জোরদার করেছে । মার্কিন সামরিক বাহিনী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের ওপর তৃতীয় দফা হামলা চালিয়েছে । এর জবাবে ইরান বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সামরিক সংঘাত বাড়িয়ে দিয়েছে । গত কয়েক দিনের মার্কিন হামলায় ইরানে অন্তত ৩৫ জন নিহত ।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে তারা ইরানের ওপর আরও এক দফা হামলা চালাচ্ছে । ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটা তাদের তৃতীয় হামলা । সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বুধবার জানিয়েছে রাতভর ইরানের কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে এবং এরপর দিনের আলোতেও হামলা অব্যাহত ছিল । ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটা সেনা ব্যারাকে মার্কিন হামলায় অন্তত ৭ জন সৈন্য নিহত হয়েছেন । ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে দেশটিতে মার্কিন হামলায় ৩৫ জনেরও বেশি নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন ।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের জনসংযোগ কেন্দ্রের প্রধান হোসেন কেরমানপোর সমাজমাধ্যমে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ–পশ্চিম ইরানের আহভাজে একটা শিশু ক্যান্সার হাসপাতালের কাছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ রোগীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আপাতত শুধুমাত্র আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা রোগীদের হাসপাতালে রাখা হয়েছে ।
হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে বড় দ্বীপ কেশমে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে । বিস্ফোরণ হয়েছে বন্দর আব্বাস নগরীতে । হরমুজ প্রণালির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী সিরিকেও হামলা হয়েছে । ইরানের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের সিস্তান প্রদেশের বন্দরনগরী চাবাহা, কোনারাক এবং রাস্ক থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে । ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, খোররামাবাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে । রাজধানী তেহরান থেকে এটি প্রায় ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে অবস্থিত । হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে ।
ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘেরি কালিবাফ বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে সম্মান না জানালে ইরান বড় ধরণের সামরিক আঘাত হানাক জন্য প্রস্তুত । তিনি বলেন, ‘এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল । এখন যেহেতু আমরা এর বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে গেছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার আইনি ও কূটনৈতিক সব উপায় শেষ করে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের সেই ব্যবস্থাগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে ।’
হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আইআরজিসি পশ্চিম এশিয়া থেকে সমস্ত জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে । তারা জানিয়েছে এই অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয় পুরোপুরি বন্ধ হবে নয়তো একেবারেই হবে না । তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন যে ইরান শান্তি চুক্তিতে সম্মত হতে ইচ্ছুক । যদিও তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি ।
আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে । গত কয়েক দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা চলছে বলে অভিযোগ । বৃহস্পতিবারও বন্দর আব্বাস সিরিক চাবাহার খোন্দাব খোরমাবাদ সহ একাধিক শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায় । ইরান আরও দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন নিহত হন, যাঁদের অধিকাংশই ছিল স্কুলপড়ুয়া । ইরানের দাবি অনুযায়ী, পরে আমেরিকা ওই হামলার দায় স্বীকার করে এবং সেটিকে ভুলবশত সংঘটিত হামলা বলে ব্যাখ্যা দেয় ।
অন্যদিক, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলিকেই লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানমুখী একটি খালি ট্যাঙ্কারে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়েছে, ফলে সেটি আর ইরানের দিকে এগোতে পারেনি। পাল্টা দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের বক্তব্য, তারা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপতিত করেছে । দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি ও সামরিক পদক্ষেপে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে ।
❤ Support Us








