- বি। দে । শ
- জুলাই ১৩, ২০২৬
২৭ অক্টোবর ইজরায়েলে সংসদীয় নির্বাচন, বড়ো পরীক্ষা নেতানিয়াহুর
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহেই ইজরায়েলে বেজে গেল নির্বাচনের দামামা। আগামী ২৭ অক্টোবর ইজরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হামাসের ২০২৩ সালের হামলা এবং গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর এটাই সে দেশে প্রথম নির্বাচন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন ? সমীক্ষায় উঠে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা অনেকাই হ্রাস পেয়েছে এবং বিরোধী দল শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলছে। যুদ্ধ, নিরাপত্তা, সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ, বিচার বিভাগীয় সংস্কার এবং দুর্নীতি নির্বাচনের প্রধান বিষয় হতে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনের তারিখ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই অনিশ্চয়তা ছিল। মে মাসে ইজরায়েলের সংসদ (নেসেট) ভেঙে দেওয়ায় আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে, সরকারি জোটের প্রধান ওফির কাটজ একটা সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছেন যে, আইন অনুযায়ী ২৭ অক্টোবরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
চলমান সমীক্ষাগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোটের পরাজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, বিরোধী দলেরও সরকার গঠনের কোনও সুস্পষ্ট পথ নেই। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ইজরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী। নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবেন। যে কোনও মূল্যে তিনি এই নির্বাচনে জিততে চান।
নেতানিয়াহুর জোটকে শক্তিশালী রাখতে নির্বাচনের আগে সরকার বেশ কয়েকটা নতুন আইন পাস করার জন্য তড়িঘড়ি করছে। সম্প্রতি নেতানিয়াহু বলেছেন যে, তিনি একটা ব্যাপক জাতীয় সরকার গঠন করতে চান। শুধু ডানপন্থী বা বামপন্থী সরকার নয়, বরং এমন একটা সরকার হবে, যা কেবল আরব দলগুলির সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হবে না। এটা পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি জাতীয় ঐক্য এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে তাঁর প্রধান নির্বাচনী ইস্যু করতে চান।
কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলি নেতানিয়াহুর কাছে যথেষ্ট উদ্বেগজনক। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৯২ শতাংশেরও বেশি ইজরায়েলি মনে করেন যে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরান একটা শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। মার্চের শুরুতে যেখানে ৪০.৫ শতাংশ নেতানিয়াহুকে সমর্থন করেছিল, জুনের মধ্যে এই সংখ্যা কমে ২৯.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে মানুষ এখনও ক্ষুব্ধ। উপরন্তু, ইরানের ওপর মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার পর হওয়া যুদ্ধবিরতি এবং তেহরান–ওয়াশিংটন চুক্তিকে অনেকেই ইজরায়েলের সর্বোত্তম স্বার্থে বলে মনে করেন না।
এই নির্বাচনে সেনাবাহিনীতে অতি–গোঁড়া ইহুদিদের নিয়োগও একটা বড় বিষয় হবে। নেতানিয়াহুর মিত্ররা তাদের সম্প্রদায়কে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দিতে চায়, অন্যদিকে সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণ যুক্তি দেখায় যে, চলমান যুদ্ধের কারণে সেনাবাহিনীতে আরও সৈন্য প্রয়োজন। বিচার বিভাগীয় সংস্কার, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলা এবং গাজার যুদ্ধ পরবর্তী নিষ্পত্তিও নির্বাচনের বিষয় হবে। এদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন নির্ধারণ করবে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফিরবেন নাকি ইজরায়েল একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী পাবে।
❤ Support Us








