Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ১৬, ২০২৬

সুন্দরবনের জলসীমান্তে কড়া নজরদারির, তিন দিনের সফরে বিএসএফ ডিজির একগুচ্ছ নির্দেশ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সুন্দরবনের জলসীমান্তে কড়া নজরদারির, তিন দিনের সফরে বিএসএফ ডিজির একগুচ্ছ নির্দেশ

সুন্দরবনের ভারত-বাংলাদেশ জলসীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ৩ দিনের পরিদর্শনে এলেন বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার। উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন অঞ্চলের সীমান্ত পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে তিনি বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের শীর্ষ আধিকারিকদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন। বিশেষ করে সুন্দরবনের নদীপথে নজরদারি বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দাদের সঙ্গে সমন্বয় আরও মজবুত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে ধারাবাহিক পর্যালোচনা বৈঠক হয়েছে। রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছ থেকেও সীমান্ত সুরক্ষা ও কাঁটাতারের অগ্রগতি সম্পর্কে রিপোর্ট নেওয়া হয়েছে। তারপরেই বিএসএফের সর্বোচ্চ কর্তার  সুন্দরবন সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে সুন্দরবনই সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকা। বিস্তীর্ণ নদীপথ এবং জলাভূমি থাকায় এখানে স্থলসীমান্তের মতো কাঁটাতার বসানো সম্ভব নয়। ফলে এই জলসীমাকে ঘিরেই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সেই কারণেই সফরের সময় ডিজি বিভিন্ন নদীপথ সীমান্ত এলাকায় গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার  সুন্দরবনের রায়মঙ্গল, গোমতী ও কালিন্দী গৌড়েশ্বর, ডাসা সহ  নদীপথ ঘুরে দেখেন।দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজি এবং পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নদীপথে নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জলসীমান্তে অতিরিক্ত বিএসএফ জওয়ান মোতায়েনের পাশাপাশি আধুনিক ও অস্ত্রসজ্জিত দ্রুতগতির টহল বোটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

রাতের অন্ধকারে কার্যকর নজরদারির জন্য উন্নত প্রযুক্তির টহল ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।  এছাড়াও সীমান্তবর্তী নদীপথে শক্তিশালী আলোর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আধুনিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফ্লাডলাইট বসিয়ে রাতের নজরদারি নিশ্ছিদ্র করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।  তিনি বসিরহাটের হেমনগর, হাসনাবাদ ঘোজাডাঙ্গা ও কৈজুড়ি সীমান্ত পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার গ্রাম গুলিতেও ঢুকে ভারত-বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তের অবস্থা গুলি খতিয়ে দেখেন। সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক। সেখানে তিনি স্থানীয় মানুষদের উদ্দেশে বলেন, ‘‌সীমান্ত এলাকায় কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি, অনুপ্রবেশ বা পাচারের ঘটনা নজরে এলে দ্রুত বিএসএফের নজরে আনা জরুরি।‌ সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাকেই সবচেয়ে বড় শক্তি’‌। একইসঙ্গে গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে বিএসএফের ডিজি জানান, ‘‌সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও সমস্যার সমাধানে বাহিনী সবসময় পাশে থাকবে।’‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!