- দে । শ
- জুলাই ১৭, ২০২৬
জাতীয় দলে ট্রায়ালের সুযোগ, হাওড়া স্টেশন থেকে নিখোঁজ রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেন
জাতীয় স্তরে নিজের দক্ষতার ছাপ ফেলার পথে এগোচ্ছিল ১৫ বছরের দময়ন্তী সেন। সম্প্রতি জাতীয় দলের ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল হাওড়ার এই কিশোরী রাইফেল শুটার। পরিবার, প্রশিক্ষক আর সতীর্থদের কাছে গর্বের মুহূর্ত। কিন্তু সে সাফল্যের আবহেই আচমকা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগে ক্রীড়ামহল থেকে পরিবার, সকলেই।
মধ্য হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাসিন্দা দময়ন্তী বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। জানা গিয়েছে, স্থানীয় একটি দোকানে কেনাকাটা করতে যাওয়ার কথা জানিয়েই বেরিয়েছিল সে। কিন্তু তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান না মেলায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন পরিবারের সদস্যরা।
তদন্তে নেমে পুলিশ হাওড়া স্টেশনের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। সেখানেই শেষবারের মতো ধরা পড়ে দময়ন্তীর ছবি। ফুটেজে দেখা যায়, ৪ এবং ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সংলগ্ন এলাকায় একাই হেঁটে বেড়াচ্ছে সে। তারপর কোথায় গিয়েছে বা কারও সঙ্গে দেখা করেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ সূত্র ধরেই তদন্ত এগোচ্ছে। দময়ন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন জানিয়েছেন, জাতীয় দলের ট্রায়ালের সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই মেয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন করছিল। প্রতিদিন ভোরে প্র্যাকটিস থাকায় রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যেত। তাঁর কথায়, ‘ও এই সুযোগ নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত ছিল। ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক পরিকল্পনাও করছিল।’
পরিবারের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার সময় দময়ন্তী নিজের মোবাইল ফোনটিও সঙ্গে নেয়নি। সেটি বাড়িতেই পড়ে ছিল। ফলে তার সঙ্গে যোগাযোগেরও কোনো উপায় নেই। বাড়িতে কোনো অশান্তি, পারিবারিক বিবাদ বা মানসিক চাপের ঘটনাও ঘটেনি বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তাই হঠাৎ করে কিশোরীর এভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। বর্তমানে দময়ন্তী অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকারের তত্ত্বাবধানে রাইফেল শুটিংয়ের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। রাজ্যস্তরে একাধিক প্রতিযোগিতায় নজর কেড়েছিল সে। সে কারণে তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ক্রীড়ামহলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিমধ্যে হাওড়া থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সমাজমাধ্যমেও দময়ন্তীর ছবি ও বিবরণ ছড়িয়ে দিয়ে খোঁজ চেয়েছে পরিবার। পুলিশের পক্ষ থেকে স্টেশন চত্বর, সম্ভাব্য যাতায়াতের পথ ও বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, পাওয়া প্রতিটি তথ্য যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দময়ন্তীর কোনো সন্ধান মেলেনি। জাতীয় দলের ট্রায়ালের স্বপ্ন দেখা এক কিশোরীকে ঘিরে তৈরি হওয়া এ রহস্যের দ্রুত সমাধান চাইছেন পরিবার, সতীর্থ ওক্রীড়াপ্রেমীরা। তদন্তকারীদের আশা, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে শীঘ্রই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসতে পারে।
❤ Support Us





