- দে । শ
- জুলাই ১৭, ২০২৬
অসুস্থ ও প্রবীণ বন্দিদের দ্রুত মুক্তি, ৩ মাসের মধ্যে নীতি তৈরির নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
গুরুতর অসুস্থ, প্রবীণ ও জীবন-সংশয়কারী রোগে আক্রান্ত বন্দিদের আগাম বা নির্ধারিত সময়ের আগে মুক্তির জন্য দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ নীতি তৈরি এবং বিজ্ঞপ্তি জারি করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালত একই সঙ্গে বন্দিদের আগাম মুক্তির আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দিয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে e-Prisons পোর্টালের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করতে বলা হয়েছে।
এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জাতীয় আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (NALSA)-এর দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানির সময়। মামলায় জীবন-সংশয়কারী রোগে অসুস্থ, শারীরিকভাবে দুর্বল, অসুস্থ ও প্রবীণ বন্দিদের—বিশেষ করে ৭০ বছরের বেশি বয়সিদের—মানবিক কারণে মুক্তির জন্য সারা দেশে এক ধরনের অভিন্ন নির্দেশিকা তৈরির আবেদন জানানো হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, রাজ্যগুলির তৈরি করা নীতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে কারা এই আগাম মুক্তির জন্য যোগ্য হবেন এবং আবেদন বিবেচনার পদ্ধতি কী হবে। এই নীতি তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট রাজ্য আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষের (SLSA) সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি নীতিতে জীবন-সংশয়কারী রোগের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দিতে হবে। নীতি তৈরির ক্ষেত্রে রাজ্যগুলি রাষ্ট্রসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তর (UNODC)-এর “Handbook on Prisoners with Special Needs” অনুসরণ করতে পারে বলেও জানিয়েছে আদালত।
বন্দিদের শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে মূল্যায়নের জন্য রাজ্য ও বিভাগীয় স্তরে স্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই বোর্ডগুলি গুরুতর শারীরিক দুর্বলতার বিষয়টি যাচাই করে শংসাপত্র দেবে।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, শুধুমাত্র প্রশাসনিক দেরির কারণে কোনও বন্দিকে জীবনের শেষ সময় জেলে কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই ধরনের আবেদন দ্রুততার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন, যাতে অসুস্থ বা প্রবীণ বন্দিরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘদিন কারাগারে না থাকেন।
❤ Support Us






