- দে । শ
- জুলাই ১৭, ২০২৬
বাঁকুড়ায় স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণের সূচনা । ইতিবাচক উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে রাজ্যে বললেন মুখ্যমন্ত্রী
বাঁকুড়ার মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্যাম স্টিলের ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পোন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলবে। শুক্রবার শালতোড়া বিধানসভা এলাকার মেজিয়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিনিয়োগের ফলে শুধু বাঁকুড়া নয়, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম-সহ পার্শ্ববর্তী জেলার অর্থনীতিও উপকৃত হবে । তাঁর কথায়, “আমি এখানে বিনিয়োগের জন্য এসেছি । প্রচুর মানুষের কাজ হবে । বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম— এই সব এলাকায় শিল্প না এলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিল্পের পাশাপাশি অনুসারী শিল্পেরও প্রসার ঘটবে। এখানকার বহু যুবক-যুবতী কাজের সন্ধানে ভিন্রাজ্যে চলে গিয়েছেন । এই ধরনের শিল্প প্রকল্প গড়ে উঠলে তাঁদের অনেকেই ফিরে এসে নিজের রাজ্যেই কাজের সুযোগ পাবেন। এটি বাংলার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ।”
মেজিয়া শিল্পাঞ্চল অবস্থিত শালতোড়া বিধানসভা এলাকায়, যেখানে অধিকাংশ জমিই বৃষ্টিনির্ভর ও একফসলি। বর্তমানে শ্যাম স্টিলের উৎপাদন ইউনিটে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এবার সংস্থাটি তাদের ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টকে আরও বৃহৎ ও আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বাঁকুড়া জেলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ব্যবসারও প্রসার ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় পূর্বতন তৃণমূল সরকারের শিল্পনীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় শিল্পকে চরম অবহেলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “দশকের পর দশক বাংলা বঞ্চনার শিকার হয়েছে। আগের সরকার শিল্পের জন্য কার্যত কিছুই করেনি। বর্তমান সরকার শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং শিল্পপতিদের অংশীদার হিসেবে দেখছে, প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ক হিসেবে নয়।”
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখলাম, আমিই যেন স্টার্ট-আপ মন্ত্রী। আমার পূর্বসূরিরা শিল্প দফতরে কিছুই রেখে যাননি, কিছুই করে যাননি। এতদিন যে বিজনেস সামিট হয়েছে, সেগুলি ছিল শুধুই ঢক্কানিনাদ। বাস্তবে শিল্পায়নের জন্য কোনও কার্যকর ভিত্তি তৈরি করা হয়নি। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
রাজ্য সরকারের দাবি, মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের এই বৃহৎ বিনিয়োগ শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়, বরং পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে চলেছে।
❤ Support Us





