- দে । শ
- জুলাই ১৭, ২০২৬
সায়নীকে চাকরির আশ্বাস বিধায়কের, কালনায় গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক স্পোর্টস হাব
নিজেদের গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে একটার পর একটা চ্যানেলে নামতে হয়েছে কালনার ‘জলকন্যা’ সায়নী দাসকে। এমনকী চ্যানেলে নামার খরচ তুলতে স্ত্রীর গহনা ও নিজের বসতবাড়িটিকেও বন্ধক দিতে হয়েছিল সায়নীর বাবা রাধেশ্যাম দাসকে। মোট ৬টা আন্তর্জাতিক চ্যানেল জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেও আগের রাজ্য সরকার একটা চাকরি দেয়নি রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত সায়নীকে। কালনার বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার সায়নীকে শুভেচ্ছা জানাতে তাদের বারুইপাড়ার বাড়িতে গেলে সায়নী তাঁর কাছে একটা ‘স্থায়ী আর্থিক নিশ্চয়তা’র আবেদন জানান। আবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিলেন বিধায়ক। সেইসঙ্গে সায়নীদের মত কালনা মহকুমার নামী ক্রীড়াবিদদের সামনে রেখে একটা আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল-সহ ‘স্পোর্টস হাব’ তৈরি করা হবে বলেও জানান বিধায়ক। এ ব্যাপারে বিধায়ককে সবরকম সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেন সায়নী। সেইসঙ্গে জানান, ‘আবহাওয়া ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আমি সপ্তসিন্ধুর শেষ সিন্ধু জাপানের সুগারু জয় করতে নেমে মাঝ সমুদ্র থেকে ফিরে আসতে হয়েছে। আর্থিক নিরাপত্তা ছাড়া ফের সুগারু জয় করতে নামা আমার পক্ষে কঠিন।’ তবে বিধায়কের আশ্বাসে খুশি সায়নী এক বছরের মধ্যে সপ্তসিন্ধু জয়ের স্বপ্ন বুনছেন।
প্রসঙ্গত, ৪ জুলাই রাত ১২টা ৪১ মিনিটে সপ্তসিন্ধু জয়ের লক্ষ্য পূরণে জাপানের সুগারু চ্যানেল জয় করতে নামেন সায়নী। হাড়হিম কনকনে জল, হাঙর-জেলিফিস-সহ ভয়ঙ্কর সব সামুদ্রিক প্রাণীর হামলা আর ভয়ঙ্কর উল্টো স্রোতের সঙ্গে লড়ে ঠিকঠাকই এগোচ্ছিলেন সায়নী। ঘন্টা ছয়েক সাঁতারের পর সমস্যাটা চাগাড় দেয়। বুকের ডান দিকে চিনচিনে ব্যথা শুরু হয়। ক্রমশ তা বাঁ দিক হয়ে গোটা শরীরে ছড়াতে থাকে। সমস্ত দেহ শিথিল হয়ে যায়। উথালপাথাল উজান স্রোতের সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা হারাতে থাকেন সায়নী। তবুও এই যন্ত্রণা নিয়েও আরও ঘন্টাখানেক টেনেছিলেন সায়নী। তারপর একরকম বাধ্য হয়েই লড়াইয়ে ইতি টানতে হয় সায়নীকে। লাইফ সেভিং বোটে উঠে আশাভঙ্গের বেদনা বুকে বেঁধে ফিরে আসেন। এতদিনের অনুশীলন, মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি সবটাই সুগারুর স্রোতে ভেসে যাওয়ায় সায়নীর সন্তাপ, ‘সকলেই আশা করেছিলেন। আমিও স্বপ্ন দেখেছিলাম। এখন বুঝতে পারছি শারীরিক সমস্যাটা উপেক্ষা করা আমার উচিত হয়নি। এখন চিকিৎসা করে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর ফের অনুশীলনে নামব।’
সপ্তসিন্ধু জয়ের রেকর্ড গড়তে সায়নী একে একে ইংলিশ চ্যানেল, রটনেস্ট (এটা সপ্তসিন্ধুর অন্তর্গত নয়), ক্যাটলিনা, মলোকাই, কুক স্ট্রেইট, নর্থ চ্যানেল ও জিব্রালটার পেরিয়েছেন। বাকি রইল শুধু আর একটা ‘সিন্ধু’। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাঁতারু সায়নী জাপানের সুগারু চ্যানেল পেরলেই এশিয়া মহাদেশের প্রথম সাঁতারু হিসেবে সপ্তসিন্ধু পেরনোর স্বীকৃতি পাবেন। সেই মাইলফলক ছোঁয়ার জন্য দিন গোনা শুরু সায়নীর।
❤ Support Us





