- বি। দে । শ
- জুলাই ২২, ২০২৬
সৌদি আরবের সঙ্গে পারমানবিক চুক্তিতে অনুমোদন ডোনাল্ড ট্রাম্পের
পশ্চিম এশিয়ায় দু’মুখো নীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের । একদিকে, ইরানকে পারমানবিক অস্ত্র তৈরি থেকে নিরস্ত্র করতে চাইছে, অন্যদিকে আবার মিত্র দেশ সৌদি আরবকে পারমানবিক অস্ত্র তৈরিতে উৎসাহিত করছে । সৌদি আরবের সঙ্গে একটা গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । এই চুক্তিতে অবশ্য কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থার শর্তের কথা উল্লেখ নেই । অর্থাৎ পারমানবিক অস্ত্র তৈরি করতে সৌদি আরবের কোনও বাধা থাকবে না । ইরানকে শায়েস্তা করতেই সৌদি আরবের সঙ্গে পারমানবিক চুক্তি ওয়াশিংটনের ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর আগে যে সব দেশের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করেছে, সেই চুক্তিগুলির শর্তে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল । এই সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলি নিশ্চিত করত যে, পারমাণবিক প্রযুক্তি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য নয় । তবে সৌদি আরবের সঙ্গে এই পারমানবিক চুক্তিতে এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত নেই । এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব অভ্যন্তরীণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে । যদি মনে করে, তাহলে পারমানবিক অস্ত্রও তৈরি করতে পারবে । চুক্তিতে কঠোর আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে ।
এই চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর এবং এর মূল্য হবে ১০ বিলিয়ন ডলার । এই চুক্তির অধীনে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নে আমেরিকান কোম্পানিগুলি প্রধান ভূমিকা পালন করবে । এর ফলে এই ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের কোম্পানিগুলির কাজ করার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে । ট্রাম্প প্রশাসন আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অনুমোদনের জন্য এই চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করবে । এই চুক্তির মধ্যে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সালমানের স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা পরিচালনা করবে ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, কঠোর আন্তর্জাতিক তদারকি ছাড়া সৌদি আরব যদি নিজেদের দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখে, তাহলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে । সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইতিমধ্যেই বলেছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে সৌদি আরবও নিজস্ব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে ।
এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার অতিরিক্ত প্রোটোকলে যোগ দিতে হবে না, যা বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক কার্যকলাপ কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে । এর পরিবর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটা পৃথক দ্বিপাক্ষিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে । এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই চুক্তিটি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের প্রচেষ্টার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে ।
❤ Support Us








