- বি। দে । শ
- জুলাই ২২, ২০২৬
অপসারণের দাবিতে একসপ্তাহ ধরে টানা বিক্ষোভ, দেশের সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দিলেন জেলেনস্কি
একসপ্তাহ আগেই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে সরিয়ে দিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফেদোরভকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভে সামিল হয় দেশবাসী। বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির সঙ্গে ফেদোরভের বিরোধের বিষয়টা প্রকাশ্যে আসে। এরপরই সেনাপ্রধানের অপসারনের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে গোটা দেশ। টানা ৭দিন ধরে একনাগাড়ে প্রতিবাদ। দেশবাসীর সেই প্রতিবাদের কাছে অবশেষে নতিস্বীকার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের। সামরিক বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের (সেনাপ্রধান) পদ থেকে ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে সরিয়ে দিলেন জেলেনস্কি। তাঁর জায়গায় মিখাইলো দ্রাপাতিকে নিয়োগ করা হয়েছে।
কিছুদিন আগেই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল করেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। নতুন মন্ত্রীসভায় ৩৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিবিদ ফেদোরভ রাখা হয়নি। যদিও তাঁর কাজে দারুণ খুশি ছিল ইউক্রেনবাসী। রাশিয়ার থেকে সংখ্যাধিক্যে পিছিয়ে থাকা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে আরও কার্যকর করেছিলেন ফেদোরভ। সেনাপ্রধান সিরস্কির সঙ্গে মতবিরোধের জন্যই তাঁকে সরিয়ে দেন জেলেনস্কি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে দেশবাসী। তারা সিরস্কির পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে এবং একসপ্তাহ ধরে টানা বিক্ষোভ দেখায়। শেষ পর্যন্ত টানা বিক্ষোভের মুখে সেনাপ্রধানকেও সরিয়ে দিলেন জেলেনস্কি।
সম্প্রতি ইউক্রেনে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। বিভিন্ন শহরে একের পর ক্ষেপনাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়া হল। রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধে আরও গতি আনতে দ্রাপাতিকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধ তীব্র করার জন্য ওলেক্সান্দর সিরস্কি এবং প্রতিটা সেনার কাছে কৃতজ্ঞ। মিখাইলো দ্রাপাতিকেও ধন্যবাদ। আশা করছি দেশের নিরাপত্তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
অপসারনের আগে প্রকাশ্যে সিরস্কির সমালোচনা করেছিলেন ফেদোরভ। তিনি দাবি করেছিলেন, দেশের সেনাপ্রধান তাঁর সংস্কারে বাধা দিচ্ছেন। ফেদোরভ ইউক্রেনের ড্রোনপ্রযুক্তির উন্নয়ন এবং যুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ ছিল, সিরস্কি তাঁর কাজে বাধা দিচ্ছেন। রাশিয়ার আগ্রাসন আটকাতে হলে সিরস্কিকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে। তাঁর এই বিবৃতির পরই ফেদোরভকে সরিয়ে দেন জেলেনস্কি। এরপরই দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়। এই জেনারেলকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
❤ Support Us








