Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ২২, ২০২৬

বিদ্রোহী তৃণমূল মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ স্পিকারের ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিদ্রোহী তৃণমূল মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ স্পিকারের ?

লোকসভার বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলির জন্য সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করা হল তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বুধবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই সিদ্ধান্ত নেন। ফলে চলতি বাদল অধিবেশনের শেষ পর্যন্ত আর সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন না শ্রীরামপুরের এই সাংসদ।
জানা গিয়েছে, তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের কয়েক জন মহিলা সাংসদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বিদ্রোহী শিবিরের মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কল্যাণের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য এবং মহিলা সাংসদদের অসম্মান করার অভিযোগ তুলেছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদরা। অভিযোগ ঘিরে বুধবার অধিবেশনের শুরুতেই তৃণমূলের দুই শিবিরের সাংসদদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
সূত্রের খবর, লোকসভায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের ‘দলবদলু’ বলে কটাক্ষ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এর প্রতিবাদ জানান শতাব্দী রায়, মিতালী বাগ-সহ অন্য সাংসদরা। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কল্যাণ এ সময় বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবকেও কটাক্ষ করেন বলে জানা যায়।
এর পরেই বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। অভিযোগ খতিয়ে দেখে স্পিকার ওম বিড়লা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদল অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেন।
সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী সাংসদদের উদ্দেশে কটাক্ষ করেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “প্রয়োজনে বাইরে থাকব, কিন্তু বেইমানদের সামনে মাথা নত করব না।”
এর আগে ধর্মতলায় তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের সভাতেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন কল্যাণ। দীর্ঘ বক্তৃতা নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করায় দলের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ক্ষোভ দেখিয়ে সভামঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর বুধবার সকাল থেকেও দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক মন্তব্য করতে দেখা যায় তাঁকে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলের অন্যতম প্রধান বক্তা এবং মুখ্যসচেতক হিসেবে সংসদে তিনি বরাবরই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এসেছেন। সরকারবিরোধী বিভিন্ন ইস্যুতে দলের মুখ হয়ে সরব হতে দেখা যায় তাঁকে। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতে সংসদে তৃণমূলের কৌশলে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে কল্যাণের সাসপেনশনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি এই সিদ্ধান্তকে “চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক” বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “বেইমানদের প্রটেক্টররা কল্যাণ দাদের সাসপেন্ড করছেন। কল্যাণ দা যা করেছেন এবং বলেছেন, ঠিক করেছেন।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!