Advertisement
  • দে । শ
  • আগস্ট ১৮, ২০২৬

বকেয়া ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কী জানাল রাজ্য ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বকেয়া ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কী জানাল রাজ্য ?

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) নিয়ে ফের সরগরম সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, বকেয়া ডিএ-র ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৭,৭০০ কোটি টাকারও বেশি ডিএ দেওয়া হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে। তবে সরকারি কর্মীদের একাংশের দাবি, এখনও বহু কর্মী তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া ডিএ পাননি। এই বিষয়টি নিয়ে বুধবার ফের শুনানি হবে।

মঙ্গলবার বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চে বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলাটি ওঠে। রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতকে জানান, বকেয়া ডিএ-র ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যে সরকারি কর্মীদের দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশও মেটানোর প্রক্রিয়া চলছে। এখনও পর্যন্ত ৭,৭০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বকেয়া ডিএ বাবদ দেওয়া হয়েছে বলে রাজ্যের তরফে জানানো হয়।

অন্য দিকে, সরকারি কর্মীদের একাংশের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী করুণা নন্দী এবং ফিরদৌস শামিম। তাঁদের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের মূল রায়ে সমস্ত বঞ্চিত সরকারি কর্মীকে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু বাস্তবে এখনও অনেক কর্মী সেই টাকা পাননি। ফলে আদালতের নির্দেশ সম্পূর্ণ ভাবে কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, যাঁরা এখনও বকেয়া ডিএ পাননি বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের প্রতিনিধিদের নাম আদালতে জমা দিতে হবে। মামলাকারী সরকারি কর্মীদের পক্ষকে এই সংক্রান্ত তথ্য আদালতের কাছে পেশ করতে বলা হয়েছে। বুধবার মামলাটি ফের শুনবে শীর্ষ আদালত। এরপর বকেয়া ডিএ না-পাওয়া কর্মীদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ডিএ মামলার মূল রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য বকেয়া ডিএ রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দিতে হবে। আদালত প্রথমে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বাকি ৭৫ শতাংশ কী ভাবে এবং কত ধাপে মেটানো যায়, যাতে রাজ্য সরকারের উপর একসঙ্গে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, তা খতিয়ে দেখতে একটি মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়েছিল।

সম্প্রতি সেই মনিটরিং কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ডিএ-র নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছে, সরকারি কর্মীদের কতটা বকেয়া মেটানো হয়েছে, এখনও কত টাকা বাকি রয়েছে এবং বাকি অর্থ কী ভাবে পরিশোধ করা হবে—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করার দায়িত্ব ছিল ওই কমিটির উপর। রিপোর্টটি মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিল আদালত।

এরই মধ্যে বকেয়া ডিএ পরিশোধের জন্য সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে সুপ্রিম কোর্টের গঠিত মনিটরিং কমিটি। যাঁদের ই-সার্ভিস বুক ইতিমধ্যেই স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে, তাঁদের ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের তরফে কমিটিকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ৬৪,৭৫৯ জন সরকারি কর্মীর ই-সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে। ওই কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মনিটরিং কমিটি।

ফলে এক দিকে রাজ্যের দাবি, ইতিমধ্যেই বকেয়া ডিএ-র ৬৫ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। অন্য দিকে, সরকারি কর্মীদের একাংশের দাবি, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এখনও সমস্ত কর্মী তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া পাননি। বুধবারের শুনানিতে এই বিতর্কের পরবর্তী দিক কী দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই নজর সরকারি কর্মী মহলের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!