- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৮, ২০২৬
কলকাতায় ‘ককরোচ’দের সভা বাতিল! বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আশুতোষ রাঙ্কার
কলকাতায় নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল হয়ে গেল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র। উত্তর কলকাতার ভারত সভা হলে মঙ্গলবার দলের সমর্থকদের নিয়ে ‘কলকাতা মিট-আপ’ করার কথা ছিল। কিন্তু বিজেপি নেতাদের ‘হুমকি-ধমকি’ এবং রাজ্য প্রশাসনের ‘প্রবল চাপের’ কারণে শেষ পর্যন্ত হল কর্তৃপক্ষ বুকিং বাতিল করে দেয় বলে অভিযোগ ‘সিজেপি’ নেতৃত্বের। শুধু ভারত সভা হল নয়, আরও ৬টি হলের তরফেও অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে দাবি দলের সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার। যদিও তাঁর এ অভিযোগের কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। বিজেপির তরফেও অভিযোগের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
সমাজমাধ্যমমে একটি পোস্ট করে গোটা ঘটনার কথা সামনে আনেন আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁর দাবি, উত্তর কলকাতার ভারত সভা হলে তাঁদের সভার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হল মালিকপক্ষ বুকিং প্রত্যাহার করে নেয়। কেন এমন সিদ্ধান্ত, তার ব্যাখ্যায় ‘বিজেপি নেতাদের হুমকি’-র কথা জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আশুতোষ। এরপর বিকল্প জায়গার খোঁজে আরও কয়েকটি হলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সেখানেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের। রাঙ্কার বক্তব্য, আরও ৬টি হল কর্তৃপক্ষ তাঁদের অনুষ্ঠান আয়োজনের আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছে এবং ‘রাজ্যের তরফে ব্যাপক চাপ’ রয়েছে বলে জানিয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেছেন ‘সিজেপি’-র সহ-আহ্বায়ক। তাঁর বক্তব্য, কলকাতায় একটি সভা করার অনুমতি না দেওয়ার ঘটনাই নাকি প্রমাণ করে দিচ্ছে যে তাঁদের কার্যকলাপ নিয়ে বিজেপি কতটা ভয় পেয়েছে। সমাজমাধ্যমে রাঙ্কা লেখেন, ‘‘এতে আরও এক বার প্রমাণ হল যে বিজেপি ককরোচদের ভয় পায়।’’ একই সঙ্গে দলের কর্মী-সমর্থকদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, কলকাতায় সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে কথা বলার সুযোগ এবার না হলেও খুব শীঘ্রই আরও বড় কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।
রাঙ্কার পোস্টে ছিল আত্মবিশ্বাসী বার্তাও। তিনি লেখেন, বাংলার ‘ককরোচদের’ সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হাতছাড়া হলেও সে ঘাটতি আরও বড়ো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। তাঁর দাবি, সাময়িক ভাবে কোনো কর্মসূচি আটকে দেওয়া গেলেও সংগঠনের বিস্তার থামানো যাবে না। মঙ্গলবার কলকাতায় সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক বাতিল হওয়ার পাশাপাশি ‘সিজেপি’-র আরও একটি কর্মসূচি ভেস্তে যায়। কলকাতা প্রেস ক্লাবে আশুতোষ রাঙ্কার একটি সাংবাদিক বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার রাত থেকেই প্রেস ক্লাবের বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়ায় সেই সাংবাদিক বৈঠকও শেষ পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। ফলে মঙ্গলবার কলকাতায় ‘ককরোচ’দের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিই বাতিল হয়ে যায়।
তবে, কর্মসূচি বাতিল হলেও পিছিয়ে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি রাঙ্কা। বরং দলের ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন তিনি। ‘সিজেপি’-র তরফে দাবি করা হয়েছে, সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত দুরবস্থা আর শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতে সংগঠনের সদস্যেরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল পরিদর্শন চালিয়ে যাবেন। স্কুলগুলির পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে, সে সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা এবং রাজ্য সরকারের উপর চাপ তৈরি করাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে আশুতোষের কড়া বার্তা, ‘আমাদের যত বেশি আটকানোর চেষ্টা করা হবে, আমরা ততই বড়ো হয়ে উঠব।’
‘সিজেপি’-র কলকাতা কর্মসূচি বাতিলের ঘটনাটি এমন একটি সময়ে সামনে এল, যখন বাঁকুড়ার ইন্দাসে দলের এক স্বেচ্ছাসেবকের বাবার মৃত্যুকে ঘিরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সংগঠনটি। সোমবারই ওই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনকে ১০ দিনের ‘ডেডলাইন’ দিয়েছিলেন রাঙ্কা। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হামলায় জড়িত সমস্ত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে। তা না হলে প্রথমে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের দফতর ঘেরাও এবং পরে আরও বড়ো আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘সিজেপি’। সংগঠনের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসন আক্রান্ত পরিবারটিকে যথাযথ সাহায্য করেনি। সে কারণে থানায় কর্মরত পুলিশকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও আদালতের নজরদারিতে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মাফিকের পরিবারের নিরাপত্তার দাবিও তুলেছে সংগঠনটি।
গত বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আবদুল হাফিজের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। হাফিজ ‘সিজেপি’-র ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। ওই কর্মসূচির অংশ হিসাবে তিনি গ্রামের একটি সরকারি স্কুলের বেহাল পরিস্থিতির ছবি ও ভিডিয়ো প্রকাশ করেছিলেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। অভিযোগ, এর পরেই এক দল হামলাকারী হাফিজের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালায়। লাঠি, লোহার রড, শাবল দিয়ে মারধর করা হয়। প্রথমে হাফিজের উপর হামলা চালানো হয়। কোনো রকমে বাড়ি থেকে পালিয়ে বাঁচেন তিনি। এর পর তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের উপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত মাফিককে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শ
নিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ‘সিজেপি’-র তরফে হামলাকারীদের ‘বিজেপির গুন্ডা’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সে অভিযোগের কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। বাবার মৃত্যুর পর রাজ্য সরকারের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন হাফিজ। তাঁর দাবি, বাবার স্মৃতিতে একটি বিশ্বমানের স্কুল তৈরি করতে হবে। আর্থিক সাহায্যের বদলে বাবার নামে স্কুল নির্মাণের দাবিকেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বাবার নামে একটি স্কুলই হবে তাঁর পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড়ো স্মারক এবং গ্রামের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উপকার।
অন্যদিকে, সভা বাতিলকে কেন্দ্র করে ‘সিজেপি’-র দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম নয়, অন্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যেও তাদের কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত জায়গা শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট নয়াদিল্লির একটি ব্যাঙ্কোয়েট হলে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের একটি বৈঠক মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। পরে একটি পার্কে সে বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রেও হল কর্তৃপক্ষ ‘উপরমহলের চাপ’-এর কথা জানিয়েছিলেন বলে সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি। পশ্চিমবঙ্গে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। গ্রামের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার পরিস্থিতি নিয়ে ‘সিজেপি’-র কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করছেন। সেই কর্মসূচিকে ঘিরেই বাঁকুড়ার ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি সংগঠনের।
❤ Support Us






