- দে । শ
- আগস্ট ২৯, ২০২৬
প্রেসিডেন্সি জেলে আফতাব আনসারির সেলে মোবাইল, রাউটার-সহ উদ্ধার নগদ টাকা ! কার সঙ্গে যোগাযোগ, খতিয়ে দেখছে পুলিশ
ফের প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের ভিতর থেকে মোবাইল ফোন ও একাধিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে । এবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কুখ্যাত অপরাধী আফতাব আহমেদ আনসারির সেল থেকে উদ্ধার হয়েছে তিনটি মোবাইল ফোন । পাশাপাশি তার সেল থেকে মিলেছে দু’টি রাউটার, ওয়াই-ফাই সংক্রান্ত সরঞ্জাম, দু’টি কার্ড রিডার, একটি পেন ড্রাইভ এবং ইয়ারফোন । সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে, তার কাছে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে নগদ ৩১ হাজার টাকা ।
এই ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের তরফে হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয়েছে তদন্ত ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলের ভিতরে বসেই আফতাব মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে — এমন তথ্য আগে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পৌঁছেছিল । শুধু ফোনে কথা বলাই নয়, জেলের ভিতর থেকেই সে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে বলেও খবর ছিল । এরপরই প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের ১৪ নম্বর সেলে তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় কারা কর্তৃপক্ষ ।
সম্প্রতি ওই সেলে তল্লাশি চালিয়ে আফতাবের জামাকাপড় ও বিছানাপত্র ঘেঁটে তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় । একইসঙ্গে উদ্ধার হয় একাধিক নেটওয়ার্ক ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস । তদন্তকারীদের নজরে এসেছে, এতগুলি মোবাইল, রাউটার, ওয়াই-ফাই সরঞ্জাম এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন সামগ্রী কীভাবে একজন বন্দির কাছে পৌঁছল ।
আফতাব জেলের ভিতর থেকে ঠিক কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । পুলিশ খতিয়ে দেখছে, সে হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রাম কলের মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করত কি না । এমনকী, জেল থেকেই পাকিস্তানে কোনও ফোন বা অনলাইন কল করা হয়েছিল কি না, সেই তথ্যও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা ।
শুধু মোবাইল বা ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম নয়, আফতাবের সেল থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩১ হাজার টাকা । জেলের মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত জায়গায় এত নগদ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম কীভাবে তার কাছে পৌঁছল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে ।
এর পিছনে জেলের কোনও কর্মীর ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ । অর্থাৎ বাইরে থেকে কীভাবে এই সরঞ্জাম ও টাকা জেলের ভিতরে ঢুকল এবং আফতাব কীভাবে সেগুলি নিজের সেলে রাখতে সক্ষম হল, তদন্তের আওতায় রয়েছে সেই সমস্ত বিষয় ।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৫ মে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙার উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। জেলবন্দিদের হাতে মোবাইল পৌঁছনোর পিছনে পূর্বতন শাসক শিবিরের সহযোগিতা রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন । এরপর তদন্ত শুরু হলে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় । ঘটনায় প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল । পাশাপাশি সিআইডি তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয় ।
তার পর থেকেই প্রেসিডেন্সি-সহ বিভিন্ন সংশোধনাগারে বন্দিদের কাছ থেকে বারবার মোবাইল ফোন ও অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে । এবার কুখ্যাত অপরাধী আফতাব আনসারির সেল থেকে একসঙ্গে তিনটি মোবাইল, রাউটার, ওয়াই-ফাই সরঞ্জাম, কার্ড রিডার, পেন ড্রাইভ, ইয়ারফোন এবং ৩১ হাজার টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে । আফতাবের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক কতদূর বিস্তৃত এবং জেলের ভিতরে এই নিষিদ্ধ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পিছনে কারা রয়েছে, এখন সেটিই তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ।
❤ Support Us





