- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৯, ২০২৬
সংকটে বাংলার অর্থনীতি ? ‘এনসিএইআর’-এর রিপোর্টে উদ্বেগ
পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির আকার বেশ বৃহৎ। দেশের বৃহত্তম রাজ্যগুলির তালিকাতেও বরাবরই উপরের দিকে তার স্থান। কিন্তু সে অর্থনীতির ভিত যে যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে, তা আরও একবার সামনে এল। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া দায়ের পরিমাণ “মোট রাজ্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন’ বা ‘জিএসডিপি’-র প্রায় ৪০ শতাংশ। আর গত এক দশকে রাজ্যের রাজস্ব প্রাপ্তির গড়ে ২১ শতাংশই চলে গিয়েছে ঋণের সুদ মেটাতে। নীতি আয়োগের জন্য তৈরি ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব অ্যাপ্লায়েড ইকনমিক রিসার্চ’ (এনসিএইআর)-এর আগস্ট রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
‘দ্য ফিসকাল ল্যান্ডস্কেপ অব ওয়েস্ট বেঙ্গল: পারফরম্যান্স, চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড আ রোডম্যাপ ফর কনসলিডেশন’ শীর্ষক ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজ্যের আর্থিক স্থায়িত্ব ফেরাতে হলে ঋণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থামানো এবং বকেয়া দায়ের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেশের সব রাজ্যের গড় এবং প্রতিবেশী ওড়িশার সঙ্গে তুলনা টেনেছে ‘এনসিএইআর’। সে তুলনাতেই উদ্বেগের জায়গাগুলি স্পষ্ট। সব রাজ্যের গড় বকেয়া দায় যেখানে ‘জিএসডিপি’-র ২৮.৪ শতাংশ, পশ্চিমবঙ্গে তা প্রায় ৪০ শতাংশ। একই ভাবে, রাজ্যের রাজস্ব প্রাপ্তির গড়ে ২১ শতাংশ সুদ মেটাতেই চলে গিয়েছে। সর্বভারতীয় রাজ্যগুলির গড়ে সে হার ১২.৮ শতাংশ। ওড়িশায় আরও কম, মাত্র ৪.৮ শতাংশ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনতে পশ্চিমবঙ্গকে আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার করতে হবে, বকেয়া দায় বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, ঋণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থামাতে হবে।’
তবে শুধু ঋণ নয়, রাজ্যের ঘাটতির ছবিও স্বস্তিদায়ক নয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক ঘাটতি ছিল ‘জিএসডিপি’-র ৪ শতাংশ। রাজস্ব ঘাটতি ২.৪ শতাংশ। অর্থাৎ, সরকারের নিয়মিত আয় দিয়ে নিয়মিত খরচ মেটানোই সম্ভব হচ্ছে না, উপরন্তু সামগ্রিক আয়-ব্যয়ের হিসাবেও ঘাটতি থাকছে। ‘এনসিএইআর’-এর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক ঘাটতি এবং রাজস্ব ঘাটতি— দুটিই দীর্ঘ সময় ধরে সব রাজ্যের গড়ের তুলনায় বেশি। তার উপর রাজস্ব প্রাপ্তির বিপুল অংশ সুদ মেটাতে চলে যাওয়ায় উন্নয়নমূলক খাতে খরচ করার সুযোগ আরও সঙ্কুচিত হচ্ছে। সোজা কথায়, পুরনো ঋণের বোঝা সামলাতেই রাজ্যের আয়ের বড়ো অংশ খরচ হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন প্রকল্প, ভাতা, নতুন রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল কিংবা অন্য পরিকাঠামো তৈরিতে কতটা টাকা দেওয়া যাবে, সে প্রশ্ন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক সমস্যার অন্যতম কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহের দুর্বলতা। রাজ্যের নিজস্ব কর রাজস্ব এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব— দুটিই দেশের সব রাজ্যের গড়ের তুলনায় কম। ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ তার মোট ব্যয়ের মাত্র প্রায় ৩৫ শতাংশ নিজস্ব রাজস্ব থেকে মেটাতে পেরেছে। অর্থাৎ, রাজ্যের নিজের আয় দিয়ে তার মোট ব্যয়ের অনেকাংশ মেটানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ওই দশকে পশ্চিমবঙ্গের মোট রাজস্ব প্রাপ্তির গড়ে ৫৬.২ শতাংশ এসেছে কেন্দ্রীয় হস্তান্তর থেকে। সব রাজ্যের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ শতাংশ। ওড়িশার ক্ষেত্রে ৪৮.৫ শতাংশ। অর্থাৎ, দেশের গড় রাজ্য তো বটেই, প্রতিবেশী ওড়িশার তুলনাতেও কেন্দ্রের অর্থের উপর পশ্চিমবঙ্গের নির্ভরতা বেশি। এখানেই প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের নিজস্ব করভিত্তি নিয়ে। ‘জিএসডিপি’র তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব কর রাজস্বের অনুপাত দীর্ঘদিন ধরে খুব একটা বাড়েনি। বরং তা সব রাজ্যের গড়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
রাজ্যের রাজস্ব সংগ্রহের দুর্বলতার পিছনে অর্থনীতির কাঠামোকেও দায়ী করেছে ‘এনসিএইআর’। রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে উৎপাদন ও শিল্পের অংশ কমেছে। তার প্রভাব পড়েছে কর সংগ্রহেও। পশ্চিমবঙ্গের ‘জিএসভিএ’-র মাত্র প্রায় ২২ শতাংশ আসে শিল্প থেকে। সব রাজ্যের ক্ষেত্রে এ গড় প্রায় ২৯ শতাংশ। ‘এনসিএইআর’-এর যুক্তি, উৎপাদন ও শিল্পক্ষেত্রে সাধারণত পরিষেবা খাতের অনেক অংশের তুলনায় কর আদায়ের সম্ভাবনা বেশি। ফলে রাজ্যের তুলনামূলক ছোটো শিল্পভিত্তি নিজস্ব কর রাজস্ব বাড়ানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্যের ‘জিএসভিএ’-র প্রায় ৫৭ শতাংশই আসে পরিষেবা খাত থেকে। তারও একটি বড়ো অংশ তুলনামূলক ভাবে অনানুষ্ঠানিক বা অসংগঠিত ক্ষেত্রে— রিয়েল এস্টেট, ব্যবসায়িক পরিষেবা, বাণিজ্য, হোটেল, রেস্তরাঁ ইত্যাদি।
মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গ দেশের তুলনামূলক ভাবে নিচের সারির রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে। ফলে করদাতার সংখ্যা ও করযোগ্য আয়ের পরিসরও সীমিত। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতি বদলাতে হলে শুধু করের হার বাড়িয়ে লাভ হবে না। অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত ও সম্প্রসারিত করতে হবে। সে জন্য উৎপাদন, লজিস্টিক্স, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া ও বস্ত্রশিল্প, পর্যটন, ইলেকট্রনিক্স সংযোজন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আরও সমস্যা ব্যয়ের কাঠামো ঘিরে । ‘এনসিএইআর-এর’ হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মোট ব্যয়ের ৮৬.৪ থেকে ৯২.১ শতাংশই ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে চলে গিয়েছে বর্তমান খাতে। বেতন, পেনশন, সুদ, ভাতা, ভর্তুকি ইত্যাদির সমস্ত খরচ মেটানোর পরে নতুন সম্পদ তৈরির জন্য হাতে খুব বেশি অর্থ থাকে না। এক দশকে মূলধনী ব্যয় অর্থাৎ রাস্তা, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিকাঠামো কিংবা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরির খাতে পশ্চিমবঙ্গের গড় ব্যয় ‘জিএসডিপি’-র মাত্র ১.৬ শতাংশ। সেখানে সব রাজ্যের গড় ২.৩ শতাংশ। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ভিত শক্ত করার জন্য যে ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন, পশ্চিমবঙ্গে তার পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে কম।এই নিম্ন হার দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনাকে দুর্বল করতে পারে।
রাজ্যের আর্থিক চাপে ভর্তুকির ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে রিপোর্টে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের মোট ব্যয়ের ৭ শতাংশ ভর্তুকিতে চলে গিয়েছে। ওড়িশায় এই হার ৩.৪ শতাংশ। তবে শুধু ভর্তুকিকেই আর্থিক সমস্যার জন্য দায়ী করা যায় না— সামগ্রিক ছবিটি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। উচ্চ সুদ, পুরনো ঋণের বোঝা, সীমিত নিজস্ব রাজস্ব এবং কম মূলধনী বিনিয়োগ—সব মিলিয়েই রাজ্যের আর্থিক পরিসর সঙ্কুচিত হচ্ছে। এই আর্থিক বাস্তবতার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার গত মাসের শেষে বিধানসভায় ২০২০-২১ অর্থবর্ষ থেকে আটকে থাকা ক্যাগের ২৮টি রিপোর্ট পেশ করেছিল। রিপোর্টগুলিতে উঠে এসেছিল, তৃণমূল জমানার দেড় দশকে প্রায় ৯.৬ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি বার্ষিক হারে বেড়ে পশ্চিমবঙ্গের ঋণ ৮ লক্ষ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। ‘এনসিএইআর’-এর সুপারিশ তাই একাধিক দিকে। কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বাড়াতে হবে। ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে। মূলধনী ব্যয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মাঝারি মেয়াদের আর্থিক পরিকল্পনা এবং ফলাফলভিত্তিক বাজেট ব্যবস্থার উপর জোর দিতে হবে।
তবে ছবিটি শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়। গোটা দেশের রাজ্যগুলির আর্থিক পরিস্থিতিতেই গত কয়েক বছরে চাপ বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১১টি রাজ্য— পাঞ্জাব, হরিয়ানা, কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থান, তেলেঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক এবং গুজরাত— তাদের মোট বাজেটের ১০ শতাংশের বেশি সুদ মেটাতে বরাদ্দ করেছে। অন্যদিকে মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ ও ওড়িশায় সে হার ৫ শতাংশের কম। গত এক দশকে সব রাজ্য মিলিয়ে সুদ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে ১৬০ শতাংশ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মূলধনী ব্যয়ের উপর। কারণ, ঋণের সুদ মেটানো বাধ্যতামূলক; ফলে ভবিষ্যতের পরিকাঠামো তৈরির জন্য বরাদ্দ কমানোর চাপ তৈরি হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সব রাজ্য মিলিয়ে মোট ব্যয়ের মাত্র ১৬.৫৯ শতাংশ মূলধনী সম্পদ তৈরিতে বরাদ্দ করা হয়েছিল। গত এক দশকে এই হার ১৩ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে। অর্থাৎ, রাজ্যগুলির প্রতি এক টাকা ব্যয়ের মধ্যে ছয় ভাগের প্রায় পাঁচ ভাগই চলে যাচ্ছে চলতি খরচে; ভবিষ্যতের সম্পদ তৈরিতে যাচ্ছে মাত্র প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ।
রাজ্যগুলির আর্থিক চাপের আরও একটি দিক রয়েছে, যা সাধারণ ঋণের পরিসংখ্যানে সব সময় ধরা পড়ে না। তা হল সরকারি ‘গ্যারান্টি’। বিদ্যুৎ সংস্থা কিংবা রাজ্য-নিয়ন্ত্রিত কর্পোরেশনগুলিকে দেওয়া সরকারি গ্যারান্টি কোনো সময়ে কার্যকর হলে তা বাস্তব ঋণে পরিণত হয়। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত তা মূল ঘাটতির পরিসংখ্যানে সরাসরি দেখা যায় না। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজ্যগুলির বকেয়া গ্যারান্টির পরিমাণ ১৩ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ, মোট ‘জিএসডিপি’-র প্রায় ৪ শতাংশ। এক দশকে সে পরিমাণ তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। এক্ষেত্রে রাজ্যভেদে অবশ্য পরিস্থিতির পার্থক্য রয়েছে। তেলঙ্গানায় বকেয়া গ্যারান্টির পরিমাণ ‘জিএসডিপি’-র ১৪ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে গুজরাত, ওড়িশা, উত্তরাখণ্ডে তা ০.৫ শতাংশেরও কম।
ঘাটতি মেটাতে বাজার থেকে ধার নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে রাজ্যগুলির। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেট অনুমানে রাজ্যগুলির সম্মিলিত মোট আর্থিক ঘাটতির ৭৬.৩ শতাংশ বাজার থেকে ঋণ নিয়ে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগের অর্থবর্ষে এই হার ছিল ৭১.৮ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকারগুলি ১,০০০টিরও বেশি পৃথক ঋণ নিয়েছে। সমস্যা হলো, আজ যে টাকা ধার নেওয়া হচ্ছে, আগামী দিনে তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সুদের দায়। ফলে হাসপাতাল বা রাস্তা তৈরির মতো উৎপাদনশীল খাতে সে টাকা খরচ হোক কিংবা কোনো ভর্তুকিতে— ভবিষ্যতের বাজেটে তার প্রভাব থেকেই যাচ্ছে। এ ভাবেই তৈরি হচ্ছে ‘কমিটেড এক্সপেন্ডিচার’-এর চক্র। পুরনো ঋণ শোধ করতে নতুন ঋণ, নতুন ঋণের জন্য আরও সুদ— আর তার জেরে নতুন বিনিয়োগের জায়গা আরও সঙ্কুচিত।
রাজ্যগুলির আর্থিক অবস্থার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ধরা পড়েছে ২০২৫-২৬-এর অর্থনৈতিক সমীক্ষায়। রাজস্ব উদ্বৃত্ত থাকা রাজ্যের সংখ্যা ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৪-২৫-এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। সব রাজ্য মিলিয়ে রাজস্ব ঘাটতি ২০১৯ সালে জিডিপি-র ০.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ০.৭ শতাংশ হয়েছে। গত অর্থবর্ষেই তা আরও ৪০ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে। অন্য দিকে, রাজ্যগুলির নিজস্ব কর রাজস্ব মোট রাজস্ব প্রাপ্তির অংশ হিসাবে ২০২২ সালের ৪৬ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে এ উন্নতি মূলত সেসব রাজ্যে হয়েছে, যাদের উৎপাদন আর পরিষেবা খাত তুলনামূলক ভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং ‘জিএসটি’ থেকে রাজস্ব সংগ্রহের সম্ভাবনাও বেশি। ফলে মূল সমস্যা শুধু কে বেশি ভর্তুকি দিচ্ছে বা কে কম খরচ করছে, তা নয়। আসল প্রশ্ন— কোন রাজ্যের নিজের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উপর কর বসিয়ে রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষমতা কতটা।
দীর্ঘ সময়ের রাজ্যভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ১৯৮০-৮১ সাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দরিদ্র রাজ্যে কেন্দ্রীয় হস্তান্তরের পরিমাণ বেশি হলেই যে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি দ্রুত হবে, এমন নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায় না। বরং একটি রাজ্যের নিজের ব্যয়ের কতটা অংশ মূলধন গঠনে যাচ্ছে, তার সঙ্গে ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্পর্ক বেশি। অন্যদিকে, বেশি আর্থিক ঘাটতির সঙ্গে পরবর্তী সময়ে তুলনামূলক দুর্বল অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্পর্কও রয়েছে। সামাজিক খাতে খরচ তখনই বেশি কার্যকর হয়, যখন তার সঙ্গে বাস্তব বিনিয়োগও থাকে।অর্থাৎ, শুধু টাকা খরচ করলেই হবে না— কোথায় খরচ হচ্ছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
❤ Support Us








