- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৮, ২০২৬
যাদবপুরকে কড়া বার্তা দিতে, রাখির দিনে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি ! বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ে চার গেট
রাখিবন্ধন উৎসবকে ঘিরে শুক্রবার যাদবপুরে বিশাল কর্মসূচি। যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় আয়োজন করা হয়েছে ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ অনুষ্ঠান। সেখানে বিকেলে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। অনুষ্ঠান ঘিরে নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক রোডের একটি অংশে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সে কারণে শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি গেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ২, ৩, ৪ এবং ৫ নম্বর গেট বন্ধ থাকবে। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা পড়ুয়া, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও আবাসিকদের যাতায়াতের জন্য ১ নম্বর গেটটি খোলা রাখা হবে। রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক রোডে যান চলাচল বন্ধ থাকার কারণেই সংশ্লিষ্ট গেটগুলি সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক কাজ বন্ধ। ফলে গেট বন্ধের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।
এ দিন ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ র্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রশাসনের বাড়তি সতর্কতা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে নিরাপত্তাজনিত কারণের উল্লেখ নেই; রাস্তা বন্ধ থাকার কারণেই চারটি গেট বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সকালে ভবানীপুরে রাখিবন্ধন উৎসবের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম এবং বিচ্ছিন্নতাবাদ-বিরোধী অবস্থান। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ‘মাওবাদী নেতা’ কিষাণজিকে নিয়ে লেখা স্লোগান এবং বিভিন্ন জায়গায় ‘আজাদি’র স্লোগান ওঠার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, স্বাধীনতার পরেও কেন ‘আজাদি’র দাবি উঠবে। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে এমন বক্তব্য নতুন প্রজন্মকে কী শিক্ষা দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। কিষাণজির প্রসঙ্গ টেনে তিনি তাঁকে সংবিধান-বিরোধী এবং ভোট বয়কটের পক্ষে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম্’ ও ‘জনগণমন’-এর প্রতি অসম্মান নিয়েও সরব হন তিনি। দেশপ্রেমের নামে এমন মানসিকতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ‘আবর্জনার মতো পরিষ্কার’ করার কথাও উঠে আসে।
ভবানীপুরের অনুষ্ঠানে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, বাইরের শত্রুর মোকাবিলায় দেশের সেনাবাহিনী রয়েছে, কিন্তু দেশের ভিতর থেকেও ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। কলকাতার রাস্তায় ‘আজাদি’ স্লোগান এবং ‘কাশ্মীর মাগে আজাদি’ ধরনের লেখার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর পদযাত্রাতেও অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। গলায় খোল ঝুলিয়ে কীর্তনে অংশ নেওয়া এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে কীর্তন করার ঘটনাও এ দিনের কর্মসূচির অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে ওঠে। পরে নজরুল মঞ্চের অনুষ্ঠানে গিয়ে তরুণ প্রজন্মকে দেশ ও রাজ্যের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, রাখিবন্ধন উপলক্ষে এ বার রাজ্যজুড়ে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারি সূত্রের দাবি, উৎসবের আয়োজনের জন্য প্রায় ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ২৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৫০০টি রাখি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু রাখি কেনার ক্ষেত্রেই খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮৫ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা। নজরুল মঞ্চেও শুক্রবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় আড়াই হাজার তরুণ-তরুণী-সহ বহু পড়ুয়ার উপস্থিতির কথা জানানো হয়েছে। তাঁদের হাতে বিশেষ ‘তিরঙ্গা রাখি’ তুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।
❤ Support Us







