- দে । শ
- আগস্ট ৩১, ২০২৬
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আতঙ্ক কাটিয়ে নেপাল থেকে মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন নিয়ামত
নেপালের বিরাটনগরের চক্ষু হাসপাতালে মায়ের চোখের চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন মঙ্গলকোট লাগোয়া কুঠিরপাড়ার নিয়ামত শেখ। চোখে জমাট বাঁধা রক্ত ঠিক করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হতে হল নিয়ামতকে। রাতে কাটোয়া স্টেশনে নামার পরও নিয়ামতের চোখে-মুখে গোটা শরীরজুড়ে আতঙ্কের ছাপ। বলছিলেন, ‘মাকে নিয়ে অক্ষত অবস্থায় আদৌ বাড়ি ফিরতে পারব কি না, সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ। বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ নেই। মা তো রীতিমত কাঁদতে শুরু করে দিয়েছিল।’ নিয়ামতের মা আসমাতারা বিবি বলছিলেন, ‘কাটোয়ায় পা দিয়ে যেন ধড়ে প্রাণ এল। যেভাবে ফিরলাম, কী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির শিকার যে হয়েছিলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’
নিয়ামতের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, নেপালের বিরাটনগর থেকে কোশী ব্যারেজের দূরত্ব ৫০ কিমির খানিকটা বেশি। কিন্তু প্রাণঘাতী হড়পা বানের অভিঘাত বিরাটনগরেও পড়ে। বিরাটনগরে পর্যটকের তুলনায় চোখের চিকিৎসার জন্য যাওয়া মানুষজনই বেশি। হোটেলগুলোতেও ছিল ঠাসা ভিড়। হড়পা বানের খবর ছড়াতেই শুরু হয়ে যায় হোটেল ছাড়ার হিড়িক। চারদিক শুনশান। মোবাইল কাজ করছে না। শহরটাই কেমন অচেনা চেহারা নিয়েছে। রোগী ও তাদের পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে পর্যটক, সকলেরই বাড়ি ফেরার তাড়া। শহর ক্রমশ প্রেতপুরী হয়ে উঠছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ ওয়াইফাই পরিষেবা চালু করতেই নিয়ামত দেখেন, গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ামতের স্ত্রী-ভাই-সহ বিভিন্ন জন মোট ৫২ বার ফোন করেছে। হোটেলের লোকজনই পরামর্শ দেন, নেপালে থাকা আর নিরাপদ নয়। যেভাবেই হোক বাড়ি ফেরার চেষ্টা করুন। বাড়ি ফিরবেন কীভাবে, সেই দুশ্চিন্তাই ঘিরে ধরেছে। গণপরিবহণ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। যা দু’চারটে অটো চলছে, তাতে এমন বাদুড়ঝোলা ভিড় যে, চড়াই দায়। চার গুণ ভাড়া দিয়ে একটা অটো ব্যবস্থা করে বিরাটনগর থেকে যুগবাণী রেল স্টেশনে এসে ট্রেন ধরেন নিয়ামতরা। বাড়ি ফেরার খবর পেয়ে স্বস্তি ফেরে নিয়ামতদের পরিবারে।
❤ Support Us







