- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
বিপদসীমা ছাপিয়ে বইছে গঙ্গা ! ভারী বৃষ্টিতে বিহারে প্লাবনের আশঙ্কা
ভারী বৃষ্টিতে ক্রমেই ফুলে-ফেঁপে উঠছে গঙ্গা। শনিবার পাটনার গান্ধী ঘাটে বিপদসীমার প্রায় দু–মিটার উপর দিয়ে বইছে নদী। শুধু তা-ই নয়, জলস্তর ছাপিয়ে গিয়েছে ‘সর্বোচ্চ বন্যাস্তর’ সীমাও। ফলে পাটনা-সহ বিহারের একাধিক নিচু এলাকায় জল ঢোকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে সে রাজ্যের জলসম্পদ দফতর।
শনিবার সকালে গান্ধী ঘাটে গঙ্গার জলস্তর মাপা হয় ৫০.৫৩ মিটার। বিপদসীমা ৪৮.৬০ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার থেকে প্রায় ১.৯৩ মিটার উপর দিয়ে বইছে নদী। এমনকি ওই ঘাটে এত দিন পর্যন্ত নথিবদ্ধ সর্বোচ্চ বন্যাস্তর ৫০.৫২ মিটারকেও এক সেন্টিমিটার ছাপিয়ে গিয়েছে গঙ্গার জল। জলসম্পদ দফতরের পূর্বাভাস, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পয়ারে। রবিবার সকাল ৮টার মধ্যে গান্ধী ঘাটে গঙ্গার জলস্তর বেড়ে ৫০.৬২ মিটারে পৌঁছতে পারে। সে ক্ষেত্রে পুরনো সর্বোচ্চ বন্যাস্তরও ছাপিয়ে নতুন নজির তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে আশঙ্কায় নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
দফতরের তরফে জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে, বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলিতে লাগাতার নজরদারি চালাতে হবে। বিশেষ করে নদীমুখী বাঁধগুলির দিকে বসবাসকারী মানুষজনকে আগেভাগেই সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে, যাতে জল ঢুকলে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা যায়। শুধু গঙ্গা নয়, বিহারের বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে একাধিক নদীর জলস্তর। গণ্ডক, কোশি, বুড়ি গণ্ডক, বাগমতী, পুনপুন, ঘাঘরা সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। বিহারের পাশাপাশি প্রতিবেশী নেপালেও প্রবল বৃষ্টির জেরে নদীগুলিতে জল বাড়ছে। তার প্রভাব পড়ছে বিহারের বিস্তীর্ণ নদী অববাহিকায়।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক জেলায় বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাটনা, বৈশালী, ভোজপুর, ভাগলপুর, খাগাড়িয়া, পূর্ণিয়া, মধেপুরা, সহরসা এবং কাটিহারের বেশ কিছু নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়ার খবর মিলেছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে বিপর্যয় মোকাবিলায় রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিআরএফ) ২৭টি দল ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) ৯টি দল মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবারই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির আকাশপথে পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বক্সর থেকে ভাগলপুর পর্যন্ত গঙ্গার বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলিতে লাগাতার নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য, ভাঙন বা বাঁধে ফাটল দেখা দিলে তা যাতে বড়ো কোনো বিপর্যয়ের চেহারা না নেয়।
শনিবার পাটনায় পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ সতর্ক। তাঁর কথায়, এ ধরনের দুর্যোগের সময়ে সাধারণ মানুষ যাতে যতটা সম্ভব কম সমস্যায় পড়েন, সে লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে। নীতিন আরও জানান, কেন্দ্রও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে দাবি তাঁর। নেপালে বিপর্যয়ের পর থেকেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং তার সঙ্গে বিহারে অব্যাহত রয়েছে বৃষ্টি— এই দুইয়ের জেরেই নদীগুলিতে জলস্তর বাড়ছে বলে জানান তিনি।
❤ Support Us






