Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টেও মিটল না তৃণমূলের প্রতীক-জট, দ্রুত ফয়সলার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনকে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সুপ্রিম কোর্টেও মিটল না তৃণমূলের প্রতীক-জট, দ্রুত ফয়সলার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনকে

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের টানাপোড়েনের এখনো অবসান হলো না সুপ্রিম কোর্টে। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হলো না শীর্ষ আদালত। তবে দীর্ঘসূত্রিতা না করে দ্রুত দু-পক্ষের দাবি ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে প্রতীক-সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করার জন্য কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী সোমবার মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানিতে আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চায়, দুই পক্ষের দাবি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তাদের কতটা সময় প্রয়োজন। কমিশনের আইনজীবী তথা প্রবীণ আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডুকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সময় কমিশনকে জানাতে হবে। দু-পক্ষের আবেদন ও নথিপত্র খতিয়ে দেখার জন্য অবশ্যই সময় প্রয়োজন, তবে সে সময় যেন কোনোভাবেই অযথা দীর্ঘ না হয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে উপনির্বাচনের বিষয়টিও। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের ৩৫ ও ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই গোষ্ঠীর প্রার্থীরাই উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। ফলে দ্রুত প্রতীক ও দলীয় নামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি শুনানিতে গুরুত্ব পায়। এদিন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া চলাকালীন নির্বাচন কমিশন এ ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না। জবাবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচনের সময়সূচি ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। সে কারণে উপনির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় এ মুহূর্তে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

শুনানিতে উঠে আসে শিবসেনার প্রতীক-সংক্রান্ত বিরোধের প্রসঙ্গও। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগি যুক্তি দেন, শিবসেনা সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন একই ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নিয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘শিবসেনার ক্ষেত্রে বিলম্বের কী পরিণতি হয়েছে, তা আমরা দেখেছি।’ তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাই স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্ত নেয়। জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশনের বেঞ্চ জানায়, মমতাপন্থী কালীঘাট শিবির এবং ঋতব্রতপন্থী শিবির — কোনো পক্ষই উপনির্বাচনে ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় মমতাপন্থী তৃণমূল। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতেই শীর্ষ আদালত কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়সীমা জানাতে বলে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের অভ্যন্তরে বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে দুই শিবিরের দাবি। কালীঘাট ও ঋত শিবির—উভয় পক্ষই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছে। সেই দাবির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূলের মূল নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে দুই শিবিরকেই পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে। মমতাপন্থী শিবির ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং ‘ফুটবলার’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে ভোটের ময়দানে রয়েছে। তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন নির্বাচন কমিশনের হাতেই। আগামী সোমবার মামলাটির পরবর্তী শুনানি। তার আগে কমিশন কতটা সময়ের মধ্যে এই বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে পারবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!