- দে । শ ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- অক্টোবর ১, ২০২৬
পার্কস্ট্রিটের প্রথম দুর্গাপুজোতেই থাকছে চমক, দাবী কলকাতা সনাতনী সংঘের
কলকাতার দুর্গাপুজো মানেই শুধু মণ্ডপ, প্রতিমা আর আলোর সাজ নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শহরের আবেগ, ঐতিহ্য, শিল্প, সংস্কৃতি এবং উৎসবের এক অনন্য আবহ। উত্তর থেকে দক্ষিণ, গলিপথ থেকে রাজপথ—পুজোর কয়েকটি দিন গোটা কলকাতাই যেন পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবপ্রাঙ্গণে। সেই চেনা পুজো-মানচিত্রেই এবার নতুন সংযোজন হতে চলেছে পার্কস্ট্রিটের এলেন পার্ক।
প্রথমবারের আয়োজনেই শহরের দুর্গাপুজোর আলোচনায় জায়গা করে নিতে চলেছে কলকাতা সনাতনী সংঘের দুর্গাপুজো। আয়োজকদের অন্যতম ও প্রধান ব্যক্তি হচ্ছেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। তাঁর দাবি, ভাবনা, মণ্ডপসজ্জা, আচার-অনুষ্ঠান এবং সামগ্রিক আয়োজনের বিচারে এই পুজো কলকাতার অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চলেছে।
এলেন পার্কে দুর্গাপুজোর আয়োজনকে নিছক একটি নতুন পুজো হিসেবে দেখছেন না উদ্যোক্তারা। প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। মণ্ডপের ভাবনায় থাকছে ‘নটরাজ’। মহাদেবের তাণ্ডব নৃত্যের প্রতীকী রূপ নটরাজকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে পুজোর মূল মণ্ডপ। আলোকসজ্জা, আবহসঙ্গীত এবং শিল্পভাবনার সমন্বয়ে দর্শনার্থীদের সামনে একটি আলাদা অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।
শঙ্কুদেব পণ্ডার কথায়, তাঁদের পুজোর ভাবনা এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে কলকাতার দুর্গাপুজোর দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। তাঁর দাবি, কলকাতার পুজোর তালিকায় প্রথম আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নেবে এলেন পার্কের এই আয়োজন।
তবে শুধু থিম বা মণ্ডপসজ্জাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই পুজো। সনাতনী পুজোর রীতি-নীতি, আচার এবং উপচার মেনেই দেবীর আরাধনা করার কথা জানিয়েছেন শঙ্কুদেব পণ্ডা । চণ্ডীপাঠ থেকে শুরু করে দেবী আরাধনার বিভিন্ন প্রথাগত আচার—সবকিছুতেই ঐতিহ্যের ছাপ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
আর এখানেই শেষ নয়। পুজোর সূচনাতেও থাকছে বিশেষ আয়োজন। ষষ্ঠীর অপেক্ষায় না থেকে মহালয়া থেকেই শুরু হবে পুজোর আবহ। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পার্কস্ট্রিট থেকে গঙ্গার ঘাট পর্যন্ত হবে বিশেষ শোভাযাত্রা। দেবীর বোধনের আগে কলাবৌ স্নানকে কেন্দ্র করে এই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারবেন সাধারণ মানুষও। রাজবাড়ির পুজোর পুরনো ঐতিহ্যের আদলে এই আয়োজনকে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শঙ্কুদেব পণ্ডা জানিয়েছেন, এই শোভাযাত্রায় সাদা পোশাকে যে কোনও মানুষ চাইলে অংশ নিতে পারবেন। ফলে মহালয়ার দিন থেকেই এলেন পার্ক ও পার্কস্ট্রিট চত্বরকে ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের।
কলকাতার দুর্গাপুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল পুজোর সঙ্গে সংস্কৃতির অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক। সেই ঐতিহ্যকেও নিজেদের আয়োজনে তুলে ধরতে চাইছে কলকাতা সনাতনী সংঘ। মূল মণ্ডপের পাশেই তৈরি করা হচ্ছে একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ। পুজোর দিনগুলিতে সেখানে নামী সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনের পাশাপাশি দেশীয় শিল্প ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
ফলে এলেন পার্কের এই পুজোয় মণ্ডপ দর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে গান, আবহসঙ্গীত এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও। সব মিলিয়ে কলকাতার চেনা পুজো-সংস্কৃতির সঙ্গে আধুনিক মণ্ডপভাবনার একটি মেলবন্ধন তৈরি করার চেষ্টা থাকছে এই আয়োজনে।
কলকাতার দুর্গাপুজোর মানচিত্রে এলেন পার্ক এতদিন কার্যত অনুপস্থিতই ছিল। পুজোর মরশুমে শহরের অন্যান্য প্রান্ত যখন আলো, মণ্ডপ, প্রতিমা এবং দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে, তখন পার্কস্ট্রিটের এই অংশে তেমন কোনও বড় দুর্গাপুজোর আয়োজন ছিল না। এবার সেই ছবিটাই বদলাতে চাইছে কলকাতা সনাতনী সংঘ।
এ প্রসঙ্গে শঙ্কুদেব পণ্ডা এলেন পার্কের আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান আয়োজনের তুলনা টেনে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ বছর মরুভূমি বানিয়েছিলেন এলেন পার্ককে। তার আগে বামেরাতো পুজো বলে কিছু যে হয় সেটাই বিশ্বাস করতো না। আমি দেখছি কি করতে পারি। তবে একটা কথা বলে দিতে পারি, কলকাতার পুজোর সব আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে এলেন পার্কের কলকাতা সনাতনী সংঘের দুর্গাপুজো।” তাঁর লক্ষ্য এই এলাকাকে পুজোর সময় নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এলেন পার্ককে দীর্ঘদিন ধরে পুজোর মানচিত্রের বাইরে রাখা হয়েছিল। এবার সেখানে এমন একটি আয়োজন করতে তিনি করতে চলেছেন, যা কলকাতার দুর্গাপুজোর দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
তাঁর কথায়, “কলকাতার পুজোর সব আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে এলেন পার্কের কলকাতা সনাতনী সংঘের দুর্গাপুজো।”
প্রথমবারের আয়োজনেই সেই দাবি কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার উত্তর মিলবে পুজোর দিনগুলিতে। তবে তার আগেই নটরাজের ভাবনায় তৈরি হতে থাকা মণ্ডপ, মহালয়ার শোভাযাত্রা, সনাতনী আচার-অনুষ্ঠান, আলো-আবহসঙ্গীত এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় পার্কস্ট্রিটের এলেন পার্ক যে কলকাতার দুর্গাপুজোর নতুন আলোচনার কেন্দ্রে আসতে চলেছে, তা বলাই যায়।
❤ Support Us






