- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৩, ২০২৬
১০ অক্টোবর দিল্লিতে ফের ককরোচেরা, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে যন্তরমন্তরে বড়ো জমায়েতের ডাক
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফের রাজধানীমুখী হচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিজেপি-র কনভেনর অভিজিৎ দীপকে।
সিজেপি-র বক্তব্য, দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবিতেই এই কর্মসূচি। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবি নিয়ে দিল্লিতে অবস্থান-বিক্ষোভ হবে।
সম্প্রতি গান্ধীজয়ন্তীতে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে একই দাবিতে জমায়েত করেছিল ককরোচেরা। তাঁদের ডাকে সেখানে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হন বলে সংগঠনের দাবি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানানো হয়। সেই কর্মসূচির পরেই দিল্লি অভিযানের ডাক দেন অভিজিৎ।
সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সিজেপি কনভেনর জানান, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ককরোচ-বাহিনী দিল্লির উদ্দেশে রওনা হবে। ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পাশাপাশি পুলিশ আন্দোলনকারীদের আটকানোর চেষ্টা করলে যে জায়গায় তাঁদের আটকানো হবে, সেখানেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
দিল্লিতে আন্দোলনের অভিজ্ঞতা অবশ্য সিজেপি-র জন্য নতুন নয়। এর আগে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে আন্দোলন করেছিল সংগঠনটি। সেই সময় যন্তর মন্তরে তাদের কর্মসূচিকে সমর্থন করে অনশন করেছিলেন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সেই সময় বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে। আন্দোলন দমাতে ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে।
আগামী কর্মসূচির আগে সেই ঘটনার প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন অভিজিৎ। তাঁর বক্তব্য, সিজেপি শান্তিপূর্ণ এবং গান্ধীবাদী পদ্ধতিতেই আন্দোলন করবে। আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সরকার ও দিল্লি পুলিশ সম্মান করবে, নাকি ২০ জুলাইয়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে—তার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি।
এসআইআর ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার ফলে বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এরই মধ্যে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জ্ঞানেশ কুমার কমিশনের অন্য দুই সদস্যের আপত্তিকে উপেক্ষা করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবিন্দর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী মোট ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আপত্তি গুরুত্ব পায়নি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। যদিও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। কংগ্রেস, কালীঘাট তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলিও দিল্লিতে বৈঠক করেছে। সেই আবহেই এবার ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করল ককরোচ জনতা পার্টি।
❤ Support Us







