Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ৫, ২০২৬

আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে খারিজ কমিশনের সিদ্ধান্ত ! ‘এসআইআর’ মামলায় কী জানাল সুপ্রিম কোর্ট ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে খারিজ কমিশনের সিদ্ধান্ত ! ‘এসআইআর’ মামলায় কী জানাল সুপ্রিম কোর্ট ?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও কার্যপ্রণালী নিয়ে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার মামলাগুলির শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে।

শুনানির সময় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানায়, কমিশনের কোনো সিদ্ধান্ত আইন ও বিধি মেনে নেওয়া হয়নি বলে প্রমাণিত হলে আদালত সেসব সিদ্ধান্ত বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। যদিও একই সঙ্গে বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে আদালত ধরে নিচ্ছে যে নির্বাচন কমিশন তার সিদ্ধান্তগুলি আইনি কাঠামোর মধ্যেই নিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশন যে ভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েই মূলত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা। একই সঙ্গে, মামলাগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সাময়িক ভাবে সরিয়ে রাখার দাবিতেও একটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছে।

মামলাকারীদের পক্ষ থেকে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি তদন্তের জন্য বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন অথবা বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের আবেদনও জানানো হয়েছে। এ দাবির বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান জানতে চেয়েছে আদালত। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ‘এসআইআর’-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসার পর জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভও হয়েছে।

তবে শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত সরাসরি নির্দেশ দিতে পারে না। বেঞ্চের মতে, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য সম্পূর্ণ সঠিক হতে পারে, আবার তার কোনো অংশ সঠিক হতে পারে কিংবা প্রতিবেদনটি ভুলও হতে পারে। তাই কমিশনের বক্তব্য না শুনে শুধুমাত্র সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। আদালত অবশ্য জানিয়েছে, কমিশনের কাছ থেকে পুরো বিষয়টির ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। তাদের জবাব পর্যালোচনা করার পর যদি দেখা যায় যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আইন অনুসরণ করা হয়নি, সেক্ষেত্রে সে সিদ্ধান্ত বাতিল করার বিষয়ে আদালত পদক্ষেপ করতে পারে।

কমিশনের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে বেঞ্চ। যদি নোটিসের জবাবে এমন তথ্য সামনে আসে যে কোনও সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ভাবে নেওয়া হয়নি, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও আদালত খতিয়ে দেখবে। তবে একই সঙ্গে আদালত সতর্ক করেছে, কমিশনের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে একতরফা ভাবে নেওয়া হয়েছে বলে আগেভাগে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করার দাবির ক্ষেত্রেও সোমবার অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ, আপাতত তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আদালত কোনোরকম তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়নি। ভারতের সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক অবস্থান ও কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমানে তিন সদস্যের এই কমিশনে একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দু-জন নির্বাচন কমিশনার রয়েছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সমমর্যাদার ব্যক্তিদের মধ্যে নেতৃত্বস্থানীয় হিসেবে বিবেচনা করা হলেও কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁকে একক কর্তৃত্ব দেওয়া হয়নি।

২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ, চাকরির শর্ত এবং কার্যকালের মেয়াদ সংক্রান্ত আইনের ১৮ নম্বর ধারাতেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নির্দিষ্ট করা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কমিশনের কাজকর্ম যতটা সম্ভব ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে। কোনও বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং বাকি নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতের অমিল তৈরি হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে কার্যকর হবে। ফলে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে আদালতের পরবর্তী শুনানি গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের জবাব পাওয়ার পরই আদালত সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলির আইনগত বৈধতা এবং তদন্তের দাবিগুলি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!