- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ৬, ২০২৬
নেপালে বন্ধ বন্যা-ভূমিধসের তল্লাশি-উদ্ধার অভিযান ! এখনো নিখোঁজ দুই শতাধিক ভারতীয় সহ ৫ হাজারেরও বেশি
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের প্রায় ৪০ দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল সরকার। ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনো পর্যন্ত ১,৪৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছেন ৫,২৮৫ জন। তাঁদের মধ্যে ১৮৯ জন ভারতীয় বলে জানা গিয়েছে। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিস্তৃত এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও নিখোঁজদের সন্ধান মেলার সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে এসেছে। তাই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে এখন ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলির পুনর্গঠন এবং দুর্গত মানুষের পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানেই তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি এবং বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকারী বিভিন্ন দলের দেওয়া রিপোর্ট ও সুপারিশ পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনকারী দলগুলির মূল্যায়ন, বিপর্যয়ের এতদিন পর নতুন করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। সেই কারণেই সরকারের কাছে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদগুলিকে ফের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
গত ২৬ আগস্ট প্রবল হড়পা বানে মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ত্রিশূলী ও ভোটকোসি নদীর জলস্রোত ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনে। বহু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ভেঙে পড়ে অসংখ্য বাড়িঘর, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, সেতু, দোকান ও বাজার। তবে বিপর্যয়ের ব্যাপকতার কারণে মোট ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
নেপালের দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১,৪৫৫। নিখোঁজ ৫,২৮৫ জন। তাঁদের মধ্যে ১৮৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। একই সঙ্গে ৩৬টি দেশের ৬০৬ জন বিদেশি পর্যটকেরও এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিব্বত অঞ্চলেও শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর রয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও উদ্ধার অভিযানের সম্ভাবনা কার্যত শেষ বলে মনে করছে প্রশাসন। ফলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার পর্ব থেকে সরে এসে এখন ধ্বংসস্তূপ সরানো, পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসনের কাজেই বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে নেপাল সরকার।
❤ Support Us





