- দে । শ
- অক্টোবর ৭, ২০২৬
খড়্গপুরে চলন্ত বাইকে গুলি, বুকে গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র; আটক ৫
প্রতীকী ছবি ।
পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে বুধবার সকালে চলন্ত বাইকে গুলি চালানোর ঘটনায় গুরুতর জখম হল এক স্কুলছাত্র। অক্ষয় ঝা নামে ওই নাবালকের বুকে গুলি লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে কলকাতার একটি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে খড়্গপুরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকার রেল সংলগ্ন অংশে। স্থানীয় সূত্রের খবর, সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ অক্ষয় এক ব্যক্তির বাইকের পিছনের আসনে বসে যাচ্ছিল। সেই সময় তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। একটি গুলি অক্ষয়ের বুকের বাঁ দিকে লাগে। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাইক চালানো ব্যক্তির দাবি, কেন তাঁদের উপর হামলা হল বা কারা গুলি চালিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা কোনও গুলির শব্দ শুনতে পাননি। ফলে ঠিক কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় কাউন্সিলর ডি বাসন্তীর বক্তব্য অনুযায়ী, অক্ষয় রেলের স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্মীর ছেলে। খবর পেয়ে তিনি রেল হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা দু’টি গুলি চালিয়েছিল। সেই সময় নম্বরপ্লেটহীন একটি স্কুটিতে দু’জন ব্যক্তিকে যেতে দেখা যায় বলেও তিনি জানান।
কাউন্সিলরের বক্তব্যে আরও উঠে এসেছে পুরনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ। তাঁর অনুমান, অক্ষয় নয়, সম্ভবত তার বন্ধু সাগর কুমারকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল। অক্ষয় ও সাগর দু’জনেই বন্ধু এবং ঘটনার সময় টিফিন খেতে বেরিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কাউন্সিলর জানান, সাগরের বাবা প্রসাদ একসময় শ্রীনু নাইডু গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। কয়েক বছর আগে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রসাদের মৃত্যু হয়। পরে গুলির ঘটনায় শ্রীনু নাইডুরও মৃত্যু হয়েছিল।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও ঘটনাটির পিছনে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের সম্ভাবনা উঠে এসেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের জেরেই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা জানতে পুলিশ একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে। তদন্তের জন্য মোট সাতটি পুলিশি দল গঠন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
অক্ষয়কে লক্ষ্য করেই গুলি চালানো হয়েছিল, নাকি অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া গুলির শিকার হয়েছে ওই স্কুলছাত্র—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত এগোলেই হামলার নেপথ্যের কারণ এবং শুটারদের পরিচয় সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসবে বলে পুলিশের আশা।
❤ Support Us





