- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৮, ২০২৬
বিক্ষোভের আবহে নিরাপত্তা বাড়ল জ্ঞানেশ কুমারের, দিল্লিতে নামছে ২৩ হাজার আধা সেনা
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস ও বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট, ‘সিজেপি’-র লাগাতার প্রতিবাদে উত্তপ্ত রাজধানী। বিক্ষোভের মধ্যেই এবার জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বর্তমানে জেড-প্লাস নিরাপত্তা রয়েছে জ্ঞানেশের। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও নিরাপত্তা পান। এবার তাঁর দিল্লির বাসভবন এবং নির্বাচন কমিশনের দফতরের বাইরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে ৮ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে ২২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। সংখ্যার হিসাবে যা প্রায় ২৩ হাজার। জম্মু ও কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড়-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ওই বাহিনী দিল্লিতে আনা হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’-কে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিরোধীদের সঙ্গে কমিশনের সংঘাত তীব্র হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ‘এসআইআর’-এর নামে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সে অভিযোগকে সামনে রেখেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চেয়ে রাস্তায় রয়েছেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ বিরোধী নেতা, সাংসদরা। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার রাজনৈতিক এবং সাংবিধানিক দায় এড়াতে পারেন না মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
কংগ্রেস ও ‘ইন্ডিয়া’ জোট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন থামানো হবে না। রাহুল গান্ধি বলেছেন, সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য তাঁরা প্রয়োজনে বারবার রাস্তায় নামবেন, গ্রেফতার হবেন, আইনি মামলার মুখোমুখি হবেন। বুধবার দিল্লিতে সেই প্রতিবাদের আঁচ দেখা গিয়েছে। বিরোধী সাংসদদের মিছিলকে নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে দেওয়ার পরে ঘটনাস্থলেই অবস্থানে বসেন তাঁরা। রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের আটক করে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রতিবাদ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। বৃহস্পতিবারও একইরকমভাবে আন্দোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এরকম অবস্থায়, নিরাপত্তার খাতিরে জ্ঞানেশ কুমারের দিল্লির বাসভবনের চারপাশে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন থাকবে। বর্তমান হুমকির মাত্রা পর্যালোচনা করেই নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুধু মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিরাপত্তা নয়, আন্দোলনের পরিধি মাথায় রেখে গোটা দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ঢেলে সাজানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে ২২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজধানীতে মোতায়েন করা হবে। সরকারি ভবন, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং কেন্দ্রীয় দিল্লির সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে তাদের ব্যবহার করা হবে। দিল্লি পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতেও এই বাহিনী সহযোগিতা করবে। বিরোধীদের আন্দোলনের মাত্রা যে আগামী দিনগুলিতে আরও বাড়তে পারে, সেই আশঙ্কাও রয়েছে প্রশাসনের। কংগ্রেসের পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিভিন্ন দল ইতিমধ্যেই ধারাবাহিক কর্মসূচির কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টিও জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন রাজধানীর একাধিক এলাকায় নতুন করে জমায়েত এবং মিছিল হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।
‘এসআইআর’ নিয়ে রাজনৈতিক চাপ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও সংসদের ভিতরে ও বাইরে প্রতিবাদে সরব হয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। তবে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী এসআইআর প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাঁদের জ্ঞান বা সুপারিশ ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি নিয়ে চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, যে কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত ও পর্যবেক্ষণ থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের দাবি, তাদের সমস্ত নির্দেশের পূর্ণ আইনি বৈধতা রয়েছে এবং সেগুলি প্রতিষ্ঠিত আইন ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া মেনেই জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। এটি দেশের সবচেয়ে পবিত্র বিষয়—সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। নরেন্দ্র মোদি বা অমিত শাহ কেউই আমাদের থামাতে পারবেন না।’
বুধবার কংগ্রেসের আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর বিক্ষোভের মেজাজ আরও তীব্র হবে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রশাসনের একাংশের। এদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে। আম আদমি পার্টি (আপ)-ও জানিয়েছে, গত ২ অক্টোবর থেকে তারা এই ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় জ্ঞানেশ কুমারের পারিবারিক বাড়ির সামনেও কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ির মূল ফটক ও দেওয়ালে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য লেখা হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীরা মূল ফটক ও দেওয়ালে হিন্দিতে ‘জ্ঞানেশ গদ্দার, জ্ঞানেশ চোর’ লিখে দেন। পরে ওই বিক্ষোভ ও বাড়ির দেওয়াল এবং ফটক বিকৃত করার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদের মাত্রা ক্রমেই বাড়তে থাকায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে আগামী দিনে তাঁর নিরাপত্তা বলয় আরও বাড়ানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।
❤ Support Us







