- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১০, ২০২৬
দিল্লিতে সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, বিমানবন্দর থেকে আটক অভিজিৎ দীপকে, ধ্রুব রাঠী, পিনারাই বিজয়ন সহ চারশো প্রতিবাদী
সিজেপির ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত রাজধানী দিল্লি। একের পর এক নেতা, ইউটিউবার এবং সমাজমাধ্যমের পরিচিত মুখদের আটক করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছতেই বিমানবন্দরে আটক করা হয় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে-সহ দলের একাধিক নেতাকে। অন্যদিকে, যন্তর মন্তরের প্রতিবাদে যোগ দিতে যাওয়ার আগেই গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে। এছাড়াও পিনারাই বিজয়ন, বৃন্দা কারাত, জন ব্রিটাস, মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সহ চারশো ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে । গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
শনিবার সকাল ১০টা ১৯ মিনিট নাগাদ মুম্বই থেকে আসা একটি বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেই বিমানে ছিলেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার মতো সিজেপি নেতারা। বিমান অবতরণের পরেই পুলিশকর্মীরা সেখানে পৌঁছে তাঁদের আটক করেন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে মহিলা পুলিশকর্মীদেরও উপস্থিতি ছিল। অভিযোগ, ওই সময় বিমানের অন্য যাত্রীদেরও দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
আটক হওয়ার আগে বিমানের ভিতর থেকেই ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচার করেন সিজেপি নেতারা। সেই ভিডিয়োয় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের কথোপকথন ও বাগ্বিতণ্ডা দেখা যায়। দীপকে আগেই জানিয়েছিলেন, দিল্লিতে পৌঁছলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, তা জেনেও তিনি রাজধানীতে আসছেন। জেল বা আইনি পদক্ষেপের ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।
যন্তর মন্তরে যাওয়ার আগেই আটক ধ্রুব রাঠী
সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা আগে থেকেই জানিয়েছিলেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। শনিবার সকালে দিল্লির যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগেই গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকার কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটিতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গুরুগ্রাম পুলিশ।
পুলিশের অভিযোগ, ধ্রুবকে দিল্লিতে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ মানেননি। তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয় বলে খবর। ধ্রুবকে আটক করার ঘটনায় সিজেপি সমাজমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলের বক্তব্য, সরকারের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে।
ধ্রুব ছাড়াও শনিবার একাধিক পরিচিত বিষয়স্রষ্টা এবং সিজেপির নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দলের নেতা সৌরভ দাস জানিয়েছেন, তাঁদের আইনি বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা আইনজীবী রত্না সিংহকেও আটক করা হয়েছে। আইনজীবীদের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তাঁকে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা
সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। শুক্রবার রাত থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জমায়েত আটকাতে একাধিক জায়গায় মাইকিং করা হচ্ছে। দিল্লির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট এলাকায় জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দিল্লিগামী মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনও বাতিল করা হয়েছে বলে খবর। এ ছাড়া জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে।
আটকের সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ১৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে আটকের সংখ্যা এক হাজারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিজেপির দাবি, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ৫০০-রও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বহু তরুণ-তরুণী রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
কী দাবিতে পথে সিজেপি ?
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছে দলটি।
তবে এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি পুলিশ। প্রতিবাদ ঘিরে সম্ভাব্য জমায়েত ঠেকাতেই প্রশাসন এত কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সিজেপির বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার থেকেই তারা এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।
দিল্লিতে আসার আগে অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হতে পারে এবং তাঁকে গ্রেফতারও করা হতে পারে। তা সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, সরকারের সমালোচনা করা তরুণদের ভয় পাওয়ার পরিবর্তে তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত।
গাঁধীবাদী পথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে সিজেপি। তবে দলের নেতাদের আটক, প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বাধা এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ জারির ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
❤ Support Us







