Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ১৩, ২০২৬

আন্দোলন জোরদার করতে বৈঠকে রাহুল, কলকাতায় তৃণমূলের মিছিল নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আন্দোলন জোরদার করতে বৈঠকে রাহুল, কলকাতায় তৃণমূলের মিছিল নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়াতে চাইছে বিরোধী শিবির। দিল্লিতে আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা নির্ধারণে বৈঠকে বসছে মঙ্গলবার বৈঠকে বসছেন রাহুল গান্ধি। জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদদের পাশাপাশি ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, একই দাবিতে কলকাতায় রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল। মিছিল আটকানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর মরশুমে শহরে কোনোরকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।  ফলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাতের আঁচ দিল্লি পেরিয়ে কলকাতাতেও ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়াতে মঙ্গলবার বিকেলে নিজের বাসভবনে বিরোধী সাংসদ, ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেল ৪টেয় নয়াদিল্লির ৫, সুনেরি বাগ রোডে তাঁর বাসভবনে এই চা-চক্রের আয়োজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নেতা ও প্রতিনিধিদের কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।  সোমবার পাঠানো ওই আমন্ত্রণপত্রে রাহুল জানিয়েছেন, গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা এবং আদালতে মামলা দায়েরের পর আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। চা-চক্রের আগে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাদের একটি যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করারও কথা রয়েছে। ফলে মঙ্গলবারের বৈঠক থেকে বিরোধীদের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে কোনো বার্তা উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে ঠিক কোন কোন নেতা, ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের সদস্য এই আলোচনায় যোগ দেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিক ভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। কিন্তু জ্ঞানেশের অপসারণের দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলনকে কী ভাবে আরও বিস্তৃত করা যায়, বিভিন্ন বিরোধী দল ও আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির মধ্যে সমন্বয় কী ভাবে বাড়ানো যায় এবং কেন্দ্রের উপর চাপ তৈরিতে আগামী দিনে কী ধরনের কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন রাহুল গান্ধি-সহ বিরোধী নেতারা।  ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সোমবার বিরোধী নেতারা মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগোন। সেখানে গিয়ে তাঁরা মামলা দায়ের করেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের আপত্তি আদালতের নজরে আনার চেষ্টা করেছে বিরোধী শিবির।

সোমবারের ওই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন আন্দোলনের অন্যতম মুখ, ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাও। জ্ঞানেশের অপসারণের দাবিতে ‘সিজেপি’-র ধারাবাহিক আন্দোলন এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতিবাদ কর্মসূচি— দু-টি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয়ের সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার রাহুলের বাসভবনের বৈঠকে ছাত্র নেতৃত্ব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ সেই সমন্বয়ের উদ্যোগকেই আরও স্পষ্ট করতে পারে। বিরোধীদের দায়ের করা মামলাটি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য উঠতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। ফলে একদিকে আদালতের নজরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, অন্য দিকে রাজপথে আন্দোলন জোরদার করার প্রস্তুতি — দুই পথেই চাপ বাড়াতে চাইছে বিরোধী শিবির। তবে আদালতে মামলার অগ্রগতি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ পরস্পরের সঙ্গে কী ভাবে যুক্ত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

দিল্লির আন্দোলনের আবহেই মঙ্গলবার কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত ওই মিছিল হওয়ার কথা। দুপুর ২টো নাগাদ কর্মসূচি শুরু হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। মিছিলে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অংশ নিতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হলেও তাঁর উপস্থিতি সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে কর্মসূচির সমর্থনে একটি প্রচারপত্রও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তোলা হয়েছে। দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করা এবং তরুণ প্রজন্মের উপর অত্যাচারের অভিযোগও প্রচারপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘটনাগুলির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তৃণমূল। শুধু কলকাতায় নয়, এই ইস্যুতে জেলায় জেলায়ও কর্মসূচি পালনের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি নতুন নয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর প্রভাব পড়তে পারে। সে অভিযোগের ভিত্তিতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি সামনে এনেছে বিরোধী শিবির। যদিও অভিযোগগুলির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ও প্রক্রিয়ার আইনি দিকও এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দিল্লিতে বিরোধীদের আন্দোলন, রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি পেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পর এ বার কলকাতার রাজপথে মিছিলের কর্মসূচি রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোট যে বিষয়টিকে সামনে রেখে কেন্দ্রের উপর চাপ তৈরি করতে চাইছে, রাজ্যে সেই একই দাবিকে ঘিরে পথে নামতে চলেছে তৃণমূল। ফলে নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের প্রতিবাদ শুধু সংসদীয় বা আইনি পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকছে না, রাজপথেও তার বিস্তার ঘটছে।

তৃণমূলের মিছিলের ঘোষণার পরেই সোমবার রাতে কড়া অবস্থান জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার একটি দুর্গাপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে তিনি বলেন, ‘বেরোতে দেব না। সিপিকে নির্দেশ দিয়েছি, রাজাবাজার থেকে এক পা এগোতে দেব না। প্রয়োজন হলে সেন্ট্রাল ফোর্সও নামাতে বলেছি। বেরোতে দেব না। কোনো বিশৃঙ্খলা করতে দেব না দুর্গাপুজোর সময়ে।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এক দিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তৃণমূলের পথে নামার প্রস্তুতি, অন্যদিকে সে কর্মসূচি আটকানোর বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি — দু-পক্ষের অবস্থান মঙ্গলবারের কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়ে শুভেন্দু যে ভাবে রাজাবাজার থেকে মিছিল এগোতে না দেওয়ার কথা বলেছেন, তাতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। মিছিলের আয়োজকদের তরফেও শেষ মুহূর্তে কোনও পরিবর্তনের কথা জানানো হয়নি।

তবে, তৃণমূলের মঙ্গলবারের সম্ভাব্য কর্মসূচিকে ঘিরে পার্ক সার্কাস এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে খবর। রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত সম্ভাব্য মিছিলের গতিপথ, জমায়েতের দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা অব্যাহত। তাঁর উপস্থিতি কর্মসূচিকে রাজনৈতিক ভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিকে সামনে রেখে এক দিকে জাতীয় স্তরে বিরোধীদের সমন্বিত আন্দোলনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে কলকাতায় মিছিল ঘিরে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মুখোমুখি অবস্থান — মঙ্গলবারের ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!