- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৪, ২০২৬
‘বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করবেন না’— দুর্গাপুজোয় বামেদের বুকস্টল বিতর্কে রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা হাইকোর্টের
দুর্গাপুজোয় বামেদের বুকস্টল তৈরির অনুমতি ঘিরে রাজ্য ও বামেদের মধ্যে আইনি সংঘাত ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। বনগাঁ ও নৈহাটিতে দুর্গাপুজোর সময় দুটি বুকস্টল তৈরির অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিল সিপিআই(এম। অভিযোগ, সে আবেদনে সাড়া দিয়ে অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এরপরই বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিআই(এম)। বুধবার মামলার শুনানিতে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। বনগাঁ ও নৈহাটিতে বামেদের বুকস্টল তৈরির অনুমতি নিয়ে রাজ্যকে নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের, বৃহস্পতিবারের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে পুলিশকে।
শুনানিতে বিচারপতি স্পষ্ট জানান, সিপিআই(এম) কোনো লটারির দোকান করতে চাইছে না, তারা বই বিক্রির জন্য বুকস্টল তৈরি করতে চাইছে। দুর্গাপুজো শুরু হতে আর মাত্র দু-দিন বাকি থাকায় বিষয়টির গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। রাজ্যকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতির কড়া বার্তা, ‘বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করবেন না।’ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর পর্যবেক্ষণ, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ভাবধারার পরিপন্থী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যের নীতি সকলের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন। আদালতে রাজ্যের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, বামেরা যে জায়গায় বুকস্টল তৈরি করতে চাইছে, সেটি পূর্ত দফতর বা ‘পিডব্লিউডি’-র জমি। পাল্টা সিপিআই(এম)-এর আইনজীবী দাবি করেন, তাঁদের পার্টি অফিসের সামনেই হিন্দু জাগরণ মঞ্চের একটি স্টল তৈরি করা হয়েছে। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, অন্য স্টলগুলি কি ‘পিডব্লিউডি’-র অনুমতি নিয়ে তৈরি করা হয়েছে? এত বড়ো স্টল কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন তিনি।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, দিনের শেষে দেখা যেতে পারে, বন্দুক দিয়ে বেলুন ফাটানোর স্টল তৈরি হয়েছে, অথচ বইয়ের স্টল করার অনুমতি মেলেনি। ‘পিডব্লিউডি’-র অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। বুকস্টল তৈরির অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখে বৃহস্পতিবারের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, রাজ্যকে সিপিএমকেও বুকস্টল তৈরির অনুমতি দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে জানান বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। এ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বৃহস্পতিবার। এর আগে মঙ্গলবারের শুনানিতেও রাজ্যের কাছে সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি জানিয়েছিলেন, আবেদনকারীরা বই বিক্রি করতে চান, খাবার বিক্রি করতে নয়। তাই তাঁদের আবেদনের বিষয়ে রাজ্যকে বুধবারের মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বুধবারের শুনানিতে ফের বুকস্টল তৈরির অনুমতি নিয়ে রাজ্যের অবস্থান ও নীতির সমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সম্প্রতি বনগাঁ ও নৈহাটিতে দুর্গাপুজোর সময় দুটি বুকস্টল তৈরির অনুমতি চেয়ে আবেদন করে বামেরা। অভিযোগ, পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ করে সিপিআই(এম)। পুজোর মরশুমে বইয়ের স্টল করার অনুমতি এবং সে অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সমান নীতি অনুসরণের প্রশ্নে শুরু হয় বিতর্ক।
বিতর্কের মধ্যেই দুর্গাপুজোর সময় বামেদের বুকস্টল নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পুজো কমিটিগুলিকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, তাঁরা যেন ‘শারদোৎসব’-এর পরিবর্তে ‘দুর্গাপুজো’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, তথাকথিত কমিউনিস্টরা পুজোর স্টল করতে এলে সেখানে ‘দুর্গাপুজো’ লেখা না থাকলে স্টল করতে দেওয়া উচিত নয়। মুখ্যমন্ত্রীর সে মন্তব্যের পরেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়ে। এবার বুকস্টল বিতর্কে কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের পর রাজ্য কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে পুলিশের রিপোর্ট এবং রাজ্যের অবস্থান এ মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
❤ Support Us







