Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৮, ২০২৬

চার রাজ্যে ২৮টি বিধান পরিষদ আসনে নির্বাচন, কর্ণাটকে বিজেপি-জেডিএস জোটের জয়, উত্তরপ্রদেশে পদ্ম-সাইকেলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, বিহারে খাতা খুলল জন সুরাজ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চার রাজ্যে ২৮টি বিধান পরিষদ আসনে নির্বাচন, কর্ণাটকে বিজেপি-জেডিএস জোটের জয়, উত্তরপ্রদেশে পদ্ম-সাইকেলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, বিহারে খাতা খুলল জন সুরাজ

দেশের চার রাজ্য—উত্তরপ্রদেশ, বিহার, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রে বিধান পরিষদের ২৮টি আসনে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা তুঙ্গে। গত ২৩ অক্টোবর স্নাতক ও শিক্ষক নির্বাচকমণ্ডলীর আসনগুলিতে ভোটগ্রহণ হয়। ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয় ভোটগণনা। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্ণাটকে চারটি আসনেই জয় পেয়েছে বিজেপি–জেডিএস জোট। উত্তরপ্রদেশে বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টির মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। বিহারে বিধান পরিষদে প্রথমবার প্রবেশ করেছে জন সুরাজ পার্টি। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের পাঁচটি আসনে বিজেপি, একনাথ শিন্ডের শিবসেনা ও অজিত পাওয়ারের এনসিপি-র সমন্বয়ে গঠিত মহাযুতি জোট ৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং বিরোধী মহা বিকাশ আঘাড়ি ২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।

কর্ণাটকের চারটি বিধান পরিষদ আসনেই জয় পেয়েছে বিজেপি ও তার সহযোগী দল জনতা দল (সেকুলার)। বিজেপি উত্তর-পূর্ব শিক্ষক, দক্ষিণ-পূর্ব স্নাতক এবং পশ্চিম স্নাতক কেন্দ্র ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরু শিক্ষক কেন্দ্রটি কংগ্রেসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে জেডিএস। ওই কেন্দ্রে জেডিএস প্রার্থী এ পি রঙ্গনাথ ১০,৮১০টি ভোট পেয়ে কংগ্রেসের বিদায়ী সদস্য পুট্টান্নাকে ৯০৮ ভোটে পরাজিত করেন। উত্তর-পূর্ব শিক্ষক কেন্দ্রে বিজেপির শশীল জি নমোশি কংগ্রেসের শরণাপ্পা মাত্তুরকে ৩,২৯৭ ভোটে হারান। দক্ষিণ-পূর্ব স্নাতক কেন্দ্রে বিজেপির কে এম সুরেশ এবং পশ্চিম স্নাতক কেন্দ্রে এস ভি সানকানুর জয়ী হন। চারটি আসনেই কংগ্রেসের পরাজয় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

উত্তরপ্রদেশের ১১টি বিধান পরিষদ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে পাঁচটি স্নাতক এবং ছ’টি শিক্ষক কেন্দ্র। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটটি আসনের ফল ঘোষণা হয়েছিল। তার মধ্যে বিজেপি পাঁচটি এবং সমাজবাদী পার্টি তিনটি আসনে জয় পেয়েছে। বাকি তিনটি আসনের চূড়ান্ত ফল তখনও নিশ্চিত হয়নি।

বিজেপির হয়ে মিরাট স্নাতক কেন্দ্রে দিনেশ কুমার গোয়েল, মিরাট শিক্ষক কেন্দ্রে শ্রীচন্দ শর্মা, লখনউ শিক্ষক কেন্দ্রে উমেশ দ্বিবেদী এবং বেরেলি–মোরাদাবাদ শিক্ষক কেন্দ্রে হরি সিং ধিল্লোঁ জয়ী হন। সমাজবাদী পার্টির লাল বিহারী যাদব বারাণসী শিক্ষক কেন্দ্রে এবং আকাশ আগরওয়াল আগ্রা শিক্ষক কেন্দ্রে জয় পান। এলাহাবাদ–ঝাঁসি স্নাতক কেন্দ্রেও সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী এগিয়ে ছিলেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গণনা চলাকালীন আগ্রা কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরেও বিতর্ক দেখা দেয়।

বিহারের আটটি বিধান পরিষদ আসনে—চারটি স্নাতক ও চারটি শিক্ষক কেন্দ্রে—নির্বাচন হয়। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচটি আসনের ফল ঘোষণা হয়েছিল। দরভাঙা শিক্ষক কেন্দ্রে জন সুরাজ পার্টির সুরেশ প্রসাদ রায় কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও বিদায়ী বিধান পরিষদ সদস্য মদন মোহন ঝাকে ৩২৪ ভোটে পরাজিত করেন। এর ফলে বিহার বিধান পরিষদে প্রথমবার জায়গা করে নেয় জন সুরাজ।

পাটনা শিক্ষক কেন্দ্রে বিজেপির নবল কিশোর যাদবকে হারিয়ে জয়ী হন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) ডা. সঞ্জীব কুমার। তিরহুত শিক্ষক কেন্দ্রে বিজেপির নরেন্দ্র প্রসাদ সিং জয়ী হন। সারন শিক্ষক কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী রাহুল রাজ জয় পান। বাকি আসনগুলির গণনা চলছিল বলে ওই সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মহারাষ্ট্রের পাঁচটি বিধান পরিষদ আসনে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে পুনে, নাগপুর ও ছত্রপতি সম্ভাজিনগর স্নাতক কেন্দ্র এবং পুনে ও অমরাবতী শিক্ষক কেন্দ্র রয়েছে। ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচটি আসনের চূড়ান্ত ফল তখনও ঘোষণা করা হয়নি। প্রাথমিক প্রবণতায় শাসক মহাযুতি জোট ও বিরোধী মহা বিকাশ আঘাড়ির প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়।

ভারতের রাজ্য আইনসভায় বিধান পরিষদ হল উচ্চকক্ষ। বিধানসভা ও বিধান পরিষদ—দুটি কক্ষ থাকলে তাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বলা হয়। বর্তমানে দেশের ছ’টি রাজ্যে বিধান পরিষদ রয়েছে—উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা।

বিধান পরিষদের নির্ধারিত সদস্যসংখ্যা উত্তরপ্রদেশে ১০০, মহারাষ্ট্রে ৭৮, বিহারে ৭৫, কর্ণাটকে ৭৫, অন্ধ্রপ্রদেশে ৫৮ এবং তেলেঙ্গানায় ৪০। এগুলি পরিষদের মোট আসনসংখ্যা; শূন্যপদের কারণে কোনও নির্দিষ্ট সময়ে কার্যরত সদস্যের সংখ্যা আলাদা হতে পারে।

বিধান পরিষদের সদস্যদের মেয়াদ ছ’বছর। প্রতি দু’বছর অন্তর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসর নেন। ফলে বিধান পরিষদ একটি স্থায়ী কক্ষ হিসেবে কাজ করে এবং বিধানসভার মতো সম্পূর্ণ ভেঙে যায় না। সদস্যদের একটি অংশ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, স্নাতক ও শিক্ষক নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে নির্বাচিত হন। বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যরাও নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য নির্বাচন করেন। বাকি সদস্যদের রাজ্যপাল মনোনীত করেন।

২০২৬ সালের এই নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে ১১টি, বিহারে আটটি, মহারাষ্ট্রে পাঁচটি এবং কর্ণাটকে চারটি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। সব মিলিয়ে আসনসংখ্যা ২৮। এর মধ্যে ১৪টি স্নাতক এবং ১৪টি শিক্ষক নির্বাচকমণ্ডলীর আসন।

স্নাতক ও শিক্ষক নির্বাচকমণ্ডলীর এই নির্বাচন সাধারণ বিধানসভা নির্বাচনের মতো সর্বসাধারণের ভোটে হয় না। সংশ্লিষ্ট নির্বাচকমণ্ডলীতে নাম নথিভুক্ত যোগ্য ভোটাররাই ভোট দেন। ফলে এই নির্বাচনগুলির ফল রাজ্য আইনসভার উচ্চকক্ষে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের সমীকরণে প্রভাব ফেললেও, সরাসরি বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণ করে না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!