Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৭, ২০২৬

একদিনে জোড়া এনকাউন্টার রাজ্যে ! গাইঘাটার পর ধুলিয়ানে সিআইডির গুলিতে মৃত্যু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
একদিনে জোড়া এনকাউন্টার রাজ্যে ! গাইঘাটার পর ধুলিয়ানে সিআইডির গুলিতে মৃত্যু

রাজ্যে একদিনে পরপর দু’টি এনকাউন্টারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের এনকাউন্টারের পর, বিকেলে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে সিআইডির গুলিতে মৃত্যু হল খুনের মামলায় অভিযুক্ত শামাউল হকের। তদন্তে বাধা দিয়ে তদন্তকারীদের সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয় বলে সিআইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

মৃত শামাউল হকের বাড়ি মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার ঘোড়াইপাড়ায়। প্রায় দু’মাস আগে ধুলিয়ানের বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডলকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল সে। ওই মামলায় শামাউল-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই থেকে শামাউল ও বাকি দুই অভিযুক্ত জেলবন্দি ছিল।

মঙ্গলবার তদন্তের প্রয়োজনে শামাউল হককে ধুলিয়ান বাজারের কাছে ডাকবাংলো মোড়ে নিয়ে যান সিআইডি আধিকারিকরা। সিআইডি সূত্রের দাবি, সেখানে তদন্তকারীদের কাজে বাধা দেয় শামাউল। এরপর আধিকারিকদের সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। সেই সময় আত্মরক্ষার্থে সিআইডি আধিকারিকরা গুলি চালান বলে জানা গিয়েছে।

সিআইডির গুলিতে গুরুতর জখম হয় শামাউল। এরপর তাকে স্থানীয় অনুপনগর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডলকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় তাঁর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গঙ্গার ধারে তাঁর পায়ের একাংশ পাওয়া গিয়েছিল বলে জানা যায়।

এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আধিকারিকদের বদলি করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ শামাউল হক-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মামলাটির তদন্তভার সিআইডির হাতে যায়।

ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গত তিন মাসে রাজ্যে তিনটি এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশ বা তদন্তকারীদের উপর অভিযুক্তদের হামলার চেষ্টার পর আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’ নীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

গাইঘাটার পর ধুলিয়ানে এই ঘটনার জেরে রাজ্যজুড়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। একদিনে পরপর দু’টি এনকাউন্টারে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যে নজিরবিহীন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই ধরনের ঘটনায় তদন্তের স্বচ্ছতা, আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানোর পরিস্থিতি এবং আইন মেনে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নগুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!