Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৭, ২০২৬

গাইঘাটায় ‘এনকাউন্টার’, পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে গুলি, আত্মরক্ষায় জলাশয়ে ঝাঁপ পুলিশ কর্মীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
গাইঘাটায় ‘এনকাউন্টার’, পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে গুলি, আত্মরক্ষায় জলাশয়ে ঝাঁপ পুলিশ কর্মীর

গাইঘাটায় ১৭ বছরের একাদশ শ্রেণির এক কিশোরীকে যৌন হেনস্থা ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয়েছে পুলিশি ‘এনকাউন্টার’-এ । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত ১২টার কিছু আগে অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধের পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল পুলিশ । সেখান থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত । পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথেই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাটি ।

পুলিশ সূত্রের দাবি, পুনর্নির্মাণ পর্ব শেষ করে ফেরার সময় হঠাৎই কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ওপর চড়াও হন অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস । তিনি এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালান । এই আকস্মিক হামলায় এক পুলিশকর্মী জখম হন এবং প্রাণ বাঁচাতে অন্য এক পুলিশকর্মী রাস্তার ধারের জলাশয়ে ঝাঁপ দেন ।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা চার রাউন্ড গুলি চালায় । যার মধ্যে একটি গুলি গিয়ে লাগে অভিযুক্ত প্রহ্লাদের গায়ে । এরপর দ্রুত তাঁকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন । আহত পুলিশকর্মীকেও হাসপাতালেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ।

গত শনিবার গাইঘাটা থানা এলাকার বাসিন্দা ১৭ বছরের ওই কিশোরী বাড়ির কাছে একটি জলসা দেখতে গিয়েছিল । তার পরিবার ও বন্ধুবান্ধবরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন । পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ একটি ফোন পেয়ে সে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ ছেড়ে বের হয় এবং আর ফেরেনি। সারারাত খোঁজাখুঁজির পর রবিবার সকালে তার বিবস্ত্র ও ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই রবিবার পুলিশ প্রহ্লাদ দাসকে (যিনি ওই পরিবারেরই এক আত্মীয়)গ্রেফতার করেছিল ।

সোমবার রাতের এই ঘটনার পর পুলিশ এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও, এনকাউন্টারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয়দের একাংশ।

নিহত কিশোরীর বাবা: “আমার মেয়েকে তো আর ফেরত পাব না । সরকারের নির্দেশে পুলিশ ভাল করেছে । অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেছিল, পুলিশকে গুলি চালিয়েছিল । পুলিশের পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি ।”

“এনকাউন্টার হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল । একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ওই মেয়েটাকে যে আক্রমণ করতে পারে, তার যা হয়েছে ভালই হয়েছে । যাতে এটা দেখে বাকিরা শিক্ষা নেয় । আমি পুলিশের কাজে খুব খুশি”, মন্তব্য স্থানীয় এক মহিলার ।

আরেক প্রৌঢ় এলাকাবাসী বলেন, “এত বড় একটা জঘন্য ঘটনা ঘটানোর পরেও তার মধ্যে কোনও অনুশোচনা বা ভয় ছিল না । সে প্রশাসনের বন্দুক কেড়ে নিয়ে প্রশাসনকেও আক্রমণ করতে চেয়েছিল । যা হয়েছে ভালো হয়েছে ।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!