- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ইজরায়েল নির্বাচন, কী বলছে এক্সিট পোল ?
গোটা বিশ্বের চোখ এখন ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের দিকে। প্রশ্নের মুখে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিশ্বাসযোগ্যতা। এরই মধ্যে এমন কিছু বুথ ফেরত সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। যা নেতানিয়াহুর জন্য যথেষ্টই উদ্বেগজনক। তিনটি প্রধান গণমাধ্যমের বুথ ফেরত সমীক্ষায় দেখা গেছে, কোনও একক রাজনৈতিক দলই সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে প্রাক্তন সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট শাসক জোটের চেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। ফলে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইজরায়েলের এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। এই নির্বাচনকে নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের ওপর একটা জনমত জরিপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ইজরায়েলের নির্বাচনে কোনও সুস্পষ্ট বিজয়ী পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বুথ ফেরত সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিন্তু তিনটি প্রধান গনমাধ্যমের পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে যে, প্রাক্তন সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট শাসক জোটের চেয়ে বেশি আসন পাবে।
ইজরায়েলি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ১২০টি আসনের মধ্যে ন্যূনতম ৬১টি আসন প্রয়োজন। এক্সিট পোলের অনুমান অনুযায়ী, কোনও পক্ষই এই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। চূড়ান্ত ফলাফলে কোনও দলই যদি সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তাহলে সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের মধ্যে আলোচনা ও জোট গঠনের প্রচেষ্টা আরও জোরদার হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, নতুন সরকার গঠনে বেশ কয়েক দিন বা সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।
চ্যানেল ১৩, চ্যানেল ১২ এবং সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম কান–এর এক্সিট পোল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট ১২০ সদস্যের নেসেটে ৫০টি আসন জিততে পারে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের চেয়ে কম। বিরোধী জোট ৫২–৫৩টি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, অন্যদিকে আরব দলগুলো ১৭–১৮টি আসন পেতে পারে। আই২৪নিউজের এক্সিট পোল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর শিবির কিছুটা ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই পোল অনুসারে, নেতানিয়াহুর জোট ৫৫টি আসন এবং আইজেনকোটের জোট ৪৯টি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আরব দলগুলো ১৬টি আসন জিততে পারে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ৭৭.৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। যা ২০২২ সালের তুলনায় ৭.১ শতাংশ বেশি এবং ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
বুথফেরত সমীক্ষায় আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির ভালো ফলাফলের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যারা নেতানিয়াহুর বিরোধী হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের অংশ নয়। চ্যানেল ১৩ এবং কান আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির জন্য ১৭টি আসনের পূর্বাভাস দিয়েছে, অন্যদিকে চ্যানেল ১২-এর অনুমান, তারা মোট ১৮টি আসন জিততে পারে। চ্যানেল ১৩ এবং কান ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে জয়েন্ট লিস্ট ১০টি আসন জিতবে, অন্যদিকে চ্যানেল ১২, ১১টি আসনের পূর্বাভাস দিয়েছে। তিনটি এক্সিট পোলই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে ইসলামপন্থী রা’আম পার্টি ৭টি আসন জিতবে।
নির্বাচন পরবর্তী আলোচনায় আরব দলগুলির প্রভাব বেড়ে যেতে পারে। জোটের বাইরে থেকে তাদের সমর্থন, কিংবা আস্থা ভোটে ভোটদানে বিরত থাকা, বিরোধী দলের সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে, নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোট উভয়েই আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোটের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
চ্যানেল ১৩ এবং কানের এক্সিট পোল অনুযায়ী, নাফতালি বেনেটের বিরোধী জোট বিয়্যাচাদ ১৪টি আসন জিতবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, অন্যদিকে চ্যানেল ১২-এর অনুমান অনুযায়ী তারা ১২টি আসন পাবে। ইয়ার গোলানের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টি চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-এর পোলে নয়টি এবং কানের পূর্বাভাসে ১০টি আসন জিতবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনটি সম্প্রচারকারী সংস্থাই পূর্বাভাস দিয়েছে যে, নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুকে সমর্থনকারী ডানপন্থী ও অতিধর্মীয় দলগুলি লিকুদ পার্টির সঙ্গে মিলে মোট ৫০টি আসন জিততে পারে। কিছু ইজরায়েলি বিশ্লেষক বলছেন যে, এক্সিট পোলের তথ্যের ভিত্তিতে, নির্বাচনের পরপরই নেতানিয়াহুর পক্ষে সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা কঠিন বলে মনে হচ্ছে।
সরকার গঠনের ব্যর্থ চেষ্টার পরিবর্তে, নেতানিয়াহু বিরোধী দলকে একটা জোট গঠনের সুযোগ দিতে পারেন এবং অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে এর পতনের জন্য অপেক্ষা করতে পারেন। এটা আরেকটা নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করতে পারে। এই ধরনের ফলাফল তাঁর ক্ষমতায় ফিরে আসার নিশ্চয়তা দেবে না, কিন্তু এটা নেতানিয়াহুকে সমর্থন পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার আরেকটা সুযোগ করে দিতে পারে।
নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মধ্যে একটা ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ গঠনের সম্ভাবনাও ক্ষীণ। কারণ দুই নেতার মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত এবং আইজেনকোট ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনও জোট গঠন করবেন না। যদিও অনিশ্চিত ফলাফলের মধ্যে এই বিকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, নেতৃত্ব এবং সরকারের দিকনির্দেশনা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সমঝোতায় পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে।
নির্বাচনের পরপরই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি ভোট গণনা শুরু করেছে। চূড়ান্ত গণনা ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা হবে। আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পর, রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগ রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে পরামর্শ করবেন এবং এমন একজন সংসদ সদস্যকে মনোনীত করবেন, যিনি সরকার গঠন করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। মনোনীত ব্যক্তিকে কমপক্ষে ৬১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন নিয়ে একটা জোট সরকার গঠনের জন্য ৪২ দিন পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে।
যদি কোনও প্রার্থী সফল না হন, তবে অন্য একজন সংসদ সদস্যকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা না যায়, তবে ইজরায়েলকে শেষ পর্যন্ত নতুন নির্বাচন করতে হতে পারে। তৎকালীন সময়ে, বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে।
ইজরায়েলের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থায়, ভোটাররা দলগুলির একটা তালিকা থেকে তাদের পছন্দের দল বেছে নেন। শুধুমাত্র সর্বাধিক আসন পেলেই কোনও দল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকার গঠনের অধিকার পায় না।
❤ Support Us






