- দে । শ
- অক্টোবর ২৯, ২০২৬
কালীপুজোর শব্দতান্ডব রুখতে কড়াকড়ি
কালীপুজোর আগে বাজি ব্যবহারের পাশাপাশি ফানুস ওড়ানো নিয়েও কড়া অবস্থান নিল রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন। উৎসবের মরশুমে বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট—বিভিন্ন জায়গায় ফানুস বা এয়ার বেলুন ওড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু এবার এ ধরনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা। তাঁর বক্তব্য, অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া ফানুস কিংবা এয়ার বেলুন ওড়ানোর ঘটনায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতেই নিয়ম মেনে ফানুস ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
কালীপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ-প্রশাসনের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে নবান্নের সভাঘর থেকে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক নির্দেশিকা ও সতর্কবার্তার কথা তুলে ধরা হয়। স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ বাজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব গ্রিন বাজির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের কথাও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রসচিব জানান, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ এবং বৃদ্ধাশ্রমের মতো সাইলেন্ট জোনের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও ধরনের শব্দবাজি ফাটানো যাবে না। এই এলাকাগুলিতে নীরবতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। উৎসবের আনন্দ যাতে অন্যের অসুবিধা বা দুর্ভোগের কারণ না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে সকলকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কালীপুজোর আগে বাজির বাজারের উপরেও নজরদারি চালানো হবে। নিষিদ্ধ বাজির বিক্রি ও ব্যবহার রুখতে লাগাতার অভিযান চালাবে পুলিশ-প্রশাসন। উৎসবের দিনগুলিতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও খামতি রাখা হবে না। বিভিন্ন এলাকায় চলবে পুলিশি টহলদারি বা পেট্রোলিং। বাজি ব্যবহারে অনিয়ম কিংবা নিষিদ্ধ বাজি সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য কন্ট্রোল রুম চালুর কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব।
তবে শুধু প্রশাসনিক কড়াকড়ি নয়, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংঘমিত্রা ঘোষ। তাঁর কথায়, “নিজের আনন্দ যেন অন্যের দুঃখের কারণ না হয়।” তাই শব্দদূষণ এড়ানো, সাইলেন্ট জোনে নীরবতা বজায় রাখা এবং নিয়ম মেনে বাজি ব্যবহারের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, কালীপুজোর আগে বাজি ও ফানুস ব্যবহারে সতর্ক রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন। দুর্ঘটনা, শব্দদূষণ এবং নিষিদ্ধ বাজির ব্যবহার রুখতে একদিকে যেমন চলবে নজরদারি ও অভিযান, অন্যদিকে তেমনই উৎসবের আনন্দকে নিরাপদ রাখতে নাগরিক সচেতনতার উপরেও জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
❤ Support Us





