Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৯, ২০২৬

দিল্লির রেস কোর্স মসজিদ ভাঙার প্রক্রিয়ায়, চার সপ্তাহের স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লির রেস কোর্স মসজিদ ভাঙার প্রক্রিয়ায়, চার সপ্তাহের স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের কাছে অবস্থিত দিল্লির রেস কোর্স মসজিদ ভাঙার আশঙ্কার মধ্যে আপাতত কিছুটা স্বস্তি মিলল। বৃহস্পতিবার দিল্লি হাই কোর্টকে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমি ও উন্নয়ন দফতর (এলঅ্যান্ডডিও) জানিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহ মসজিদটির বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না। ওয়াকফের আওতাভুক্ত এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত এই মসজিদটি রেস কোর্স ক্লাবের ভিতরে অবস্থিত। প্রায় ৫৩ একর জমিজুড়ে রয়েছে ওই ক্লাব। আশপাশের জমি পুনরুদ্ধারে কেন্দ্রীয় সরকারের চলমান উদ্যোগের জেরে মসজিদটি ভেঙে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

দিল্লি রেস ক্লাব, জয়পুর পোলো গ্রাউন্ড এবং প্রায় ৭০০ পরিবারের বসতিযুক্ত একটি বস্তি এলাকা নিয়ে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি রয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই বস্তি এলাকার ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের (এমওএইচইউএ) অধীন ভূমি ও উন্নয়ন দফতর বর্তমানে ওই এলাকার জমি পুনরুদ্ধার ও নিজেদের দখলে নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

বিচারপতি অনীশ দয়াল তাঁর নির্দেশে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য নথিভুক্ত করেছেন। কেন্দ্রের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল আশিস দীক্ষিত। ভূমি ও উন্নয়ন দফতরের ডেপুটি ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসার কুণাল ভাস্করের নির্দেশের ভিত্তিতে কেন্দ্রের এই বক্তব্য আদালতে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে জানিয়েছে, দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের জমা দেওয়া আবেদন আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ভূমি ও উন্নয়ন দফতর। তত দিন মসজিদটির বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না।

তবে মসজিদে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়ার বিরোধিতা করেছে কেন্দ্র। তাদের যুক্তি, ওই এলাকায় এখনও ভাঙার কাজ চলছে। ফলে সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও বেরিয়ে আসা নিরাপদ নয়। আশিস দীক্ষিত আদালতে বলেন, “এই মুহূর্তে সেখানে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া নিরাপদ নয়। এলাকায় ভাঙার কাজ চলছে। সকলের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মসজিদের পাশের মন্দিরেও প্রবেশের উপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।”

মসজিদের এক উপাসক সৈয়দ আহমেদ সৌদ আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন, মসজিদে অবাধে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হোক এবং সেটি ভেঙে ফেলার মতো কোনও পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হোক। তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী এম সুফিয়ান সিদ্দিকি। কেন্দ্রের বক্তব্যের বিরোধিতা করে সিদ্দিকি দাবি করেন, ভাঙার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে।

তবে বিচারপতি দয়াল এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “আমরা এই অনুমতি দেব না। ভাঙার কাজ চলাকালীন কেউ আহত হলে তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে? বিষয়টি আপাতত থাকতে দিন। ওদের সিদ্ধান্ত নিতে দিন। কেন্দ্রের বক্তব্য যুক্তিসঙ্গত। প্রার্থনার জন্য মসজিদে প্রবেশের অনুমতি দিতে আমরা তাদের বাধ্য করতে পারি না।”

আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন মসজিদটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টের সঙ্গে এলাকাটির ছবি দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে আরও জানিয়েছে, তারা আপাতত ১৯ অক্টোবর দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের জমা দেওয়া আবেদনটিরই নিষ্পত্তি করবে। সৈয়দ আহমেদ সৌদের ব্যক্তিগত আবেদন বিবেচনা করা হবে না। কেন্দ্রের যুক্তি, সৌদের আবেদন নিয়ে আলাদা করে পদক্ষেপ করলে ভবিষ্যতে আরও বহু উপাসক একই ধরনের দাবি নিয়ে ভূমি ও উন্নয়ন দফতরের দ্বারস্থ হতে পারেন। তাতে একাধিক আবেদন ও দাবি সামলাতে হবে দফতরকে, যা একটি ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে।

আশিস দীক্ষিত বলেন, “দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট দফতর একটি সমাধানসূত্র বের করার চেষ্টা করছে। আমরা চাই না, একাধিক উপাসক আলাদা আলাদা ভাবে দফতরের কাছে আবেদন জানাতে শুরু করুন।”

উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড ভূমি ও উন্নয়ন দফতরকে চিঠি দিয়ে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ পুনরায় চালু করার আবেদন জানিয়েছিল। গত ৭ অক্টোবর ওই দুই পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। ওয়াকফ বোর্ডের আবেদনে মসজিদটি ভেঙে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, মসজিদটি ওয়াকফ-নথিভুক্ত এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা বা গ্রেড-২ হেরিটেজ স্ট্রাকচার হিসেবে স্বীকৃত। তাই বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করার জন্য দফতরকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে ওই আবেদনে সরাসরি মসজিদটি ভাঙার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, ২২ অক্টোবর ভূমি ও উন্নয়ন দফতরের কাছে নিজের আবেদন জমা দেন সৈয়দ আহমেদ সৌদ। সেখানে তিনি মসজিদে প্রবেশের অনুমতি পুনরায় চালু করার দাবি জানান। পাশাপাশি, মসজিদটির বিরুদ্ধে ভাঙা, কাঠামো খুলে ফেলা, সিল করে দেওয়া, দখল থেকে বঞ্চিত করা, জোর করে প্রবেশে বাধা দেওয়া, কাঠামোগত পরিবর্তন করা অথবা অন্য কোনও ধরনের জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ না করার আবেদনও জানান তিনি।

আপাতত চার সপ্তাহের জন্য মসজিদটির বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ না করার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে মসজিদে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নিয়ে এখনও কোনও অনুমতি মেলেনি। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের শুনানিতে কেন্দ্রের রিপোর্ট এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!