- বি। দে । শ
- নভেম্বর ৩, ২০২৬
ইউক্রেনে রাশিয়ার তাণ্ডব, ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্রে বোমা হামলা
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে আবার চরম মূল্য দিতে হল সাধারণ মানুষকে। সোমবার দক্ষিণ ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামে এক ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র এবং তার নিকটবর্তী একটা আশ্রয়কেন্দ্রে ব্যাপক বোমা হামলা চালাল রাশিয়া। এই হামলায় ২৬ জন মারা গেছেন। প্রায় শ’খানেক আহত। এমনই দাবি করেছেন ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়া এই এলাকায় ১০টি গাইডেড বোমা ফেলেছে। তাঁর মতে, যে স্কুল ভবনে সাধারণ মানুষকে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছিল, সেই স্কুলটিও এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ হামলা নিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধের সদিচ্ছা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই হামলা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে রাশিয়া উত্তেজনা কমানোর মেজাজে নেই। একটা সময় ছিল যখন দুই দেশের মধ্যে শান্তির পথে এগোনোর আশা ছিল। কিন্তু এই হামলা সেই আশা চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়া বিশ্বকে এই বার্তা দিচ্ছে যে, তারা যুদ্ধকে আরও বাড়িয়ে তুলতে চায়।’
সোমবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে একটা স্বল্প মেয়াদি যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। এই চুক্তি অনুসারে, রাশিয়া এবং ইউক্রেন সীমান্ত বরাবর অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতির এলাকাগুলিতে ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ এবং লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। এই এলাকাগুলির মধ্যে রাশিয়া অধিকৃত এলাকাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়াও, ইউক্রেনের কর্মকর্তারা সোমবার রাশিয়ার বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলার কথাও জানিয়েছেন।
যুদ্ধের মধ্যেই রবিবার গভীর রাতে ইউক্রেনে এবং সোমবার সকালে রাশিয়ায় আরেকটা সমস্যা দেখা দেয়। উভয় দেশের সরকারি জরুরি সতর্কতা অ্যাপ হ্যাক করা হয়েছিল। এরপর মানুষের মোবাইল ফোনে ভুয়া সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। ইউক্রেনে মানুষ পারমাণবিক হামলা, ক্রমবর্ধমান তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা এবং রাসায়নিক বিপদের মতো সতর্কবার্তা পান। রাজধানী কিয়েভে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার কথাও শোনা যায়। এই বার্তাগুলি ইংরেজি, রুশ এবং ইউক্রেনীয় ভাষায় ছিল। ইংরেজি বার্তাগুলিতেও অনেক বানান ও ব্যাকরণের ভুল ছিল।
রুশ ভাষায় লেখা একটা বার্তায় বলা হয়েছিল, ‘ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র আসছে। সমগ্র ইউক্রেনের ওপর পারমাণবিক হুমকি ঘনিয়ে আসছে। আতঙ্কিত হবেন না, ওরেশনিক আসছে।’ ওরেশনিক হল একটা রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। তবে, এই বার্তাগুলি ইউক্রেনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারেনি। আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে, মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মজার পোস্ট এবং তাদের পোষা প্রাণীর ছবি শেয়ার করেছে। রুশ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক টেলিগ্রাম চ্যানেল দাবি করেছে যে, হিটকোর নামের একটা হ্যাকিং গ্রুপ ইউক্রেনের জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা হ্যাক করার দায় স্বীকার করেছে।
❤ Support Us








