- বি। দে । শ
- নভেম্বর ২, ২০২৬
৩৫ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে সোজা রাস্তায় আছড়ে পড়ল বিমান ! ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত ৯
ফ্লরিডায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বিমানের পাইলট-সহ মোট ৯ জন। মাঝ আকাশে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দক্ষিণ ফ্লরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে ভেঙে পড়ে একটি ছোট বাণিজ্যিক জেট। প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত গতিতে নীচে নামতে নামতে বিমানটি রাস্তার উপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। আগুনের গ্রাসে চলে যায় গোটা বিমানটি। দুর্ঘটনার ঠিক আগে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে পাইলটের পাঠানো শেষ বিপদবার্তাও সামনে এসেছে।
আমেরিকার পরিবহণ সচিব সিন ডাফি সমাজমাধ্যমে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিয়ারজেট ৬০ (Learjet 60) মডেলের বিমানটি রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ ফ্লরিডার পাম বিচ কাউন্টির আকাশে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটিতে পাইলট-সহ মোট ন’জন যাত্রী ও কর্মী ছিলেন। তাঁদের কারও প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
জানা গিয়েছে, বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। যাত্রাপথে প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছনোর পরই বিমানে সমস্যা দেখা দেয়। পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান, বিমানে বরফ জমে যাওয়ার কারণে যান্ত্রিক সমস্যা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানটিকে আরও দু’হাজার ফুট উপরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু তার পরেই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিমানটি আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাড়াভাবে নীচের দিকে নামতে থাকে। প্রথম দিকে প্রতি মিনিটে প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতা কমছিল বিমানটির। পরে সেই পতনের গতি বেড়ে মিনিটে ২০ হাজার ফুট এবং শেষ পর্যায়ে ৩০ হাজার ফুটে পৌঁছয় বলে জানা গিয়েছে। কোনও ভাবেই বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে পারেননি পাইলট।
বিমানটি নীচের দিকে নামার সময় বার বার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে বিপদবার্তা পাঠান পাইলট। তাঁর শেষ বার্তায় শোনা যায়, ‘‘আমরা নামছি। মে ডে, মে ডে ! আমরা প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট গতিতে নীচে নামছি। একেবারে রাস্তায় গিয়ে আছাড় খেতে চলেছে আমাদের বিমান।’’ এর পর আর পাইলটের কাছ থেকে কোনও বার্তা পাওয়া যায়নি।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দক্ষিণ ফ্লরিডার একটি রাস্তার ধারে প্রচণ্ড শব্দে আছড়ে পড়ে বিমানটি। বিমানের সামনের অংশ বা নাক সরাসরি রাস্তায় ধাক্কা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের বিশাল গোলায় পরিণত হয় বিমানটি। দুর্ঘটনাস্থলে রাস্তার উপর তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত।
দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি ওই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত যানবাহন চলাচল করে। ফলে বিমানটি যদি আরও কয়েক হাত আগে বা পরে আছড়ে পড়ত, তা হলে চলন্ত গাড়ি কিংবা বাড়ির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। সে ক্ষেত্রে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। বিমানটিকে আকাশ থেকে দ্রুত নীচে নেমে আসতে দেখে রাস্তার উপর বেশ কয়েকটি গাড়ি থেমে যায়। গাড়ির ভিতরে থাকা কয়েক জন সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার দৃশ্য মোবাইল ক্যামেরায় রেকর্ড করেন। পরে সেই ভিডিয়ো সামনে আসে। তাতে দেখা যায়, তিরের ফলার মতো খাড়াভাবে মাটির দিকে নেমে আসছে বিমানটি। প্রথম দর্শনে সেটিকে ক্ষেপণাস্ত্র বলেও ভুল হতে পারে। বিমানের নাক ছিল নীচের দিকে এবং লেজ ছিল আকাশমুখী।
ঠিক কী কারণে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বরফ জমে যাওয়া এবং যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি সামনে এলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করবে আমেরিকার ফেডেরাল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)। কীভাবে মাঝ আকাশে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারাল, কেন দ্রুত উচ্চতা কমতে শুরু করল এবং শেষ মুহূর্তে পাইলটের পাঠানো বিপদবার্তার পরেও কেন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হল না, তদন্তে সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
❤ Support Us








