Advertisement
  • বি। দে । শ
  • অক্টোবর ৩১, ২০২৬

ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, সাত দিনের মধ্যে খুলবে হরমুজ প্রণালী ! দোহায় ইরান-আমেরিকা বৈঠকের প্রস্তুতি, ‘শীঘ্রই শেষ হবে যুদ্ধ’, দাবি ট্রাম্পের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, সাত দিনের মধ্যে খুলবে হরমুজ প্রণালী ! দোহায় ইরান-আমেরিকা বৈঠকের প্রস্তুতি, ‘শীঘ্রই শেষ হবে যুদ্ধ’, দাবি ট্রাম্পের

সাত মাসের সংঘাতের পর অবশেষে কি যুদ্ধ থামার পথে এগোচ্ছে আমেরিকা ও ইরান? পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার আবহে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির প্রাথমিক খসড়া। আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা ওই খসড়ায় ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনো দেশে হস্তান্তর অথবা তার সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার সাত দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তুরস্কের ইস্তানবুলের পরিবর্তে কাতারের রাজধানী দোহায় সরাসরি আলোচনায় বসতে পারে ওয়াশিংটন ও তেহরান। সম্ভাব্য চুক্তির বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে চিনকে নিশ্চয়তাপ্রদানকারী দেশের ভূমিকা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে দাবি ওই সংবাদমাধ্যমের।

তবে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত নেই। এক দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত খুব শীঘ্রই শেষ হতে পারে। অন্যদিকে, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস করতে নারাজ ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের বক্তব্য, ইরানকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে তারা কোনো ভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। ফলে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা তৈরি হলেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার প্রধান শর্তগুলি নিয়ে মতপার্থক্য এখনো যথেষ্ট তীব্র। জানা যাচ্ছে, প্রস্তাবিত খসড়ায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কোনো পারস্পরিক সম্মত তৃতীয় দেশে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলির বিনিময়ে আমেরিকাকেও ইরানের উপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, বন্দর অবরোধ এবং অন্যান্য আর্থিক বিধিনিষেধ শিথিল করতে হবে।

চুক্তির কোনো এক পক্ষ যাতে অন্য পক্ষের কাছ থেকে সমতুল্য প্রতিশ্রুতি না পেয়ে একতরফা ভাবে বড়ো ধরনের কোনো ছাড় দিতে বাধ্য না হয়, সে জন্য স্বাধীন যাচাই ব্যবস্থার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। চুক্তির প্রতিটি পর্যায় কার্যকর হওয়ার আগে উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা পালিত হয়েছে, তা স্বাধীন ভাবে পরীক্ষা করা হবে। কোনো পক্ষ শর্ত লঙ্ঘন করলে অথবা বাস্তবায়নে অযথা বিলম্ব ঘটালে মধ্যস্থতাকারী ও নিশ্চয়তাপ্রদানকারী দেশগুলিকে নিয়ে গঠিত বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে তার সমাধানের চেষ্টা হবে। অর্থাৎ, কেবল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা নয়, ভবিষ্যতে যাতে ফের সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্যও একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। এ প্রস্তাবে চিনের সম্ভাব্য ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের সঙ্গে চিনের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ আর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও বেজিংয়ের অন্যতম স্বার্থ। ফলে কোনো চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চিনকে গ্যারান্টার হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাব কার্যকর হলে আলোচনার সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে চিন, আমেরিকা কিংবা ইরানের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনোকিছুই ঘোষণা করা হয়নি।

এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনরুদ্ধার, আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে সক্রিয় হয়েছে কাতার। ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘আইআরএনএ’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর এক প্রবীণ উপদেষ্টার নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই ওই সফর বলে জানা গিয়েছে। ইরানের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা মহলের সঙ্গে আলোচনা করে সংঘাত প্রশমনের সম্ভাব্য পথ খুঁজে দেখাই প্রতিনিধি দলের উদ্দেশ্য। কাতারের এই কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেই আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি চিঠি পৌঁছেছে ইরানের নিরাপত্তা আধিকারিক মোহসেন রেজ়াইয়ের কাছে। কাতারের দূতদের হাত দিয়েই চিঠিটি তেহরানে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করার উদ্দেশ্যে পাঠানো ওই চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনও পূর্বশর্তের পরিবর্তে সম্ভাব্য আলোচনার কাঠামোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আমেরিকার সামরিক হামলার সম্ভাবনা এড়িয়ে কূটনৈতিক পথে সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রস্তাবকে তেহরান ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করেছে বলেও দাবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। যদিও চিঠির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আসেনি।

শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যেও। কানসাস সিটির রেডিয়ো স্টেশন কেসিএমও-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হতে পারে। তবে কী ভাবে এবং কোন শর্তে যুদ্ধের অবসান হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি। ট্রাম্পের বলেছেন, ‘খুব শীঘ্রই যুদ্ধ বন্ধ হবে।’ তবে তিনি বলেছেন, ‘ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র কখনোই তৈরি হবে না, তেমন নিশ্চয়তারও প্রয়োজন রয়েছে।’ অর্থাৎ, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আশাবাদী বার্তা দিলেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নিজের অবস্থান থেকে সরছেন না ট্রাম্প। তেহরানের কাছ থেকে স্পষ্ট নিশ্চয়তা চান তিনি, যাতে ভবিষ্যতে ইরান কোনো ভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। ওয়াশিংটনের কাছে এই নিশ্চয়তাই যে কোনো সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত, তা আবারও স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে, ইরান বরাবরই দাবি করে এসেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচির উদ্দেশ্য অসামরিক ও শান্তিপূর্ণ। ফলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা, মজুত ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা কতটা সম্ভব হবে, তা অনিশ্চিত।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ছায়াও স্পষ্ট। আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। ওই নির্বাচনের ফলের উপর নির্ভর করবে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ কতটা বজায় থাকে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জেরে আমেরিকার অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষত জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। যুদ্ধের আর্থিক ও রাজনৈতিক মূল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ফলে নির্বাচনের আগে সংঘাতের অবসান ঘটানো ট্রাম্পের কাছে রাজনৈতিক ভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। যদিও আমেরিকার অভ্যন্তরে যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে, তেমনই ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের সমর্থকও রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেও বার বার দাবি করেছেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে আটকানোই তাঁর অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। কখনও ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন, কখনো আবার ইরানের সঙ্গে একটি ‘বড় এবং ভাল’ চুক্তি হওয়ার আশাপ্রকাশ করেছেন। ফলে আলোচনার বার্তার পাশাপাশি সামরিক চাপ বজায় রাখার কৌশলও যে ওয়াশিংটন ছাড়ছে না, তা স্পষ্ট।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও ট্রাম্প ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, তেহরান আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী হলেও দেশের আর্থিক সঙ্কট ক্রমশ গভীর হচ্ছে। এমনকি সেনা ও পুলিশকর্মীদের বেতন দেওয়ার মতো সামর্থ্যও ইরানের নেই বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা আলোচনা করতে চায়। ওরা কথা বলছে। কিন্তু ওরা নিজেদের সেনাদের বেতন দিতে পারছে না, পুলিশকর্মীদেরও বেতন দিতে পারছে না। ওরা বড়ো ধরনের সমস্যার মধ্যে রয়েছে। আর সত্যি বলতে, আমাদের হাতে সময় রয়েছে। এটা যুদ্ধ, তবে সাধারণ ধরনের কোনো যুদ্ধ নয়। আমরা সাত মাস ধরে সেখানে রয়েছি।’ যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে আমেরিকার খরচ তুলনায় খুবই কম। এমনকি ভেনেজ়ুয়েলার মাধ্যমে ওই ব্যয়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি অর্থ উঠে এসেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, ‘আপেক্ষিক বিচারে আমরা খুব সামান্য অর্থ খরচ করছি। কেউ একজন বলছিলেন, আপনারা তো অর্থ ব্যয় করছেন। আমি বলেছি, আমরা যে অর্থ খরচ করেছি, ভেনেজ়ুয়েলা নামের একটি জায়গা থেকে তার দশ গুণেরও বেশি ইতিমধ্যে পুষিয়ে নিয়েছি।’ তবে ভেনেজ়ুয়েলার মাধ্যমে কী ভাবে এই অর্থ উঠে এসেছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

এদিকে, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সমাধানে তুরস্কও কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার আমেরিকায় আয়োজিত ‘জি২০’-র বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে বৈঠক করেন তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুরস্কের সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের আলোচনায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলতে থাকা কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে। এর কয়েক দিন আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সেই কথোপকথনেও সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিল আঙ্কারা।

এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাবের গুরুত্বও যথেষ্ট। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এই প্রণালী। এর উপর নির্ভরশীল বিশ্বের বহু দেশের তেল ও গ্যাস সরবরাহ। বিশেষত ভারত-সহ এশিয়ার একাধিক দেশের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজের গুরুত্ব অপরিসীম। সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, পরিবহণ খরচ ও জ্বালানি সরবরাহের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে সাত দিনের মধ্যে এই জলপথ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব শুধু ইরান ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার বিষয় নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নও। সব মিলিয়ে, সাত মাসের সংঘাতের পর ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার নতুন পরিসর তৈরি হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কাতারের মধ্যস্থতা, তুরস্কের কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং চিনের সম্ভাব্য নিশ্চয়তাপ্রদানকারী ভূমিকা —  শান্তি আলোচনার একাধিক পথ খুলছে। কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, পরমাণু অস্ত্র তৈরির নিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আমেরিকার সামরিক অবরোধের মতো প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান এখনো পুরোপুরি মেলেনি। তার উপর ট্রাম্পের এক দিকে দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশ্বাস, অন্য দিকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে দোহায় সম্ভাব্য বৈঠক শেষ পর্যন্ত স্থায়ী শান্তির পথ খুলতে পারবে, না কি ফের ভেস্তে যাবে কূটনৈতিক উদ্যোগ, আপাতত সেই দিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!