Advertisement
  • দে । শ
  • নভেম্বর ২, ২০২৬

ভোটের আগে পাঞ্জাবে বড় ধাক্কা আপের ! দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ তিন বিদ্রোহী বিধায়কের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোটের আগে পাঞ্জাবে বড় ধাক্কা আপের ! দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ তিন বিদ্রোহী বিধায়কের

পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল শাসকদল আম আদমি পার্টি (আপ)। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের নেতৃত্বাধীন সরকারের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন আপের তিন বিদ্রোহী বিধায়ক। তাঁদের দাবি, পাঞ্জাবেও উত্তরপ্রদেশের মতো প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলার মডেল চালু করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশে যেভাবে মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, পাঞ্জাবেও সেই ধরনের পদক্ষেপ দরকার বলে মনে করছেন তাঁরা।

বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন বিধায়ক হলেন হরমিত সিং পাঠানমাজরা, চেতন সিং জৌরামাজরা এবং কুঁওর বিজয় প্রতাপ সিং। সোমবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তাঁরা। এই যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পাঞ্জাব বিজেপির ইনচার্জ সতীশ পুনিয়া, কো-ইনচার্জ বীরেন্দ্র সচদেবা-সহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।

দলীয় সূত্রে খবর, পাতিয়ালা জেলার সানোর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হরমিত সিং পাঠানমাজরা এবং সামানা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী চেতন সিং জৌরামাজরাকে সম্প্রতি দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে সাসপেন্ড করেছিল আম আদমি পার্টি। এরপর গতকালই তাঁরা দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। অন্যদিকে, অমৃতসর উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার কুঁওর বিজয় প্রতাপ সিংকে ২০২৫ সালের ২৯ জুন পাঁচ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছিল আপ। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে সোমবার তিনি বিধানসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে নিজের বিধায়কপদ থেকে ইস্তফাপত্র জমা দেন।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিন নেতাই ভগবন্ত মান সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে সরব হন। তাঁদের দাবি, পাঞ্জাবে মাদক সমস্যার মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ আপ সরকার। গত পাঁচ বছরে রাজ্যের ঋণের বোঝা ক্রমাগত বেড়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। অথচ এই সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য সরকার কার্যকর কোনও পদক্ষেপ করেনি বলেও অভিযোগ তাঁদের।

এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়ে কুঁওর বিজয় প্রতাপ সিং বলেন, “পাঞ্জাব নিজের অস্তিত্বের লড়াই লড়ছে। দুর্বৃত্তরা এই সরকারের অংশ হয়ে উঠছে। পাঞ্জাবে সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। আমার মনে হয়, একমাত্র বিজেপিই পাঞ্জাবে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। উত্তরপ্রদেশে যেমন মাফিয়ারাজ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, পাঞ্জাবেও বিজেপি সরকার রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে।”

উল্লেখ্য, আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। অর্থাৎ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলির হাতে সময় অত্যন্ত সীমিত। নির্বাচন কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই শনিবার নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বড় পদক্ষেপ করেছে আম আদমি পার্টি। রাজ্যের মোট ১১৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৪০টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে আপ। অর্থাৎ রাজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ইতিমধ্যেই প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে শাসকদল। বাকি আসনগুলির প্রার্থীও পরবর্তী ধাপে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

সব মিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিন বিদ্রোহী বিধায়কের বিজেপিতে যোগদান পাঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রচারে এগিয়ে যেতে চাইছে আপ, অন্যদিকে দলত্যাগী বিধায়কদের হাত ধরে শাসকদলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ আরও জোরদার করতে চাইছে বিজেপি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!