- দে । শ
- নভেম্বর ২, ২০২৬
মহাকরণের পিছনে বহুতলে ভয়াবহ আগুন ! পুড়ল নথি-কম্পিউটার, ঘটনাস্থলে দমকলের ১০ ইঞ্জিন
সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনের সকাল। তার আগেই আগুনের কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেল কলকাতার প্রশাসনিক কেন্দ্র ডালহৌসির একাংশ। রবিবার গভীর রাতে মহাকরণ তথা ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ের পিছনে লায়ন্স রেঞ্জের একটি বহুতলে আগুন লাগাকে কেন্দ্র করে ছড়াল আতঙ্ক। বহুতলের উপরের দিক থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখে প্রথমে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁরাই খবর দেন পুলিশ ও দমকলকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক দমকলের ইঞ্জিন এসে পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। আগুনের তীব্রতা বিবেচনা করে মোতায়েন করা হয় অন্তত ১০টি ইঞ্জিন। রাতভর চলে আগুন নেভানোর কাজ। সোমবার সকালেও বহুতলের বিভিন্ন অংশে আগুনের অবশিষ্ট আঁচ নেভাতে ব্যস্ত থাকতে হয় দমকলকর্মীদের।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বহুতলটির চারতলায় এক সংস্থার অফিসে আগুন লাগে। ওই ভবনে একাধিক বেসরকারি সংস্থার দফতর রয়েছে। রবিবার গভীর রাতে অফিস বন্ধ থাকার সময়ে কী ভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে বহুতলের উপর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। পরে তা ক্রমশ ঘন হতে থাকে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত দমকলকে খবর দেওয়া হয়। এর পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে হাত লাগান দমকলকর্মীরা। অগ্নিকাণ্ডে বহুতলের ওই অফিসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর। পুড়ে গিয়েছে বহু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। রেহাই পায়নি কম্পিউটার-সহ অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জামও। আগুনের উৎস চিহ্নিত করা এবং ভবনের ভিতরে কোথায় কোথায় তা ছড়িয়েছে, তা বুঝতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন দমকলকর্মীরা। তাঁদের কাজে সাহায্যের জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয় স্মোক ডিটেক্টর ও গ্যাস মাস্ক।
সোমবার সকাল নাগাদ আগুনের মূল অংশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। ভবনের কয়েকটি জায়গায় বিচ্ছিন্ন ভাবে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সেই পকেট ফায়ার নেভানোর পাশাপাশি শুরু হয় কুলিংয়ের কাজ। অর্থাৎ, আগুন নিভে যাওয়ার পরেও যাতে কোথাও জমে থাকা তাপ থেকে ফের অগ্নিকাণ্ড না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে ভবনের বিভিন্ন অংশ ঠান্ডা করার কাজ চালান দমকলকর্মীরা। কী কারণে আগুন লাগল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক তদন্তেই কারণ জানাতে নারাজ দমকল আধিকারিকেরা। আগুন সম্পূর্ণ নেভার পর ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে বহুতলটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি মানা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলের অদূরেই রয়েছে মহাকরণ। রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্মের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এই ঐতিহাসিক ভবনে এখনো কয়েকটি সরকারি দফতর রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কেন্দ্রের এত কাছে একটি বহুতলে আগুন লাগার ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ ছড়ায়। যদিও অগ্নিকাণ্ডের সময় অফিস বন্ধ থাকায় কর্মীদের উপস্থিতি ছিল না বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে ভবনের ভিতরে কেউ আটকে পড়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো সামনে আসেনি।
কলকাতায় পর পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। কয়েক দিন আগেই দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত সাউথ সিটি আবাসনের একটি টাওয়ারের ২৮ তলার স্টোররুমে আগুন লাগে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের সাতটি ইঞ্জিন। আবাসনের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে খালি করে দেওয়া হয় বহুতলটি। প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই ঘটনায় অবশ্য কেউ হতাহত হননি। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর কলকাতার চিৎপুরের নবাবপট্টি এলাকায় একটি গুদামে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সেখানে রাসায়নিক এবং পোশাক তৈরির নানা সামগ্রী মজুত ছিল। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজে লাগানো হয়েছিল দমকলের ১০টি ইঞ্জিন।
তবে চলতি বছরের গোড়ায় আনন্দপুরের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি এখনো টাটকা। ২৬ জানুয়ারি ভোরে পর পর দু-টি গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় গুদাম এবং সংলগ্ন কারখানার একাংশ। পরবর্তী সময়ে ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭। সেই ঘটনার পরেও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে বাণিজ্যিক ভবন, আবাসন এবং গুদামগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। ডালহৌসির বহুতলে আগুনের ঘটনায় প্রাণহানির খবর না মিললেও, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সম্পত্তির বিপুল ক্ষয়ক্ষতি নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়ে গেল শহরকে।
❤ Support Us






