- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ৪, ২০২৬
পুলিশের ‘এনকাউন্টারে’ নিহত গুয়াহাটির হোটেলে পাঁচ খুনের মূল অভিযুক্ত
অসমের গুয়াহাটিতে একটি হোটেলে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে পাঁচ জনকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের মৃত্যু হল পুলিশি ‘এনকাউন্টারে’। মঙ্গলবার গভীর রাতে অসমের শিবসাগর জেলার গৌরীসাগরের কাছে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পুলিশের দাবি, পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ঘনকান্ত। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ৩টে ১২ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। গুয়াহাটি থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে শিবসাগরে একটি পৃথক মামলার তদন্তের স্বার্থে ঘনকান্তকে নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশের একটি দল। পথে গৌরীসাগরের কাছে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য গাড়ি থেকে নামার অনুমতি চান। পুলিশ তাঁকে গাড়ি থেকে নামায়। অভিযোগ, সেই সময়ই এক পুলিশকর্মীর কাছ থেকে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিককে রক্ষা করতে অন্য এক পুলিশকর্মী গুলি চালান। সেই গুলিতেই গুরুতর জখম হন ঘনকান্ত। শিবসাগরের এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক পাপোরি চেটিয়া জানিয়েছেন, আহত ঘনকান্তকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সংঘর্ষের সময় এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই গুয়াহাটির বরা সার্ভিস এলাকার বিলাস ইন হোটেলে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ওই হোটেলে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালান ঘনকান্ত গগৈ। এই ঘটনায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও এক জন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হোটেলের মালিক এবং লিজ় নিয়ে হোটেল পরিচালনাকারী ব্যক্তির মধ্যে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই এই হামলার সূত্রপাত। পুলিশের দাবি, হোটেলটির লিজ় ছিল ঘনকান্তের নামেই। সেই বিবাদের জেরেই তিনি হামলা চালান বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হোটেলের মালিক হেলেনা ভরালি, তাঁর ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ, দেবর্ষির স্ত্রী রিনিকি কাশ্যপ, পরিবারের আত্মীয় নারায়ণ দাস এবং হেলেনার ভাই ভূদেব ভরালি। হামলায় পরিবারের আরও এক আত্মীয় সত্যেন্দ্র পাঠক আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি .৩২ বোরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল উদ্ধার করে। পরে ঘনকান্তকে গ্রেফতার করা হয়। সেই মামলার তদন্তের পাশাপাশি অন্য একটি মামলার সূত্রে তাঁকে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়ার সময়ই পুলিশের সঙ্গে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গেও একই দিনে দুটি পুলিশি ‘এনকাউন্টারের’ ঘটনা ঘটেছিল। ভোরে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এবং ভরদুপুরে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়।
গাইঘাটার ঘটনায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন প্রহ্লাদ দাস। ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালান বলে দাবি পুলিশের। আত্মরক্ষার স্বার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয় প্রহ্লাদের।
অন্যদিকে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানেও ঘটে একই ধরনের ঘটনা। সামশেরগঞ্জের ব্যবসায়ী তথা বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডল খুনের মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন সামাউল শেখ। পুলিশের দাবি, তাঁকেও নিয়ে যাওয়ার সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই পুলিশি ‘এনকাউন্টারেই’ মৃত্যু হয় সামাউলের। পরপর এই ধরনের ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে অভিযুক্তদের মৃত্যু এবং ‘এনকাউন্টার’-এর পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
❤ Support Us







