- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৭, ২০২৩
হিংসার বলি সাত বছরের এক শিশু ও তার মা । আর কত রক্ত ঝরবে ? প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মণিপুর
মণিপুরে গোষ্ঠী সংঘর্ষের বলি হল এক মা ও তাঁর পুত্রসন্তান। ৩ মে হিংসা সূচনার আগে ভাগেই নিজেদের বসতি ছেড়ে আসাম রাইফেলসের সেনা শিবিরে নিরাপদ আশ্রয় নেন তাঁরা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। রবিবার উগ্রপন্থীদের গুলিতে আহত হন তাঁরা। শেষে তাঁদের ইম্ফল হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়ার সময় একদল বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দাঁড়ায়। গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হ। তাতেই পুড়ে মারা যান সাত বছরের টনসিং ও তার মা মীনা।
কাংপোকপি জেলার কাংচুপে থাকত টনসিংদের পরিবার। যে জায়গায় তাঁরা থাকত তাঁর একপাশে পার্বত্য এলাকা যেখানে কুকিদের বসবাস আর অন্যদিকে উপত্যকা অঞ্চল যেখানে মেইটেইদের আবাসস্থল। টনসিং নিজে কুকি হলেও তাঁর মা মীনা মেইটেই সম্প্রদায়ের। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আগেই বিপদের আঁচ করতে পেরেছিলেন তাঁরা। তাই আগেভাগে ইম্ফলের আসাম রাইফেলস সেনা শিবিরে নিরাপত্তার সন্ধানে আশ্রয় গ্রহণ করেন। শেষ পর্যন্ত সব কিছু তাঁদের মনো মত হল না।
৪ জুন আচমকা সেনা শিবির সংলগ্ন এলাকায় কুকি ও মেইটেইদের মধ্যে সংঘর্ষের সূচনা হয়। ঘটনাচক্রে, এদের লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে যায় টনসিং । দুপক্ষের গুলি বর্ষণের সময় সে গুলি বিদ্ধ হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে । তার তুতো ভাই পাওলেনডাল হানসিং বলেছে, প্রথমে জানলার রডে ধাক্কা খেয়ে বুলেটের স্প্লিন্টার তাঁর ভাইয়ের কপালে আঘাত করে। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর মা মীনাও আহত হয় । গুলিবিদ্ধ হয়তা তাঁর হাত।
আহত হনসিংকে দ্রুত সুস্থ করে তোলার জন্য সচেষ্ট হয় নিরাপত্তারক্ষীরা । তাঁরা জানিয়ছে, সে সময় অক্সিজেন দিয়ে তাকে কোনোক্রমে বাঁচানোর চেষ্টা চলছিল তাতে কোনো উন্নতির সম্ভাবনা দেখা যায়নি। তাঁর অবস্থা আরো গুরুতর হতে থাকলে হাসপাতালে ভর্তি করবার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। এখন এক্ষেত্রে যে সমস্যার সম্মুখীন তাঁদের হতে হয়য় তা হল– কোথায় আহতকে ভর্তি করবেন?
লিইমাকং নামক জায়গায় হাসপাতাল রয়েছে সেখানে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। তবে, তা কুকিদের এলাকা । হনসিং-এর মা মেইটেই হওয়ায় সেখানে ভর্তি হতে গিয়ে সমস্যা হতে পারে। অপরদিকে, ইম্ফলে যদি নিয়ে যাওয়া হয় তাতেও সমস্যা কারণ সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠই মেইটেই । সেখানে যাওয়ার পথেও যে সমস্ত এলাকা পড়ে সেখানেও তাঁদেরই বসবাস। তাই দ্বিতীয়টিকেই বেছে নেওয়া হয়। নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। ঠিক হয় হনসিং ও তাঁর মা মীনা অন্য এক প্রতিবেশী লাইডিয়া তাঁর সঙ্গে যাবেন।
শেষ পর্যন্ত পুলিশি প্রহরায় সোমবার বিকেল পাঁচটার সময় হনসিংকে ইম্ফল হাসপাতালের দিকে অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। কিন্তু ২ কিমি যাওয়ার পর আর যেতে পারে না স্থানীয় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত জেলার সুপারিন্টেনণ্ডেণ্ট আর একদল পুলিশের ব্যবস্থা করে দেন।
এদিকে, একটি খবর চারদিক চাউর হয়ে যায় যে চিকিৎসাযানে করে কুকি উগ্রপন্থীদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খবর শুনে উত্তেজিত জনতা ছুটে আসে এবং আম্বুউলেন্সের পথ আটকে দাঁড়ায়। পুলিশ তাদেরসরে যেতে বললে তারা তা করতে অস্বীকার করে। পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত হাতাহাতির দিকে এগোয়। এদের মধ্যে কয়েকজন দুর্বৃত্ত অ্যাম্বুলেন্সে কারা আছে তা বিচার বিবেচনা না করেই আগুন লাগিয়ে দেয়। কয়েক মুহুর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে যায় মীনা, টনসিং ও লাইডিয়ার দেহ। অসহায় অবস্থায় মায়ের ফেরার অপেক্ষায় বাড়িতে বসে থাকে মীনার অপর দুই সন্তান। হিংসার মূল্য আর কত পরিবারকে এভাবে দিতে হবে? ভাবিয়ে তুলছে এ প্রশ্ন।
❤ Support Us






