- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ৯, ২০২৬
আইপ্যাক-এ ইডি হানা নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: নদিয়ার সভা থেকে বিজেপি-ইডি-ইসিকে তীব্র আক্রমণ ‘তৃণমূলের সেনাপতি’র
ইডির আইপ্যাক-অভিযান নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে অবশেষে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নদিয়ার তাহেরপুরে আয়োজিত জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তৃণমূলকে সহায়তা করার কারণেই ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপ্যাক)-এর দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযান চালানো হয়েছে।
শুক্রবারের সভায় অভিষেক বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে তৃণমূল নেতৃত্ব এবং তাঁদের পরিবারকে হেনস্থা করার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, ইডি তাঁকে, তাঁর স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মা— কাউকেই রেয়াত করেনি। তবুও তিনি স্পষ্ট করে দেন, তৃণমূল বা তিনি কেউই ‘দিল্লির কাছে’ মাথা নত করবেন না।
অভিষেক বলেন, “বাংলার মানুষকে শোষিত ও অবহেলিত করতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু বাংলার মানুষ মাথা নত করবে না।” আইপ্যাক প্রসঙ্গে তিনি জানান, তৃণমূলের হয়ে কাজ করা ওই সংস্থা সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করেছে। ‘দিদির দূত’ নামে ওই অ্যাপের মাধ্যমে এসআইআর প্রক্রিয়ায় মানুষকে সহায়তা করা হচ্ছিল। তাঁর অভিযোগ, গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এসআইআরে তৃণমূলকে সাহায্য করার ‘অপরাধে’ আইপ্যাকের বিরুদ্ধে ইডিকে নামানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “একদিকে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ইডিকে পাঠিয়ে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। বিজেপির হাতে সব থাকতে পারে— ইডি, সিবিআই, কেন্দ্রীয় বাহিনী, মিডিয়া, বিচারব্যবস্থা, আয়কর দফতর। কিন্তু আমাদের সঙ্গে আছে মানুষ।”
বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক মন্তব্য করেন, গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে ‘গণদেবতা’। খেটে খাওয়া মানুষই ঠিক করবেন, তাঁরা কাদের সঙ্গে থাকবেন। তাঁর ভাষায়, “বাংলার মানুষ জল্লাদ আর দিল্লির জমিদারদের কাছে কখনও মাথা নত করবে না। আমাদের মেরুদণ্ড ‘নট ফর সেল’।”
সভায় গত বছরের ২০ ডিসেম্বর তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার প্রসঙ্গও তোলেন অভিষেক। খারাপ আবহাওয়ার কারণে মোদী সেদিন হেলিকপ্টারে নামতে না পেরে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ফোনে ভাষণ দিয়েছিলেন। অভিষেকের দাবি, ওই সভা ভরাতে বিজেপিকে পাশের জেলা থেকে লোক আনতে হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূলের ক্ষেত্রে তা করতে হয়নি— মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সভায় হাজির হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “এই মাঠ জুড়ে শুধু মানুষ আর মানুষ। এর দ্বিগুণ মানুষ এখনও রাস্তায় আটকে আছেন।”
নদিয়াকে ‘আগামিদিনে তৃণমূলময়’ বলে দাবি করেন অভিষেক। তিনি বলেন, বিজেপির মিথ্যা নাগরিকত্বের আশ্বাসে আর ভুলবেন না সাধারণ মানুষ। সভায় উপস্থিত মানুষজন তাঁকে দেখার জন্য নয়, বরং আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছেন যে তাঁরা তৃণমূলের পাশেই থাকবেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সভার মতো নদিয়াতেও ‘ভুতুড়ে ভোটার’ প্রসঙ্গ তোলেন অভিষেক। এসআইআর প্রক্রিয়ায় মৃত বলে দেখানো তিনজন জীবিত ব্যক্তিকে মঞ্চে ডেকে তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এমন অন্তত ১০০টি ঘটনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও নিশানা করেন। অভিষেক বলেন, “এই মানুষগুলোর পরিবার, বাড়ি, কাজ সব আছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের চোখে এঁরা মৃত!”
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ, ভারতীয় ক্রিকেটার ও টলিউড অভিনেতাকে এসআইআর নোটিস পাঠানোর ঘটনাও তুলে ধরে কমিশনকে একহাত নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নদিয়াবাসীর কাছে তাঁর বার্তা স্পষ্ট— এই পরিস্থিতির একমাত্র সমাধান, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে চতুর্থবারের জন্য সরকারে আনা এবং জেলার ১৭টি আসনের সবক’টিতেই তৃণমূলকে জয়ী করা।
❤ Support Us






