- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২, ২০২৬
শুক্রবার থেকে জেলা সফরে অভিষেক, বারুইপুরে ২ লাখ জমায়েতের লক্ষ্য, ব্রিগেডের ধাঁচে র্যাম্পে হেঁটেই জনসংযোগ
শুক্রবার থেকেই রাজ্যজুড়ে জেলা সফরে নামছেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে বছরের শুরুতেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গতি বাড়াতে চাইছে শাসকদল। সেই কর্মসূচির সূচনা হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের বারুইপুর থেকে। তবে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত টানা ‘নবজোয়ার যাত্রা’য় যে ছবি দেখা গিয়েছিল, এ বার পরিচিত সে ছকে হাঁটছেন না অভিষেক। বরং খানিকটা আঁকাবাঁকা পথে, দক্ষিণ থেকে উত্তর, এমন রূপরেখাতেই সাজানো হয়েছে তাঁর সফরসূচি।
বারুইপুরের ফুলতলা সাগরসঙ্ঘের মাঠে শুক্রবারের জনসভা ঘিরে ইতিমধ্যেই তৎপর প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্ব। সভার নির্ধারিত সময় দুপুর। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে সভাস্থলের মঞ্চসজ্জা। জনসভা হলেও মঞ্চের রূপ অনেকটাই কনসার্টের আদলে। মূল মঞ্চের পেছনে বসানো হচ্ছে বিশাল এলইডি স্ক্রিন। মঞ্চের সামনে তৈরি হয়েছে ‘প্লাস’ চিহ্নের মতো ক্রস র্যাম্প। র্যাম্প দিয়েই হাঁটতে হাঁটতে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগ করবেন অভিষেক। লোকসভা ভোটের আগে ব্রিগেড সমাবেশে র্যাম্প সংস্কৃতির সূচনা হয়েছিল অভিষেকের হাত ধরেই। সে র্যাম্পেই হাঁটু মুড়ে বসে সভা শুরু করেছিলেন তিনি। একই মঞ্চে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারুইপুরে প্রার্থী পরিচিতির কর্মসূচি না থাকলেও, প্রচারের ভিন্ন আঙ্গিককেই এ বার সারা রাজ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইছে তৃণমূল।
দলীয় সূত্রের খবর, জানুয়ারি মাস জুড়ে অভিষেকের প্রায় সব জনসভাতেই এ ধরনের মঞ্চ তৈরি করা হবে। শনিবার তিনি যাবেন জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে। ৬ জানুয়ারি বীরভূম এবং ৭ জানুয়ারি উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে সভা করার কথা রয়েছে। ক্যামাক স্ট্রিট সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের কর্মসূচি শেষ করেই বিকেলের পরে কলকাতায় ফিরে আসবেন অভিষেক। এদিনের বারুইপুরের সভায় প্রায় ২ লক্ষ মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য নিয়েছে শাসকদল। সংলগ্ন বিধানসভা কেন্দ্রগুলি থেকে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠজুড়ে একাধিক বড়ো এলইডি স্ক্রিন, সাউন্ড সিস্টেম বসানো হচ্ছে, যাতে দূর থেকেও বক্তৃতা শোনা ও দেখা যায়। শুধু বক্তৃতা নয়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথোপকথন এবং সমাজমাধ্যমে প্রচারের উপযোগী দৃশ্যপটও এ সভার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে।
তৃণমূল সেকন্ড ইন কম্যান্ড-এর জেলা সফরের মধ্যেই বিধানসভা ভোটের স্লোগান প্রকাশ করেছে তৃণমূল—‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’। বারুইপুরের সভাস্থলের র্যাম্পেও ওই স্লোগানই চোখে পড়ছে। দলের বক্তব্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রচারের ধরন বদলানো জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই কম খরচে নতুন ভাবনায় নজরকাড়া প্রচার সম্ভব বলেই মনে করছেন অভিষেক-ঘনিষ্ঠরা। এ দিকে, আগামী ৯ জানুয়ারি ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে অভিষেকের যাওয়ার কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর তাঁর সফরের বিরোধিতা করে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মতুয়া মহলের একাংশও সরব। অতীতে ঠাকুরবাড়িকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাতের নজির থাকায় এ বারও পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সে দিকে নজর রয়েছে প্রশাসনের। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত উদ্বেগ, নির্বাচন কমিশনের শুনানি এবং কেন্দ্রীয় আশ্বাস— সব মিলিয়ে ঠাকুরনগর সফর ঘিরে মতুয়া সমাজের কৌতূহল ও উৎকণ্ঠা দুটোই বেড়েছে। এই আবহে অভিষেক কী বার্তা দেন এবং প্রশাসন কী ভাবে পরিস্থিতি সামলায়, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে।
❤ Support Us






