Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২৮, ২০২৫

আন্না বিশ্ববিদ্যালয় যৌন নির্যাতন, ১১ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত গননসেকরন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আন্না বিশ্ববিদ্যালয় যৌন নির্যাতন, ১১ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত গননসেকরন

আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক নারীর উপর যৌন নির্যাতন মামলায় চেন্নাই মহিলা কোর্ট বুধবার গননসেকরন নামের অভিযুক্তকে সমস্ত ১১টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। ৫ মাসের বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেছে। যৌন নির্যাতন, অপহরণ, হুমকি ও তথ্য প্রযুক্তি আইনের বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী শুনানি হয়। গত বছরের ডিসেম্বর মাসের এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করেছিল। ১৯ বছরের নির্যাতিতা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিলেন, ঠিক সেই সময় গননসেকরন প্রথমে তাঁর বন্ধুকে আক্রমণ করেন। এরপর ওই ছাত্রীর উপর যৌন নির্যাতন চালায়। এখানেই শেষ নয়, অভিযুক্ত যৌন নির্যাতনের ভিডিও রেকর্ডও করে, যাতে ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেল করা যায়। গত ২৩ ডিসেম্বর পুলিশ তদন্তের পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

এদিন,আদালতে বিচারক রাজালক্ষ্মী বলেছেন, গননসেকরন সমস্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। তবে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁর বাড়িতে বৃদ্ধ মা আর ৮ বছরের শিশুকন্যা রয়েছে, তাঁদের দেখাশোনা করার জন্য তিনি সর্বনিম্ন শাস্তি প্রার্থনা করছেন। ঘটনার তদন্তে আরো সামনে এসেছে, গননসেকরন একাধিক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তার কাছ থেকে পুলিশ ১০০ গ্রাম ওজনের সোনা ও একটি বিলাসবহুল এসইউভি উদ্ধার করে। অভিযুক্ত এই সমস্ত চুরির কথা স্বীকারও করেছেন।

এদিকে, মামলার তদন্তকালে এফআইআর-এর বিস্তারিত তথ্য ফাঁস হয়ে যাবার অভিযোগ ওঠে। ফলে নির্যাতিতার সামাজিক সঙ্গতির ক্ষেত্রে বড়ো ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। ভারতীয় আইনে যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা বাধ্যতামূলক। পুলিশ এই তথ্য ফাঁসের জন্য কেন্দ্রীয় পুলিশ ওয়েবসাইটকে দায়ী করেছে। পরবর্তীকালে আদালত ঘটনার গুরুত্ব বুঝে শুধুমাত্র মহিলা অফিসারদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ তদন্ত দল বা শিট গঠন করে। যাতে নির্যাতনের মামলা আর তথ্য ফাঁস দুইয়েরই তদন্ত করা হয়।

এই ঘটনা তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। বিজেপি অভিযোগ তোলে অভিযুক্তের সঙ্গে শাসক দল ডিএমকে-এর যোগাযোগ রয়েছে। বিজেপির তখনকার রাজ্য সভাপতি কে অন্নামালাই, অভিযুক্তের কিছু ছবি, যেখানে তাঁকে ডিএমকে-নেতাদের সঙ্গে দেখা গেছে প্রকাশ করে দাবি এমন দাবি করেছিলেন। তবে ডিএমকে ওই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। মামলার তদন্তে মোট ২৯ সাক্ষীর বক্তব্য নেয়া হয়, ১০০ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়। রাজ্য সরকার ঘটনাস্থলেই শিক্ষার্থীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৫ লক্ষ টাকা অস্থায়ী ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করে।

এই মামলায় আদালত চুড়ান্ত রায় দেয়নি, তবে বিচারক এমন বর্বরোচিত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন। আদালতের রায়ে তামিলনাড়ুর নারী-নিরাপত্তা নিয়ে আবার ব্যাপক আলোচনা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিরোধী দল এআইএডিএমকে-এর সাধারণ সম্পাদক এদাপ্পাদি পালানিস্বামী কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘মহিলাদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোর্টের রায় সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তা কেউ মেনে নিতে পারবেন না। তদন্ত দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। আদালত সুবিচার নিশ্চিত করেছে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!