Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ৩০, ২০২৩

দেশ প্রেমেই বিদ্বেষ । কেরল বিস্ফোরণের দায়ে স্বীকারে মন্তব্য ধৃত ডমিনিকের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দেশ প্রেমেই বিদ্বেষ । কেরল বিস্ফোরণের দায়ে স্বীকারে মন্তব্য ধৃত ডমিনিকের

কেরলে প্রার্থনাসভায় সিরিয়াল বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩। রবিবার মধ্য রাতে মৃত্যু হয়েছে ১২ বছরের এক কিশোরীর। ওই কিশোরীর শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, পরপর বিস্ফোরণের ঘটনার পর রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন আজ সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছেন। রবিবার ঘটনার সময় মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে ছিলেন। এই বিস্ফোরোবের ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে রাজ্যের তরফে।

রবিবার বিস্ফোরণের জেরে ঘটনাস্থলেই এক মহিলার মৃত্যু হয়েছিল। পরে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ দিন হাসপাতালে আরও এক কিশোরীর মৃত্যুর খবর মিলল। জানা গিয়েছে, কলমেশ্বরি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১২ বছরের ওই কিশোরী। তাঁর শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা তাঁকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রেখছিলেন। কিন্তু রবিবার রাত থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। রাত ১২টা ৪০ নাগাদ ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩৬ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা সঙ্কটজনক।

রবিবার  দুপুরে কেরলের এর্নাকুলামে একটি কনভেনশন সেন্টারে প্রার্থনাসভা চলাকালীন এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেই সময় কনভেনশন সেন্টারের ভিতরে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার মানুষ ছিলেন। প্রার্থনা শুরু হওয়ার প্রায় আধ ঘণ্টা পর প্রথম বিস্ফোরণটি হয়। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আবার আরেকটি জোরাল বিস্ফোরণ হয়। দুটি না তিনটি বিস্ফোরণ হয়েছিল সেই বিষয়টি পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থা এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, টিফিন বক্সের ভিতরে কম শক্তিশালী বিস্ফোরক রাখা ছিল। পুলিশের অনুমান, আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

এদিকে বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডমিনিক মার্টিন নামে ৪৮ বছরের এক ব্যক্তি এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছে কেরলের ত্রিশুরের এক থানায়। পুলিশের দাবি, ডমিনিক মার্টিন, “জিহোবাস উইটনেস” গোষ্ঠীরই একজন সদস্য। তাহলে তিনি কেন হঠাৎ নিজ সংগঠনের বিরুদ্ধেই হামলা চালাল ? হামলার আগেই ফেসবুকে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে কেনই এই বিস্ফোরণ করা হচ্ছে তার ব্যাখ্যা দিয়েছে ডমিনিক। পরে অবশ্য ভিডিয়োটি ডিলিট করে দেওয়া হয়। তবে, তার আগেই ভিডিয়োটি অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিয়োতে “জিহোবাস উইটনেস” গোষ্ঠী সম্পর্কে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছে ডমিনিক।

ভিডিয়োটিতে ডমিনিক-এর দাবি, ১৬ বছর ধরে সে “জিহোবাস উইটনেস” গোষ্ঠীর সদস্য। তবে সম্প্রতি সে বুঝেছে এই গোষ্ঠীর মতবাদ দেশবিরোধী। তাদের শিক্ষা দেশের জন্য ক্ষতিকর এবং তারা দেশের তরুণ সমাজের মন বিষিয়ে দিচ্ছে। আর তাই, এই গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্যই সে এই হামলা চালিয়েছে। একেবারে শৈশব থেকে এই সংগঠনের সদস্যদের মনে ঘৃণার বার্তা দেওয়া হত বলে ওই ভিডিও বার্তায় সে জানিয়েছে।
ফেসবুকে পোস্ট করা ভিডিয়োতে তিনি ডমিনিক বলেছেন, “এই সংগঠনের সঙ্গে আমি ১৬ বছর ধরে যুক্ত আছি। প্রথম দিকে আমি তাদেরকে খুব একটা গুরুত্ব দিতাম না। তবে, বছর ছয়েক আগে আমি বুঝতে পারি, এই সংগঠন দেশবিরোধী মতবাদ প্রচার করে এবং তারা আমাদের দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে বদ্ধ পরিকর। আমার মতে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার সময় এসেছে। আমি ওদের কাছে বেশ কয়েকবার আমার উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। তাদের মতবাদ বদলানোর অনুরোধ করেছি। কিন্ত ওরা সংগঠনের বাইরের লোকদের খারাপ চোখে দেখতে বলত। তাদের সঙ্গে অচ্ছুতের মতো ব্যবহার করত। এমনকি, ৪ বছরের শিশুকেও শেখানো হত, যাতে তারা বন্ধুদের থেকে লজেন্স না খায়। ভারতের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে নিরুৎসাহ করা হত।”

ডোমিনিকের আরও দাবি, এই সংগঠনটি শিশুদের মনে বিরূপ ধারণা ঢুকিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সদস্যদের ভোট দিতে, সেনাবাহিনীতে কাজে যোগ দিতে, সরকারি অফিসার হিসেবে কাজ করতে, এমনকি সরকারি স্কুলে শিক্ষকের পেশা নিতেও বাধা দিত। তার মতে, ভারতের সমস্ত সম্প্রদায়ের জনগণকে নির্মূল করাই ছিল সংগঠনটির লক্ষ্য। ডমিনিক তাই এই সংগঠনটিকে মানবতার পক্ষে বিপজ্জনক বলে দাবি করেছেন। ডোমিনিকের আরও দাবি, দেশের রাজনৈতিক দলগুলি ধর্মীয় বিষয়ে নাক গলাতে ভয় পায় বলে তাদের বিষয়ে কিছু করবে না বলে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। আর সেই কারণেই অন্য কোনও রাস্তা না পেয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে, দাবি করেছে ডমিনিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করার কাজ করছে তদন্তকারীরা। তদন্তকারীরা মনে করে ডোমিনিকের এই  অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই বিষয়গুলির কেরল পুলিশের এক বিশেষ তদন্তকারী দল এখন খতিয়ে দেখছে। আলাদাভাবে তদন্ত করতে চায় জাতীয় তদন্ত সংস্থাও। এনআইএ এবং এনএসজি এই ঘটনার আলাদা করে তদন্ত করছে। নমুনা সংগ্রহের কাজ করেছে এই তদন্তকারী সংস্থা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!