Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৯, ২০২৫

দিল্লিতে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ ! তালিবান পতাকা নিয়ে দ্বিধায় দক্ষিণ ব্লক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লিতে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ ! তালিবান পতাকা নিয়ে দ্বিধায় দক্ষিণ ব্লক

ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এসে পৌঁছেছেন নয়াদিল্লিতে। ৬ দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি পৌঁছন তিনি। রাষ্ট্রপুঞ্জ থেকে বিশেষ ছাড়পত্র মিলতেই এই সফরের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এ সফর যদিও নিছক সৌজন্য নয়— বরং এর পেছনে রয়েছে জটিল আঞ্চলিক কূটনীতি, প্রতীকী বার্তা ও ভবিষ্যতের নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। আর এর মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক সূক্ষ্ম অথচ কূটনৈতিক দিক— পতাকা। অর্থাৎ, তালিবান সরকারের পতাকা কি ভারতের মাটিতে স্বীকৃতি পাবে? এখনো পর্যন্ত তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি না-দেওয়া দিল্লি আপাতত এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ব্যস্ত।

বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ভারত সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের পতাকা রাখে তার নিজের জাতীয় পতাকার পাশে। কিন্তু সমস্যা হল, তালিবান সরকারের সেই সাদা জমিনে কালো হরফে লেখা ‘শাহাদা’ পতাকাটি এখনো পর্যন্ত দিল্লির স্বীকৃতি পায়নি। কাবুলের আফগান দূতাবাসে এখনো উড়ছে গনির আমলের তিরঙ্গা-ধাঁচের পুরনো পতাকা। এখন প্রশ্ন, দক্ষিণ ব্লকের বৈঠকে মঞ্চে কোন পতাকা থাকবে? না কি অতীতের মতোই, পতাকাহীন নিরপেক্ষ পটভূমিতেই হবে বৈঠক? যেমন হয়েছিল মিসর বা দুবাইয়ে ভারতের কূটনীতিকদের সঙ্গে তালিবান নেতাদের বৈঠকে।

তালিবান শাসনের আমলে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটাই প্রথম ভারত সফর। সফরটি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার, শেষ হবে আগামী ১৬ অক্টোবর। এর মধ্যেই মুত্তাকির দেখা হওয়ার কথা রয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে। এছাড়াও, তাঁর সফরসূচিতে রয়েছে তাজমহল দর্শন এবং উত্তরপ্রদেশের ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দ পরিদর্শন। এই সফরের খবর প্রথমবার সামনে আসে গত মাসে। কিন্তু রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তখন সফর স্থগিত হয়। পরে নিরাপত্তা পরিষদ মুত্তাকির জন্য ৯-১৬ অক্টোবরের মধ্যে সাময়িক ভ্রমণ ছাড়পত্র দেয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ তালিবান সরকারের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। বিদেশ সফরের জন্য প্রত্যেকবার আলাদা করে ছাড়পত্র নিতে হয়। সেসব কঠিন পথ পেরিয়েই দিল্লি এসেছেন মুত্তাকি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রন্ধীর জয়সওয়াল গত সপ্তাহেই জানিয়েছেন, এ সফরের পরিকল্পনা বেশ কিছু দিন আগেই করা হয়েছিল। কিন্তু তালিবান মন্ত্রীর উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সফর স্থগিত ছিল। নিরাপত্তা পরিষদের ছাড়পত্র মিলতেই সফর সম্ভব হলো।

অতীতে আশরাফ গনির আমলে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক ছিল গভীর। অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাতে ভারত বিপুল বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারের পর তালিবান কাবুলের দখল নেয়। ভারত তার কূটনৈতিক মিশন গুটিয়ে নেয়। যদিও এক বছর পরে সীমিত পরিসরে আবার একটি মিশন চালু করা হয়। ভারত এখনো তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। যদিও, সম্পর্কের সেতু গড়ে তোলার চেষ্টায় বিরতি পড়েনি। চলতি বছরের শুরুতে দুবাইয়ে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রির সঙ্গে মুত্তাকির বৈঠক সেই দিকেই ইঙ্গিত দেয়। ওই বৈঠকের পরে তালিবান সরকার ভারতকে ‘এক গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক শক্তি’ বলেও আখ্যা দেয়।

সম্প্রতি একাধিক ঘটনাপ্রবাহ এই সফরের পটভূমিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরে তা প্রকাশ্যে নিন্দা করে তালিবান সরকার। এরপর গত ১৫ মে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা হয় মুত্তাকির। সেই ফোনালাপে জয়শঙ্কর তালিবান সরকারের অবস্থানকে স্বাগত জানান। এরপর জঙ্গিদমনে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’। যেখানে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও সীমান্তবর্তী জঙ্গিঘাঁটি নিশানা করা হয়েছিল। ভারত কূটনৈতিকভাবে তালিবান সরকারকে বার্তা দেয় আফগান ভূমি যেন কোনও দেশবিরোধী কার্যকলাপের মঞ্চ না হয়। সম্প্রতি আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের পরে ভারত অত্যন্ত দ্রুত ত্রাণ পাঠায় কুনার প্রদেশে। পরে আরও সহায়তা পাঠানো হয় ইরানের চাবাহার বন্দর হয়ে। এই প্রসঙ্গও উঠে আসতে পারে আলোচনায়। ভারতের তরফে বলা হয়েছে, আফগান জনগণের পাশে দাঁড়ানো নীতিগত অবস্থান। বৈঠকে উঠে আসতে পারে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ অবস্থা, মানবিক সহায়তা, অবকাঠামো নির্মাণে তালিবান সরকারের অবস্থান এবং ভারতের সহায়তা সংক্রান্ত নানা দিক।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!