- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২৪, ২০২৫
২৬ বছর পর জট কাটল, আইসিডিএস সুপারভাইজার পদে বিপুল নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের
কেন্দ্রীয় সরকারের ২০১৫ সালের নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট শূন্যপদের ৫০% অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মধ্যে থেকে নিয়োগ করতে হবে। আর ৫০ শতাংশ বাইরে থেকে নিয়োগ করা যাবে। রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সেই নির্দেশ না মেনে বাইরে থেকেই ৭৫% শূন্যপদে নিয়োগ করে। আতালতে যান অঙ্গনঅয়াড়ি কর্মীরা।
অবশেষে কাটল নিয়োগ জট। প্রায় ২৬ বছর পর কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে কাটল আইসিডিএস সুপারভাইজার নিয়োগের জট। শুক্রবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধায়ের ডিভিশন বেঞ্জ, পূর্ববর্তী সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল রাখবার নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি লপিতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ৫০ শতাংশ শূন্যপদে সুপারভাইজারের জন্য অঙ্গনওয়ারির কর্মীদের থেকেই পদোন্নতির ভিত্তিতেই নিতে হবে। কিন্তু এই নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রাখে রাজ্য। নেওয়া হয় অঙ্গনওয়ারির কর্মীদের প্রমোশনাল সুপারভাইজার পদে নিয়োগের পরীক্ষা। তবে প্যানেল প্রকাশ না করেই রাজ্য পুনরায় চালু রাখে নিয়োগ প্রক্রিয়া। এরপর ২০২৪ সালে বিচারপতি লপিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করে রাজ্য। কিন্তু তখনও সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশের ওপর কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি ডিভিশন বেঞ্চ।
নিয়োগ জোট কাটাতে রাজাশেখর মান্থার এজলাশে দরবার করে মৌমিতা ঘোষ, দীপা মন্ডল সহ ৪১৫ জন মামলাকারী । তবে সেসময় সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের উপর ডিভিশন বেঞ্চ কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। তাই ৩৪৫৮ শূন্যপদের মধ্যে ১৭২৯ জনকে অঙ্গনওয়ারির কর্মীদের মধ্য থেকেই নিয়োগ করবার কথা ছিল রাজ্য সরকারের। রাজ্য সেই আদেশ মানেনি। বিচারপতি রায়কে চ্যলেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছিল রাজ্য। যেহেতু এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয় ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন তাই রাজ্য সরকার এই বিষয়ে নিজে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। আজ ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়-ই বহাল রাখল।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে আইসিডিএস সুপারভাইজার পদে শেষবার নিয়োগ হয়েছিল। পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৯ সালে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরে নির্দেশনামায় পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে, মোট শূন্যপদের ৫০ শতাংশ অঙ্গনওয়ারির কর্মী থেকেই পদোন্নতির ভিত্তিতেই নিয়োগ করতে হবে। অভিযোগ, রাজ্য সরকার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য শুধুমাত্র ৪২২টি শূন্য পদ রেখে বাকি ৩০৩৬ শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে। রাজ্য সরকারের এই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে কিছু অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী তাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
❤ Support Us







