- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- নভেম্বর ২৬, ২০২৫
শান্তি খুঁজছে তুরস্ক । ২৬ বছর ধরে কারারুদ্ধ ওজলানই কী হবেন ত্রাতা ?
২৬ বছর জেল কাটানোর পর কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আবদুল্লাহ ওজালান, তুরস্কের চার দশক ধরে চলা বিদ্রোহ শেষ করার প্রক্রিয়ায় নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। আঙ্কারার সাম্প্রতিক শান্তি উদ্যোগ, যা উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমর্থন পেয়েছে, মূলত পিকেকে বিলুপ্তি ও অস্ত্র ত্যাগে ওজালানের প্রভাবের ওপর নির্ভর করছে।
জুলাই মাসে পিকেকে প্রতীকীভাবে অস্ত্র জ্বালিয়ে দেয় এবং সম্প্রতি ঘোষণা তাঁরা করেছে, তুরস্ক থেকে যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তবে ৪০,০০০ জনেরও বেশি প্রাণহানির মধ্য দিয়ে যাওয়া সংঘর্ষ শেষ করতে এখনো অনেক কাজ বাকি। ওজালান ১৯৭৮ সালে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি তুরস্কের জেলখানায় বন্দি। তিনি কুর্দ যোদ্ধা এবং তুর্কি রাষ্ট্র উভয়কেই ‘গণতান্ত্রিক এবং আইনি সমাধান’-এ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে আহ্বান করেছেন। তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার অফিস জানিয়েছে, সোমবার ইম্রালি জেলায় অনুষ্ঠিত আলোচনায়, পার্লামেন্ট সদস্যরা ওজালানের কাছ থেকে পিকেকে বিলুপ্তি এবং সিরিয়ার কুর্দ বাহিনীর (যাকে তুরস্ক পিকেকের অংশ মনে করে) সম্পর্কিত তথ্য নিয়েছেন।
যদি দীর্ঘ চার দশকের সংঘাত শেষ করে, তুরস্ক পূর্ণ শান্তি অর্জনের দিকে যায় তবে তা রাষ্ট্রপতি হিসাবে এরদোগানের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক সাফল্য হবে। ৭১ বছর বয়সী এরদোগান মূলত পিছনের সারিতে ছিলেন, যখন পিকেকে সম্পর্কিত শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়েছে। পিকেকে তুরস্ক ও তার পশ্চিমা মিত্রদের কাছে সন্ত্রাসী সংস্থা হিসেবে গণ্য হয় তাদের সিভিলিয়ান এবং মিলিটারি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কারণে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিদদের মতে, এরদোগান আংশিকভাবে কুর্দ ভোটপন্থা জয় করার আশায় এই শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয়, বিশেষ করে যদি তিনি অগ্রীম নির্বাচন ডাকেন বা ২০২৮ সালের পরে শাসন বাড়ানোর জন্য সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা করেন, তবে এটি জরুরী পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, ওজালান জানান, পিকেকে বিলুপ্তির আহ্বান তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ। তাঁর মতে, ‘সাম্প্রতিক আহ্বান আমার নিজস্ব উদ্যোগে করা হয়েছে। আমি এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ মনে করেছি এবং নিজেকে প্রস্তুত করেছি।’ পিকেকে বিলুপ্তি নিয়ে কোনো আবেগ বা দুঃখের প্রকাশ নেই ওজালানের কণ্ঠে। তিনি বলেছেন, ‘আমি দুঃখিত বা আবেগপ্রবণ ছিলাম না কখনো, আজও নই, ভবিষ্যতেও হবও না। আমি নিজেই এটি প্রতিষ্ঠা করেছি এবং নিজেই এটি শেষ করছি।’ ওজালান ১৯৯৯ সালে দেশদ্রোহিতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দোষে তুর্কি আদালত দ্বারা দণ্ডিত হন। তাঁর আইনজীবী ইব্রাহিম বিলমেজ জানান, সম্প্রতি তাঁর জেল পরিস্থিতি উন্নত করা হয়েছে এবং কর্মকর্তারাও তাঁকে সম্মান দেখাচ্ছেন।
রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, আঙ্কারা এমন একটি আইন প্রণয়ন করছে যাতে হাজার হাজার পিকেকে যোদ্ধা এবং সাধারণ নাগরিক উত্তরের ইরাক থেকে বাড়িতে ফিরতে পারেন। মে মাসে ভিডিও কলে ওজালান বলেন, ‘অনেক সহকর্মী তুরস্কে ফিরে আসবে। আইন মাফিক এটি সমাধান করতে হবে। ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতি এবং আইনি ভিত্তি প্রস্তুত করতে হবে।’ তুরস্কের প্রভাবশালী চরম জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপি-এর নেতা দেবলেট বাহচেলিও ওজালানের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি নিজের মতো ইম্রালি যেতে প্রস্তুত। ওজালানের সঙ্গে মুখোমুখি বসে আলোচনা করতে চাই।’ তবে, তুরস্কের
প্রো-কুর্দি ডিইএম পার্টি এবং সাধারণ কুর্দি জনগণ শান্তি প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি বিশ্বাস করছে না। এর কারণ, এরদোগান শাসনের সময় কুর্দ রাজনৈতিক আন্দোলনের ওপর কঠোর আইনি আক্রমণ। হাজার হাজার মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন, অনেক সংসদ সদস্য ও মেয়র জেল খেটেছেন। শান্তি প্রক্রিয়ার সময় এই ক্র্যাকডাউন বন্ধ করা হয়েছে।
❤ Support Us






