- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৩
দেশের নাম পরিবর্তনে নতুন ইন্ধন, লেখা হচ্ছে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’
“ভারতের রাষ্ট্রপতি” লেখা জি ২০-র নৈশ ভোজের আমন্ত্রণ পত্রের পর এবার “ভারতের প্রধানমন্ত্রী” লেখা একটি নোট পোস্ট মারলেন বিজেপি মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্র। আর এর সঙ্গে সঙ্গেই দেশের নাম বদলের জনপনায় নতুন করে জল্পনার ইন্ধন আরও বেড়ে গেল। বিরোধীরা বলছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো প্রাথমিক চাহিদা আড়ালে, মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, সেদিকে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। এখন জাতীয় রাজনীতি হিন্দুত্ব এবং জাতীয়বাদ নিয়ে মজে আছে। আর তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে দেশের নাম ‘ভারত’ না ‘ইন্ডিয়া’! জি-২০ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির তরফে আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে ‘প্রেসিডেন্ট অফ ভারত’। যা নিয়ে শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী কাজিয়া। মঙ্গলবারেই রাতেই উদয় হয়েছে আবার নতুন আর এক বিষয়, তা হল ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টার অফ ভারত’। সৌজন্যে বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। নামগলায় একটা প্রবাদ আছে, “নাই কাজ তো খৈ ভাঁজ” দেশের সরকারের কি সেই দোষ? কিন্তু দেশের নেতাদের তো কাজ আছে, তাহলে তাঁরা সেসব ছেড়ে অন্য বিষয় নিয়ে ব্যস্ত কেন?
বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০তম আসিয়ান -ভারত শীর্ষ সম্মেলন এবং ১৮তম ইএএস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ইন্দোনেশিয়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩-এ এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার রাতে সেই সফরের আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রকাশ করেছেন সম্বিত পাত্র। তাতে ‘প্রাইম মিনিস্টার ইন্ডিয়া’র পরিবর্তে লেখা হয়েছে ‘প্রাইম মিনিস্টার অফ ভারত’। বিজেপি মুখপাত্রের এই পোস্টের পরেই সরব হয় কংগ্রেস।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ কালক্ষেপ না করে সম্বিতের পোস্টার জবাবে নিজের পোস্টে লিখেছেন, “দেখুন মোদি সরকার কতখানি বিভ্রান্ত! ২০তম আসিয়ান-ভারত শীর্ষ সম্মেলনে এবার প্রাইম মিনিস্টার অব ভারত। বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ্য হওয়ায় এবং জোটের নাম ইন্ডিয়া দেওয়ায় এই নাটক শুরু হয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট অফ ভারত নিয়েও প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন এই কংগ্রেস নেতা। তিনি টুইট করেন, “খবর তাহলে সত্যি। ৯ সেপ্টেম্বর আয়োজিত জি-২০ সম্মেলনের নৈশভোজের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন। তাতে ‘প্রেসিডেন্ট অফ ইন্ডিয়া’র পরিবর্তে ‘প্রেসিডেন্ট অফ ভারত’ লেখা হয়েছে।” তিনি আরও লেখেন, “সংবিধানের ১ নং অনুচ্ছেদে সাফ বলা রয়েছে, ‘ভারত অর্থাৎ ইন্ডিয়া, রাজ্যের সমষ্টি হিসেবে বিবেচিত’। কিন্তু সেই যুক্তরাষ্ট্রের উপরই আঘাত হানা হচ্ছে।”
দেশের নাম বদলের জল্পনায় সরব হয়েছেন INDIA জোটের অন্যতম মুখ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “দেশের নামও কি বদলে যাবে এবার! গোটা বিশ্ব ভারতকে চেনে ‘ইন্ডিয়া’ নামে। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রতির আমন্ত্রণপত্রে তা বদলে দেওয়া হয়েছে।”
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল কটাক্ষ করেন, I.N.D.I.A. জোট যদি নাম পরিবর্তন করে ‘ভারত’ করে, তবে বিজেপি কি দেশের নাম ভারত থেকে অন্য কিছুতে পরিবর্তন করবে?
আসলে এনডিএ সরকার প্রতি লোকসভা নির্বাচনের আগে মানুষের সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে নানান কৌশল অবলম্বন করে. ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদির নতুন চমক কী “ইন্ডিয়া”-র “ভারত” হওয়া? প্রশ্ন করছেন বিরোধীরা !
❤ Support Us







