Advertisement
  • এই মুহূর্তে বৈষয়িক
  • ডিসেম্বর ১১, ২০২৫

ফের বাণিজ্যযুদ্ধ ! আমেরিকার পর এবার মেক্সিকো, ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফের বাণিজ্যযুদ্ধ ! আমেরিকার পর এবার মেক্সিকো, ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ

আমেরিকার পর এবার মেক্সিকো সরকার ভারতসহ বেশ কয়েকটি এশীয় দেশ থেকে আমদানীকৃত পণ্যের উপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা করছে। যা ঘিরে বাণিজ্যবিশ্বে নতুন উত্তেজনা। মেক্সিকো বলছে, এ পদক্ষেপের লক্ষ্য তাদের দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া। তবে এ সিদ্ধান্তে দিল্লির জন্য নয়া চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা যাদের অনেকেই মেক্সিকোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সেতু হিসেবে ব্যবহার করছিলেন, তারা এখন এই নতুন শুল্ক নীতি নিয়ে চিন্তিত।

মেক্সিকো দীর্ঘকাল ধরে মুক্ত বাণিজ্যনীতির সমর্থক ছিল, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে পড়ে চিনা পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে মেক্সিকো তার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যে নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চলেছে। মেক্সিকোর সেনেট বুধবার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম থেকেই ভারতের মতো কিছু দেশে শুল্ক ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রস্তাবটি অনুমোদন পেয়েছে। এই শুল্ক বৃদ্ধির আওতায় গাড়ি, গাড়ির যন্ত্রাংশ, টেক্সটাইল, পোশাক, প্লাস্টিক এবং স্টিলের মতো পণ্যসমূহ থাকবে। মেক্সিকো সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপটি দেশীয় উৎপাদন খাতে আরো বেশি শক্তি সঞ্চয় করতে এবং স্থানীয়দের চাকরি রক্ষায় সহায়ক হবে। এমনকি মেক্সিকোর ব্যবসায়ী সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা শুল্ক বৃদ্ধির বিপক্ষে হলেও, সরকার এ নীতিকে যথাযথ বলে মনে করছে। তাদের মতে, চিনা পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া কিছু মেক্সিকান সেক্টরের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মেক্সিকোর নয়া পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করা। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বাণিজ্যনীতি এবং বিশেষত এশিয়ার পণ্যের উপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের পরিপ্রেক্ষিতে মেক্সিকো নিজেও সমস্যায় পড়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনার আগে মেক্সিকো সরকারের এ পদক্ষেপটি হয়তো আমেরিকার সাথে সম্পর্ক আরো মজবুত করার কৌশল হতে পারে। অন্যদিকে, ভারতীয় রপ্তানিকারকরা দীর্ঘদিন ধরে মেক্সিকোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের জন্য একটি সেতু হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। মেক্সিকো একদিকে যেমন লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বৃহৎ অর্থনীতির দেশ, তেমনি এটি উত্তর আমেরিকার সরবরাহ চেইনে এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে রেখেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এ দেশটিকে ব্যবহার করে তাদের পণ্য সহজেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করাচ্ছিলেন। কিন্তু নতুন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়বে, ফলে ব্যবসায়িক লাভ কমতে পারে।

অন্যদিকে, মেক্সিকো সরকারের শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির আমদানিনির্ভর শিল্পে নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, চামড়া, এবং ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্ক বৃদ্ধি থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ পরিকাঠামোতেও পরিবর্তন আসবে। ভারতীয় কোম্পানিগুলি হয়তো তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। এমনকি কিছু কোম্পানি হয়তো মেক্সিকোকে বাদ দিয়ে নতুন বাজারে পণ্য রপ্তানি করতে শুরু করবে। মেক্সিকোর নতুন শুল্ক নীতি শুধু ভারতে নয়, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই দেশগুলো মেক্সিকোর বাজারে প্রবেশের জন্য কঠোর প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে পারে। তবে, স্থানীয় শিল্প রক্ষার নামে নেয়া এ পদক্ষেপের পরিণতি বুমেরাং হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মেক্সিকো যদি খুব দ্রুত এই শুল্ক নীতির প্রতি কড়া মনোভাব না ছাড়ে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তার অবস্থান আরো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে ভবিষ্যত যাই হোক, বর্তমানে শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে অনড় মেক্সিকো যে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন এক সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে তা বলাই বাহুল্য।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!