Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৯, ২০২৫

পাহাড়ে ফের সক্রিয় বিমল গুরুং! ছাব্বিশের ভোটের আগে মোর্চা ফিরে পাবে হারানো জমি?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পাহাড়ে ফের সক্রিয় বিমল গুরুং! ছাব্বিশের ভোটের আগে মোর্চা ফিরে পাবে হারানো জমি?

বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। অন্য জেলাগুলোর মতো দার্জিলিংয়েও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। আর এ আবহেই আবারও ময়দানে নামলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং। বিজেপির সঙ্গে জোটের ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গে বৈঠকও সেরেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে — দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর গুরুং কি আদৌ পাহাড়ে তাঁর পুরনো অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারবেন?

প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ পরিদর্শনে এসে মঙ্গলবার পাহাড়ে পা রাখেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। পরের দিন, বুধবার, রিজিজুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন বিমল গুরুং। বৈঠকে গুরুং তুলে ধরেন পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—পাহাড়ের জন্য স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান, ১১ জনজাতিকে তপশিলি জাতি হিসেবে স্বীকৃতি, ও উন্নয়নের অভাব। বৈঠক শেষে গুরুং জানান, ‘পাহাড়ের সমস্যা ও আমাদের ন্যায্য দাবি আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন।’ পাশাপাশি বিজেপির কাছে গুরুংয়ের অনুরোধ— দার্জিলিং-এর ৩ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে অন্তত একটি যেন মোর্চাকে দেওয়া হয়।

এক সময় যাঁর ডাকে দোকানপাট বন্ধ হতো, রাজপথ থমকে যেত, আজ সেই গুরুংই রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফেরানোর লড়াইয়ে। ২০০৯ ও ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপিকে পাহাড়ে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন গুরুংই। কিন্তু ২০১৭-র গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় ১০৪ দিনের বনধ এবং সে সময় এক পুলিশ অফিসারের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর জনপ্রিয়তায় চিড় ধরে। তারপর থেকেই কার্যত অন্তরালেই ছিলেন তিনি। ২০২১-এ ফিরে এলেও সেবার তিনি সমর্থন দেন তৃণমূলকে। পরে আবার বিজেপির দিকে ঝোঁকেন। তবে এতদিনে পাহাড়ের রাজনীতিতে ঘর পাল্টেছে অনেক। অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা ও অজয় এডওয়ার্ডের হামরো পার্টির উত্থান তাঁকে কোণঠাসা করে দেয়। মোর্চা জিটিএ নির্বাচনে প্রার্থী দিলেও, নিজে ভোটে দাঁড়াননি গুরুং। ২ মাস আগেই কলকাতায় এসে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন গুরুং ও মোর্চার মুখপাত্র রোশন গিরি। বুধবার দিল্লির মন্ত্রী রিজিজুর সঙ্গে বৈঠক তাঁর সক্রিয়তার দ্বিতীয় ধাপ। তারও আগে মোর্চার ১৮তম প্রতিষ্ঠা দিবসে দার্জিলিং চৌরাস্তায় সভা করেন গুরুং। সেখানে ছিলেন বিজেপির একাধিক নেতাও। গুরুং বলেন, ‘এত দিন সরাসরি নির্বাচনে যাইনি। এবার যাব। দুর্নীতি পাহাড়কে খেয়ে ফেলছে। মানুষ যদি সুযোগ দেয়, দেড় বছরের মধ্যে বদলে দেব পাহাড়ের চেহারা।’

বিমল গুরুংয়ের সক্রিয়তাকে স্বাগত জানিয়েছেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। তাঁর কথায়, ‘গুরুংজি আমার রাজনৈতিক গুরু। তিনি বিজেপির সঙ্গেই ছিলেন, আছেন, থাকবেন। তিনি যদি ভোটে দাঁড়াতে চান, আমরা স্বাগত জানাব। তবে সিদ্ধান্ত নেবে দল।’ অন্যদিকে, অনীত থাপার বিজিপিএম-এর নেতারা বিষয়টিকে দেখছেন কৌশলগত চাল হিসেবে। দলের মুখপাত্র এসপি শর্মা বলেছেন, ‘মোর্চার এখন পাহাড়ে কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। তাই গুরুং বিজেপি, জিএনএলএফ ও অজয় এডওয়ার্ডদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে চাইছেন। কিন্তু এতে কাজ হবে না। পাহাড়ের মানুষ এখন সচেতন।’ প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে দার্জিলিং ও কার্শিয়াং গিয়েছে বিজেপির হাতে, কালিম্পং অনীত থাপার দখলে। পাহাড়ে মোর্চা কার্যত এখন প্রান্তিক শক্তি। সে জায়গা থেকেই পুরনো জমি ফিরে পাওয়ার লড়াই শুরু করেছেন গুরুং। ভোট যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হবে, গুরুং নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না কিংবা বিজেপির সঙ্গে মোর্চা জোট বাঁধবে কি না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!